google.com, pub-3844643779687651, DIRECT, f08c47fec0942fa0
×

Rohit Sharma এক সাধারণ পরিবারের ছেলে থেকে ভারতের ‘হিটম্যান’

Rohit Sharma এক সাধারণ পরিবারের ছেলে থেকে ভারতের ‘হিটম্যান’

Spread the love

রোহিত শর্মা: এক সাধারণ পরিবারের ছেলে থেকে ভারতের ‘হিটম্যান’ — সংগ্রাম, অশ্রু, সাফল্য আর কিংবদন্তি হয়ে ওঠার অবিশ্বাস্য গল্প

OO9I4pI6vNllwVkaUxKzQY8oAdECky0YXKV44-vd8J2GRb8tOG47hfA-1uOHllWG1XlvzF1RBlEt5IJSYLRPszGdRv-UeSfcidwNcrh5FJeh21iJ1VYWdsVXJxsfpo04ByTxRGRl4NNaGsRyAjvIWaULbsWllIoc8KX-hFPdbSc2lPhw6kaZpws4_kO2F8_v?purpose=fullsize Rohit Sharma এক সাধারণ পরিবারের ছেলে থেকে ভারতের ‘হিটম্যান’

AKx9j2vHkqbghREcr1KOvDk3UwxVqn8TTaKSN8jvLXXrUUwDy17fMlm8qYZoNNNpxCfAUv2dW6gzG_PevQX8LLxshyqwr53Yrk-SzK48sJVXw_Xud8wCi4cJV883xhh2h5DCk8QZ4lZcq-2dF5B6bYyWRgWIMDbZlVYLzPDnmERILo5RPY9knUOZYiCf-URi?purpose=fullsize Rohit Sharma এক সাধারণ পরিবারের ছেলে থেকে ভারতের ‘হিটম্যান’

qhLwGLLMfZKbyjt1l5jVJxY41-Yhf2_RbZ80tqXL89K7ehZYwFn4rISQDZzlnISf8I5Nj1S2QlqWOeFCw3YgHX7IBs0Uvmr1Ok1l2lZ6vInSy2y4wl2Q7PWBiBfsZpdF5L4SRnnedLfgCaFLZddz2aJI-G2iBD0S0gVzKVdsqF34FziU21giJgSu41JiwfSE?purpose=fullsize Rohit Sharma এক সাধারণ পরিবারের ছেলে থেকে ভারতের ‘হিটম্যান’

DH0hhh7DTt2tSsWw_hgPJLJxoH7wFtvF5XSGVD8qgnnnDpHBj_y-DfhTIPtIfBv7CiJNumubAmaBBMlS17-Q74G1d4KuqBnyMcPoVYKNFDWkeJRkA4UxZiFPTt6WcZF33uVgeozmtyL4U89AN4lC2mPYrNPcmZ_vdHfXFXWCeH0Wwwss_28XFpw0OXls7NJY?purpose=fullsize Rohit Sharma এক সাধারণ পরিবারের ছেলে থেকে ভারতের ‘হিটম্যান’

Wyg5hzdZBpLJdHpNsaB_0PKABTuW1LbJNRefMEB3tXG-lD8S9Rf10OyejcYpY_vNha5JeafQxHMZJOAxbOTIA7rP_PzFvhXNK6Qpe_fb5GkOerIb5wb9JLYoaokZzkvzu-7xvA4vP81xFzLOTKoKsckEa1w_esmx8q024LJgjsRS39qF7RaaVJz4frOgWaPy?purpose=fullsize Rohit Sharma এক সাধারণ পরিবারের ছেলে থেকে ভারতের ‘হিটম্যান’

v8oN5tyQ8KlEbVwlj0ARL_aAMybmwr5HQB4hDH5bO60iMR35jk7EsrcadGZUPZUEmrQHx2X71OCeguElRz41DfBPf2AckpKrJOjrVgo1De-Zx7uVfNvJwaUxllNcPTeCRaYXjpwJqGJrKdbQGGI655BMrfkIjLYu13CTZFwRtIdqv11dsIiyIrZCN1AlIyIJ?purpose=fullsize Rohit Sharma এক সাধারণ পরিবারের ছেলে থেকে ভারতের ‘হিটম্যান’

