Site icon news100k

Amir khan

Spread the love

Amir khan

ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের ইতিহাসে এমন কিছু অভিনেতার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, যাঁরা শুধুমাত্র অভিনয় করেননি, বরং পুরো চলচ্চিত্র শিল্পকে নতুন দিশা দেখিয়েছেন। সেই তালিকায় অন্যতম উজ্জ্বল নাম Aamir Khan। তাঁকে কেউ বলেন “মিস্টার পারফেকশনিস্ট”, কেউ বলেন বলিউডের সবচেয়ে চিন্তাশীল অভিনেতা। কিন্তু এই অসাধারণ সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রাম, পারিবারিক চাপ, মানসিক লড়াই এবং এক অসম্ভব জেদ।

আজকের এই বিশেষ ব্লগে আমরা জানবো আমির খানের জন্ম থেকে শুরু করে তাঁর শৈশব, শিক্ষা, পরিবার, অভিনয়ে প্রবেশ, নাটকের প্রতি ভালোবাসা, জীবনের নানা উত্থান-পতন এবং সুপারস্টার হয়ে ওঠার পুরো গল্প।


জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়

আমির খানের পুরো নাম মোহাম্মদ আমির হুসেন খান। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৪ মার্চ ১৯৬৫ সালে ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের মুম্বই শহরে। যদিও তাঁদের পারিবারিক শিকড় উত্তরপ্রদেশের হারদোই অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তাঁর পরিবার বহুদিন ধরেই ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।

তাঁর বাবা তাহির হুসেন ছিলেন একজন চলচ্চিত্র প্রযোজক এবং মা জিনাত হুসেন ছিলেন গৃহিণী। পরিবারের পরিবেশ ছিল সংস্কৃতিমনস্ক এবং চলচ্চিত্রঘেঁষা। ছোটবেলা থেকেই আমির সিনেমার সেট, ক্যামেরা এবং অভিনয় জগতের নানা বিষয় খুব কাছ থেকে দেখেছেন।

তবে তাঁর শৈশব মোটেও খুব বিলাসবহুল ছিল না। এক সময় তাঁর বাবার প্রযোজিত কয়েকটি সিনেমা ব্যর্থ হওয়ায় পরিবারকে আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হতে হয়। ছোট্ট আমির সেই সময় দেখেছেন কিভাবে ঋণদাতারা বাড়িতে এসে টাকার জন্য চাপ দিতেন। এই অভিজ্ঞতা তাঁর মনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।


শৈশব ও প্রাথমিক শিক্ষা

আমির খান ছোটবেলায় খুব শান্ত স্বভাবের ছিলেন। তিনি পড়াশোনায় মোটামুটি ভালো হলেও সবসময় বইয়ের মধ্যে ডুবে থাকতেন না। বরং খেলাধুলা ও সৃজনশীল কাজে তাঁর আগ্রহ ছিল বেশি।

তিনি মুম্বইয়ের বিভিন্ন স্কুলে পড়াশোনা করেছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো J.B. Petit School এবং পরে Bombay Scottish School। এরপর তিনি নার্সি মনজি কলেজে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে পড়াশোনা করেন।

ছোটবেলা থেকেই তিনি টেনিস খেলায় দারুণ পারদর্শী ছিলেন। এমনকি রাজ্যস্তরেও টেনিস প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। অনেকেই ভাবতেন, ভবিষ্যতে হয়তো তিনি একজন পেশাদার টেনিস খেলোয়াড় হবেন। কিন্তু ভাগ্য তাঁকে নিয়ে যায় অভিনয়ের জগতে।