স্পোর্টস ডেস্ক | বিশেষ প্রতিবেদন

ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে অনেক কিংবদন্তির জন্ম হয়েছে। কেউ এসেছেন রাজকীয় সূচনা নিয়ে, কেউ আবার কঠিন সংগ্রাম পেরিয়ে। কিন্তু এমন কিছু গল্প আছে যা শুধু ক্রিকেট নয়, জীবনেরও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকে। রোহিত শর্মার গল্প ঠিক তেমনই একটি গল্প।

আজ কোটি কোটি ভক্তের কাছে তিনি “হিটম্যান” নামে পরিচিত। তাঁর ব্যাট থেকে বেরিয়েছে অসংখ্য রেকর্ড, শতরান, দ্বিশতরান এবং বিশ্বকাপ জয়। কিন্তু একসময় এই মানুষটিই ছোট্ট একটি ঘরে বড় হয়েছেন, পরিবারের আর্থিক সংকট দেখেছেন এবং ক্রিকেট খেলার খরচ জোগাড় করতেও হিমশিম খেয়েছেন।


জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়

ভারতীয় ক্রিকেটার রোহিত গুরুনাথ শর্মার জন্ম ১৯৮৭ সালের ৩০ এপ্রিল ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুরের বানসোড এলাকায়। তাঁর বাবা গুরুনাথ শর্মা একটি পরিবহন সংস্থার গুদামে কেয়ারটেকারের কাজ করতেন। মা পূর্ণিমা শর্মা অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমের বাসিন্দা ছিলেন। Rohit Sharma

পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। এতটাই সীমিত ছিল আয় যে ছোটবেলায় রোহিতকে তাঁর দাদা-দাদির কাছে বড় হতে হয়েছিল। মুম্বাইয়ের বোরিভালিতে দাদা-দাদির কাছে থাকতেন তিনি এবং সপ্তাহান্তে বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে যেতেন।

একটি ছোট ঘরে বসবাস করা পরিবারটির কাছে ক্রিকেট ছিল বিলাসিতা। কিন্তু ছোট্ট রোহিতের স্বপ্ন ছিল আকাশছোঁয়া।


শৈশব: যেখানে শুরু হয় স্বপ্নের পথচলা

শৈশবে রোহিত ছিলেন খুবই শান্ত স্বভাবের। বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করলেও তাঁর সবচেয়ে বড় ভালোবাসা ছিল ক্রিকেট।

পাড়ার মাঠে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যাট-বল নিয়ে পড়ে থাকতেন। তখন কেউ ভাবেনি যে এই ছেলেটিই একদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সবচেয়ে ভয়ংকর ওপেনারদের একজন হবেন।

তাঁর পরিবার ক্রিকেটের খরচ বহন করতে পারছিল না। কিন্তু ভাগ্য যেন তাঁকে ক্রিকেটের জন্যই তৈরি করেছিল।

১৯৯৯ সালে তাঁর এক কাকার সহায়তায় তিনি একটি ক্রিকেট ক্যাম্পে ভর্তি হন। সেখানেই প্রথম তাঁর প্রতিভা নজরে আসে কোচ দীনেশ লাডের।


শিক্ষাজীবন

রোহিত প্রথমে স্থানীয় স্কুলে পড়াশোনা করতেন। পরে কোচ দীনেশ লাড তাঁর প্রতিভা দেখে তাঁকে মুম্বাইয়ের স্বামী বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন।

সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, রোহিতের পরিবারের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁকে বৃত্তি দেয়। ফলে চার বছর পর্যন্ত তাঁকে কোনো ফি দিতে হয়নি।

এই স্কুলই পরে ভারতীয় ক্রিকেটের বহু তারকা তৈরি করেছে।

রোহিতের উচ্চশিক্ষা ক্রিকেটের কারণে পূর্ণাঙ্গভাবে এগোয়নি। কারণ কৈশোরেই তিনি ক্রিকেটকে পেশা হিসেবে বেছে নেন এবং সম্পূর্ণ মনোযোগ দেন মাঠে।