সিনেমার প্রতি প্রথম আকর্ষণ

আমির খানের অভিনয়ের যাত্রা শুরু হয় খুব অল্প বয়সে। মাত্র আট বছর বয়সে তিনি তাঁর কাকা নাসির হুসেনের সিনেমা Yaadon Ki Baaraat-এ ছোট্ট একটি চরিত্রে অভিনয় করেন। সেই মুহূর্ত থেকেই ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর অনুভূতি তাঁকে মুগ্ধ করে।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, তাঁর বাবা চাইতেন না তিনি অভিনয় জগতে আসুন। কারণ চলচ্চিত্র শিল্পের অনিশ্চয়তা এবং আর্থিক ঝুঁকি তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন।

তবুও আমিরের মনে অভিনয়ের আগুন ধীরে ধীরে জ্বলতে থাকে।


নাটকের প্রতি ভালোবাসা এবং কেন তিনি ড্রামায় যোগ দেন

কৈশোরে আমির খান অনুভব করেন যে সাধারণ জীবন তাঁর জন্য নয়। তিনি মানুষের আবেগ বুঝতে ভালোবাসতেন। নাটকের মাধ্যমে মানুষের হাসি, কান্না, প্রেম, রাগ—সবকিছু প্রকাশ করার মধ্যে তিনি এক অদ্ভুত আনন্দ খুঁজে পান।

এই কারণেই তিনি থিয়েটার এবং ড্রামার দিকে ঝুঁকে পড়েন। বন্ধুদের সঙ্গে মিলে তিনি “আভান্তর” নামে একটি থিয়েটার গ্রুপে যোগ দেন। সেখানে তিনি অভিনয় শেখেন, মঞ্চে কাজ করেন এবং মানুষের সামনে নিজেকে উপস্থাপন করার কৌশল আয়ত্ত করেন।

নাটকে যোগ দেওয়ার পেছনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল তাঁর আত্মবিশ্বাসের অভাব দূর করা। ছোটবেলায় তিনি খুব বেশি মিশুক ছিলেন না। কিন্তু মঞ্চ তাঁকে বদলে দেয়। ধীরে ধীরে তিনি বুঝতে পারেন, অভিনয়ই তাঁর জীবনের আসল লক্ষ্য।


সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ

সরাসরি নায়ক হওয়ার সুযোগ পাননি আমির খান। অভিনয়ে আসার আগে তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণের খুঁটিনাটি শেখার জন্য সহকারী পরিচালক হিসেবেও কাজ করেন।

তিনি তাঁর কাকা নাসির হুসেনের সঙ্গে বিভিন্ন ছবিতে কাজ করেছিলেন। ক্যামেরার পেছনের কাজ তাঁকে সিনেমাকে গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করে। এখান থেকেই তিনি শিখেছিলেন—একটি ভালো সিনেমা শুধু নায়কের ওপর নির্ভর করে না; গল্প, পরিচালনা, সংগীত, ক্যামেরা—সবকিছুর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তৈরি হয় একটি সফল চলচ্চিত্র।


‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’ এবং রাতারাতি তারকা হয়ে ওঠা

১৯৮৮ সালে মুক্তি পায় Qayamat Se Qayamat Tak। এই সিনেমাই বদলে দেয় আমির খানের জীবন। ছবিতে তাঁর বিপরীতে ছিলেন Juhi Chawla।

রোমান্টিক গল্প, অসাধারণ গান এবং আমিরের নিষ্পাপ অভিনয় দর্শকদের হৃদয় জয় করে নেয়। রাতারাতি তিনি হয়ে ওঠেন তরুণ প্রজন্মের হার্টথ্রব।

এই ছবির পর আর তাঁকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।


ব্যতিক্রমী সিনেমা বেছে নেওয়ার সাহস

অনেক অভিনেতা জনপ্রিয়তার জন্য একই ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেন। কিন্তু আমির খান সবসময় চেয়েছেন ভিন্ন কিছু করতে।

তিনি এমন সিনেমা বেছে নিয়েছেন যা সমাজকে ভাবতে শেখায়। যেমন—

প্রতিটি সিনেমায় তিনি নতুনভাবে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন।


‘লগান’ : বিশ্বমঞ্চে ভারতের গর্ব

২০০১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত Lagaan শুধু একটি সিনেমা ছিল না; এটি ছিল ভারতীয় চলচ্চিত্রের গর্ব।

গ্রামের সাধারণ মানুষের ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের গল্প দর্শকদের আবেগপ্রবণ করে তোলে। ছবিটি অস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিল। আন্তর্জাতিক স্তরে আমির খানের পরিচিতি আরও বাড়িয়ে দেয় এই সিনেমা।


‘তারে জমিন পার’ : এক আবেগঘন বিপ্লব

অনেকেই মনে করেন, একজন অভিনেতা হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবেও আমির খানের শ্রেষ্ঠ পরিচয় ফুটে উঠেছে Taare Zameen Par সিনেমায়।

ডিসলেক্সিয়ায় আক্রান্ত এক শিশুর গল্প নিয়ে তৈরি এই সিনেমা অসংখ্য পরিবারকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়। সমাজে শিশুদের মানসিক চাপ ও শিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।


ব্যক্তিগত জীবন ও সম্পর্ক

আমির খানের ব্যক্তিগত জীবনও সবসময় আলোচনায় থেকেছে। তিনি প্রথমে রীনা দত্তকে বিয়ে করেন। তাঁদের দুটি সন্তান রয়েছে। পরে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়।

এরপর তিনি চলচ্চিত্র নির্মাতা কিরণ রাওকে বিয়ে করেন। তাঁদের সম্পর্কও দীর্ঘদিন সংবাদ শিরোনামে ছিল। যদিও পরবর্তীকালে তাঁরাও আলাদা হয়ে যান, তবুও পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখেছেন।


নিখুঁত কাজের প্রতি অদ্ভুত আবেগ

আমির খানকে “মিস্টার পারফেকশনিস্ট” বলা হয় একটি বিশেষ কারণে। তিনি প্রতিটি চরিত্রের জন্য নিজেকে সম্পূর্ণ বদলে ফেলেন।

Dangal সিনেমার জন্য তিনি প্রচুর ওজন বাড়িয়েছিলেন। আবার একই ছবির তরুণ চরিত্রের জন্য কঠোর পরিশ্রম করে দ্রুত ওজন কমিয়েছিলেন।

তাঁর এই নিষ্ঠা আজকের প্রজন্মের অভিনেতাদের অনুপ্রেরণা দেয়।


সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা

শুধু সিনেমা নয়, সমাজ নিয়েও তিনি সবসময় সচেতন। তাঁর টেলিভিশন শো Satyamev Jayate ভারতের নানা সামাজিক সমস্যা নিয়ে মানুষকে ভাবতে বাধ্য করেছিল।

নারী নির্যাতন, শিশু নির্যাতন, দুর্নীতি, স্বাস্থ্য সমস্যা—বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি খোলামেলা আলোচনা করেন।


ব্যর্থতা, সমালোচনা এবং মানসিক লড়াই

প্রতিটি সফল মানুষের জীবনেই ব্যর্থতা আসে। আমির খানও তার ব্যতিক্রম নন।

কিছু সিনেমা বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়েছে। কখনও কখনও তাঁর মন্তব্য নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। কিন্তু তিনি কখনও সহজে হার মানেননি।

তিনি সবসময় নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছেন এবং নতুনভাবে ফিরে এসেছেন।


কেন আজও তিনি আলাদা?