কোচ দীনেশ লাড: যে মানুষটি বদলে দিয়েছিলেন রোহিতের জীবন

অনেকেই জানেন না, শুরুতে রোহিত শর্মাকে ব্যাটসম্যান হিসেবে নয়, একজন অফ-স্পিনার হিসেবে দেখা হতো।

কোচ দীনেশ লাড প্রথমে তাঁর বোলিং দেখেই মুগ্ধ হয়েছিলেন। পরে একদিন তিনি বুঝতে পারেন, ছেলেটির আসল প্রতিভা ব্যাট হাতে।

সেখান থেকেই রোহিতকে ওপেনিংয়ে পাঠানো শুরু হয়। আর ইতিহাস সৃষ্টি হতে শুরু করে।


স্কুল ক্রিকেটে বিস্ফোরণ

স্কুল ক্রিকেটে সুযোগ পাওয়ার পর রোহিত দ্রুত নজর কাড়েন।

হ্যারিস শিল্ড ও গাইলস শিল্ড টুর্নামেন্টে একের পর এক বড় ইনিংস খেলতে থাকেন।

ওপেনার হিসেবে প্রথম ম্যাচেই শতরান করে সবাইকে চমকে দেন। কোচরা বুঝে যান, ভারতীয় ক্রিকেট একটি বড় প্রতিভা পেয়ে গেছে।


ঘরোয়া ক্রিকেটে উত্থান

মুম্বাই ক্রিকেটে সুযোগ পাওয়ার পর রোহিতের ব্যাট আরও ধারালো হয়ে ওঠে।

২০০৬ সালে ওয়েস্ট জোনের হয়ে দিওধর ট্রফিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন।

এরপর ভারত ‘এ’ দলে ডাক পান এবং নিউজিল্যান্ড ‘এ’-এর বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ রান করেন।

এই পারফরম্যান্সই তাঁর জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দরজা খুলে দেয়।


আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক

২০০৭ সালে ভারতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে রোহিত শর্মার।

সেই সময় ভারতীয় দলে জায়গা পাওয়া সহজ ছিল না।

দলে ছিলেন সচিন টেন্ডুলকার, সৌরভ গাঙ্গুলি, রাহুল দ্রাবিড়, যুবরাজ সিং, মহেন্দ্র সিং ধোনির মতো তারকারা।

কিন্তু তরুণ রোহিত ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করতে শুরু করেন।

২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে তাঁর অপরাজিত ইনিংস ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ জয় এনে দেয়


ব্যর্থতা, সমালোচনা এবং প্রত্যাবর্তন

রোহিতের ক্যারিয়ার সবসময় মসৃণ ছিল না।

দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে ‘প্রতিভাবান কিন্তু ধারাবাহিক নন’ বলে সমালোচনা করা হয়েছে।

অনেকেই মনে করেছিলেন তিনি হয়তো আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সফল হতে পারবেন না।

কিন্তু এখানেই রোহিত অন্যদের থেকে আলাদা।

তিনি হার মানেননি।

নিয়মিত পরিশ্রম করে নিজের ব্যাটিংয়ে পরিবর্তন আনেন।

আর সেই পরিবর্তনই তাঁকে কিংবদন্তি বানায়।


ওপেনার হিসেবে নতুন জন্ম

২০১৩ সালে তাঁকে ওডিআই ক্রিকেটে ওপেনিং করার সুযোগ দেওয়া হয়।

সেখান থেকেই বদলে যায় সবকিছু।

মধ্যক্রমের অনিশ্চিত ব্যাটসম্যান থেকে তিনি হয়ে ওঠেন বিশ্বের সবচেয়ে বিধ্বংসী ওপেনারদের একজন।