আজকের দিনে বহু তারকা এলেও আমির খান আলাদা কারণ—

তাঁর প্রতিটি সিনেমা দর্শকদের মনে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে।


Aamir Khan – বলিউডের মিস্টার পারফেকশনিস্টের সম্পূর্ণ ফিল্মি যাত্রা

 


১৯৭০-এর দশক : শিশুশিল্পী হিসেবে শুরু

১৯৭৩ – Yaadon Ki Baaraat

এটাই ছিল আমির খানের প্রথম চলচ্চিত্র। খুব ছোট চরিত্র হলেও এই ছবির মাধ্যমেই তাঁর অভিনয় জীবনের সূচনা।


১৯৭৪ – Madhosh

শিশুশিল্পী হিসেবে আরও একটি ছোট চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।


১৯৮০-এর দশক : নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ

১৯৮৪ – Holi

এই ছবিতে কলেজ ছাত্রের চরিত্রে অভিনয় করে নজর কাড়েন।


১৯৮৮ – Qayamat Se Qayamat Tak

এটাই আমির খানের প্রথম সুপারহিট সিনেমা। এই ছবির পর তিনি রাতারাতি তারকা হয়ে ওঠেন।


১৯৮৯ – Raakh

একটি গম্ভীর ও বাস্তবধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে সমালোচকদের প্রশংসা পান।


১৯৯০-এর দশক : রোমান্টিক হিরো থেকে সুপারস্টার

১৯৯০ – Dil

মাধুরী দীক্ষিতের সঙ্গে এই সিনেমা বিশাল হিট হয়েছিল।


১৯৯১ – Dil Hai Ki Manta Nahin

রোমান্টিক ও কমেডি মিশ্রিত এই ছবি দর্শকদের মন জয় করে।


১৯৯২ – Jo Jeeta Wohi Sikandar

আজও এটি ভারতের অন্যতম সেরা স্পোর্টস-ড্রামা সিনেমা হিসেবে পরিচিত।


১৯৯৩ – Hum Hain Rahi Pyar Ke

এই সিনেমার গল্প লেখাতেও আমির যুক্ত ছিলেন।


১৯৯৪ – Andaz Apna Apna

Salman Khan-এর সঙ্গে এই কাল্ট কমেডি আজও দর্শকদের কাছে জনপ্রিয়।


১৯৯৫ – Rangeela

এখানে তাঁর টাপোরি চরিত্রটি দর্শকদের দারুণ পছন্দ হয়েছিল।


১৯৯৬ – Raja Hindustani

এই সিনেমা বক্স অফিসে বিশাল সাফল্য পায়।


১৯৯৭ – Ishq

মজাদার কমেডি ও রোমান্সে ভরা এই ছবি খুব জনপ্রিয় হয়েছিল।


১৯৯৮ – Ghulam

এই ছবির “আতি কেয়া খণ্ডালা” গানটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়।


১৯৯৯ – Sarfarosh

দেশপ্রেম ও অ্যাকশনে ভরা এই সিনেমা সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিল।


২০০০-এর দশক : পরীক্ষামূলক ও সমাজসচেতন সিনেমা

২০০১ – Lagaan

অস্কারে মনোনীত হওয়া এই সিনেমা ভারতীয় চলচ্চিত্রের গর্ব।


২০০১ – Dil Chahta Hai

বন্ধুত্ব নিয়ে তৈরি এই ছবি তরুণ প্রজন্মের কাছে কাল্ট ক্লাসিক।


২০০৫ – Mangal Pandey: The Rising

ঐতিহাসিক চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি লম্বা চুল ও গোঁফ রেখেছিলেন।


২০০৬ – Rang De Basanti

যুব সমাজকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছিল এই সিনেমা।


২০০৭ – Taare Zameen Par

এই ছবির মাধ্যমে পরিচালক হিসেবেও সাফল্য পান আমির।


২০০৮ – Ghajini

বলিউডে ১০০ কোটির ব্যবসা করা প্রথম ছবিগুলোর একটি।


২০০৯ – 3 Idiots

ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে প্রশ্ন তুলেছিল এই সিনেমা।


২০১০-এর দশক : রেকর্ড ভাঙার যুগ

২০১১ – Dhobi Ghat

একটি আর্ট ফিল্মধর্মী সিনেমা।


২০১২ – Talaash

সাসপেন্স ও আবেগের মিশেলে তৈরি এই সিনেমা প্রশংসিত হয়।


২০১৩ – Dhoom 3

অ্যাকশন ও স্টান্টে ভরা এই সিনেমা বক্স অফিস কাঁপিয়ে দেয়।


২০১৪ – PK

ধর্ম ও সমাজ নিয়ে ব্যতিক্রমী গল্পের জন্য ছবিটি আলোচনায় আসে।


২০১৬ – Dangal

ভারতের অন্যতম সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমা।


২০১৮ – Thugs of Hindostan

বড় বাজেটের এই সিনেমা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।


২০২০-এর দশক

২০২২ – Laal Singh Chaddha

হলিউডের Forrest Gump অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমা আবেগঘন গল্পের জন্য পরিচিত।


আমির খানের চলচ্চিত্র জীবনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য

Aamir Khan এর সর্বকালের সুপারহিট গান – প্রেম, আবেগ ও স্মৃতির সুরেলা যাত্রা

বলিউডের ইতিহাসে এমন কিছু অভিনেতা রয়েছেন যাঁদের সিনেমার পাশাপাশি গানও মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকে। Aamir Khan সেই বিরল অভিনেতাদের একজন। তাঁর সিনেমার গান মানেই আবেগ, প্রেম, বন্ধুত্ব, অনুপ্রেরণা আর জীবনের নানা রঙের এক অসাধারণ মিশ্রণ।

৯০-এর দশকের রোমান্টিক গান থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের অনুপ্রেরণামূলক ট্র্যাক—আমির খানের প্রতিটি জনপ্রিয় গান আজও কোটি মানুষের প্লেলিস্টে জায়গা করে আছে।

এই বিশেষ ব্লগে তুলে ধরা হলো আমির খানের সব জনপ্রিয় ও হিট গান, গানগুলোর বিশেষত্ব এবং ছবির মাধ্যমে তাদের স্মরণীয় মুহূর্ত।


১. Papa Kehte Hain – Qayamat Se Qayamat Tak (১৯৮৮)

এই গানটি আমির খানের ক্যারিয়ারের অন্যতম আইকনিক গান। কলেজ জীবনের স্বপ্ন, ভবিষ্যতের আশা আর তরুণ মনের আবেগকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছিল এই গান।

“পাপা কহতে হ্যায় বড়া নাম করবে”—এই লাইন আজও তরুণদের অনুপ্রাণিত করে।


২. Gazab Ka Hai Din – Qayamat Se Qayamat Tak

আমির খান ও Juhi Chawla-এর রসায়ন এই গানকে চিরসবুজ করে তুলেছে।


৩. Akele Hain To Kya Gham Hai – Qayamat Se Qayamat Tak

ভালোবাসার স্বাধীনতা এবং দুজন মানুষের স্বপ্নকে কেন্দ্র করে তৈরি এই গানটি ৮০-এর দশকের অন্যতম জনপ্রিয় প্রেমের গান।


৪. Mujhe Neend Na Aaye – Dil (১৯৯০)

Madhuri Dixit ও আমির খানের এই রোমান্টিক গানটি নব্বইয়ের দশকে প্রেমের প্রতীক হয়ে উঠেছিল।


৫. O Priya Priya – Dil

দূরত্ব ও ভালোবাসার আবেগে ভরা এই গানটি শ্রোতাদের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলেছিল।


৬. Dil Hai Ki Manta Nahin – Dil Hai Ki Manta Nahin (১৯৯১)

এই টাইটেল ট্র্যাকটি প্রেমের অনুভূতিকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।


৭. Pehla Nasha – Jo Jeeta Wohi Sikandar (১৯৯২)

বলিউড ইতিহাসের অন্যতম সেরা রোমান্টিক গান। প্রথম প্রেমের অনুভূতিকে এত সুন্দরভাবে খুব কম গানই তুলে ধরতে পেরেছে।