বড় ইনিংস খেলার অসাধারণ ক্ষমতা তাঁকে আলাদা পরিচয় দেয়।


‘হিটম্যান’ নামের জন্ম

রোহিত শর্মার ব্যাটিংয়ে এক অদ্ভুত সৌন্দর্য আছে।

তিনি শুরুতে ধৈর্য ধরে খেলেন।

তারপর ধীরে ধীরে বোলারদের ওপর ঝড় তোলেন।

বিশাল ছক্কা, দুর্দান্ত পুল শট এবং অসাধারণ টাইমিংয়ের কারণে ভক্তরা তাঁকে “হিটম্যান” নাম দেন।


রেকর্ডের পর রেকর্ড

রোহিত শর্মার নামের পাশে রয়েছে অসংখ্য রেকর্ড।

উল্লেখযোগ্য রেকর্ড

  • ওডিআই ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর: ২৬৪ রান
  • একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে ৩টি ওডিআই ডাবল সেঞ্চুরি
  • আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বাধিক ছক্কার অন্যতম মালিক
  • বিশ্বকাপে সর্বাধিক সেঞ্চুরির রেকর্ডধারীদের একজন
  • ভারতের সফলতম অধিনায়কদের একজন

আইপিএলের সম্রাট

রোহিত শর্মার অধিনায়কত্বে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স পাঁচবার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

২০১৩, ২০১৫, ২০১৭, ২০১৯ এবং ২০২০ সালে দলকে শিরোপা জিতিয়েছেন তিনি।

এই সাফল্য তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সেরা টি-টোয়েন্টি অধিনায়কে পরিণত করে


ভারতীয় দলের অধিনায়ক

মহেন্দ্র সিং ধোনি এবং বিরাট কোহলির পর ভারতীয় ক্রিকেটে নেতৃত্বের ভার এসে পড়ে রোহিতের কাঁধে।

অনেকেই সন্দেহ করেছিলেন তিনি পারবেন কি না।

কিন্তু তিনি প্রমাণ করেন, শান্ত মস্তিষ্ক এবং কৌশলী নেতৃত্ব দিয়ে বড় সাফল্য অর্জন করা যায়।

তাঁর নেতৃত্বে ভারত ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতে।


পারিবারিক জীবন

রোহিত শর্মা ২০১৫ সালে রিতিকা সাজদেহকে বিয়ে করেন।

তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

পরিবারকে সবসময় নিজের শক্তির উৎস বলে মনে করেন রোহিত।


পুরস্কার ও সম্মাননা

রোহিত শর্মা তাঁর ক্যারিয়ারে বহু সম্মান পেয়েছেন।

  • অর্জুন পুরস্কার (২০১৫)
  • মেজর ধ্যানচাঁদ খেলরত্ন (২০২০)
  • আইসিসি ওডিআই ক্রিকেটার অব দ্য ইয়ার
  • পদ্মশ্রী সম্মান (২০২৬)

আজকের রোহিত: এক জীবন্ত কিংবদন্তিRohit Sharma

আজ ৩৮ বছর বয়সেও রোহিত শর্মা ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম বড় নাম। সাম্প্রতিক সময়েও তিনি নতুন মাইলফলক গড়েছেন এবং তরুণ ক্রিকেটারদের অনুপ্রেরণা হয়ে রয়েছেন।


: যে গল্প প্রতিটি স্বপ্নবাজ মানুষের জন্য

রোহিত শর্মার গল্প শুধু ক্রিকেটের গল্প নয়।

এটি এক দরিদ্র পরিবারের ছেলের গল্প।

এটি বিশ্বাসের গল্প।

এটি সংগ্রামের গল্প।

এটি প্রমাণ করে, প্রতিভার সঙ্গে যদি কঠোর পরিশ্রম এবং ধৈর্য যোগ হয়, তাহলে অসম্ভবও সম্ভব হয়ে যায়।

নাগপুরের এক সাধারণ শিশু থেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান—রোহিত শর্মার এই যাত্রা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে চিরকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

“স্বপ্ন দেখো, লড়াই করো, আর কখনও হার মানো না”—  Rohit Sharma জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা যেন এটাই। 🏏✨

Post Comment

You May Have Missed