৮. Yahan Ke Hum Sikandar – Jo Jeeta Wohi Sikandar

বন্ধুত্ব ও তারুণ্যের এক দুর্দান্ত উদযাপন।


৯. Ghunghat Ki Aad Se – Hum Hain Rahi Pyar Ke (১৯৯৩)

এই গানটি গ্রামীণ আবহ ও রোমান্টিকতার জন্য ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল।


১০. Yeh Raat Aur Yeh Doori – Andaz Apna Apna (১৯৯৪)

Salman Khan ও আমির খানের মজাদার উপস্থিতি এই গানকে বিশেষ জনপ্রিয় করে তোলে।


১১. Tanha Tanha – Rangeela (১৯৯৫)

Urmila Matondkar-এর সঙ্গে এই গানটি নব্বইয়ের দশকে বিশাল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।


১২. Aaye Ho Meri Zindagi Mein – Raja Hindustani (১৯৯৬)

এই গানটি আজও বিবাহ অনুষ্ঠান ও প্রেমের মুহূর্তে শোনা যায়।


১৩. Pardesi Pardesi – Raja Hindustani

বিরহের আবেগে ভরা এই গান কোটি মানুষের চোখে জল এনে দিয়েছিল।


১৪. Aati Kya Khandala – Ghulam (১৯৯৮)

এই গানটি যুবসমাজের মধ্যে এক বিশাল ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছিল।


১৫. Mitwa – Lagaan (২০০১)

গ্রামের মানুষের ঐক্য ও সাহসের প্রতীক এই গান।


১৬. Radha Kaise Na Jale – Lagaan

লোকসংগীতের আবহে তৈরি এই গানটি অসাধারণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।


১৭. Koi Kahe Kehta Rahe – Dil Chahta Hai (২০০১)

বন্ধুত্ব, স্বাধীনতা ও আধুনিক জীবনের এক নতুন রূপ তুলে ধরেছিল এই গান।


১৮. Roobaroo – Rang De Basanti (২০০৬)

এই গান তরুণদের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে ওঠে।


১৯. Maa – Taare Zameen Par (২০০৭)

মা ও সন্তানের সম্পর্ক নিয়ে তৈরি বলিউডের অন্যতম আবেগঘন গান।


২০. Behka – Ghajini (২০০৮)

রোমান্টিক ও আধুনিক সুরের এই গানটি দর্শকদের মন জয় করে।


২১. All Is Well – 3 Idiots (২০০৯)

এই গান শুধু বিনোদন নয়, জীবনের কঠিন সময়ে ইতিবাচক থাকার বার্তা দেয়।


২২. Give Me Some Sunshine – 3 Idiots

ছাত্রজীবনের চাপ ও স্বপ্নের লড়াইকে তুলে ধরেছিল এই গান।


২৩. Malang – Dhoom 3 (২০১৩)

বড় মাপের স্টেজ পারফরম্যান্স ও চমৎকার ভিজ্যুয়ালের জন্য এই গানটি বিখ্যাত।


২৪. Love Is a Waste of Time – PK (২০১৪)

হালকা মজার রোমান্টিক গান হিসেবে এটি দর্শকদের মন জয় করেছিল।


২৫. Dhaakad – Dangal (২০১৬)

নারী শক্তি ও সংগ্রামের প্রতীক হয়ে উঠেছিল এই গান।


Aamir Khan-এর গান মানেই শুধু সুর নয়, এক একটি স্মৃতি। তাঁর সিনেমার গানগুলো ভারতীয় দর্শকদের প্রেম, বন্ধুত্ব, পরিবার, সংগ্রাম ও স্বপ্নের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।

আজও তাঁর গান শুনলে নব্বইয়ের সেই সোনালি সময়, কলেজ জীবনের স্মৃতি কিংবা জীবনের নানা আবেগ চোখের সামনে ভেসে ওঠে। বলিউডের ইতিহাসে আমির খানের গান চিরকাল বিশেষ জায়গা দখল করে থাকবে।

Exit mobile version