Bangladesh vs sri lanka
বাংলাদেশকে ৪ উইকেটে হারিয়ে মহিলা এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কা, নায়ক হার্শিথা
দুবাই, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬: মহিলা এশিয়া কাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নাটকীয় জয় তুলে নিল শ্রীলঙ্কা। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১১৪ রান সংগ্রহ করে। জবাবে শুরুতেই একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়লেও হার্শিথা সামারাবিক্রমার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত ১৯.২ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১১৫ রান করে ম্যাচ জিতে নেয় শ্রীলঙ্কা। চার উইকেটের এই জয়ের ফলে মহিলা এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে শ্রীলঙ্কা। (Cricbuzz)
প্রথমে ব্যাট করে ১১৪ রান বাংলাদেশের
টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় শ্রীলঙ্কা। ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা মোটামুটি ভালো হলেও বড় ইনিংস গড়ে তুলতে পারেনি দল। দিলারা আক্তার ২৬ বলে ২৬ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল চারটি বাউন্ডারি। জুয়ারিয়া ফেরদৌস ১০ বলে ১৪ রান করে শুরুতে স্কোরবোর্ডে গতি আনেন। তবে তাঁদের উইকেট পড়ার পর বাংলাদেশের রান তোলার গতি কিছুটা কমে যায়। (মানি কন্ট্রোল)
তিন নম্বরে নেমে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন সোবহানা মোস্তারি। তিনি ৪১ বলে ৩৪ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল চারটি চার। একপ্রান্ত ধরে রাখলেও শেষদিকে বাংলাদেশের ব্যাটাররা দ্রুত রান তুলতে পারেননি। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি মাত্র ৪ রান করে ফিরে যান। ফলে বড় স্কোরের আশা কিছুটা ধাক্কা খায়। (NDTV Sports)
শেষদিকে ফাহিমা খাতুন ১৩ বলে ১৪ রান করে কিছুটা গতি আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু নির্ধারিত ২০ ওভারে বাংলাদেশ ৮ উইকেট হারিয়ে ১১৪ রানেই থেমে যায়। বাংলাদেশের ইনিংসে বড় রান না থাকলেও বোলারদের সামনে জয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছিল, কারণ দুবাইয়ের মাঠে ১১৫ রানের লক্ষ্য খুব সহজ ছিল না। (মানি কন্ট্রোল)
শুরুতেই শ্রীলঙ্কাকে চাপে ফেলে বাংলাদেশ
১১৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কার শুরুটা একেবারেই ভালো হয়নি। প্রথম ওভারেই অধিনায়ক চামারি আতাপাত্থুকে মাত্র ১ রানে আউট করে বাংলাদেশকে বড় সাফল্য এনে দেন মারুফা আক্তার। এরপরও বাংলাদেশের বোলাররা চাপ ধরে রাখেন। শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপ একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে।
একপর্যায়ে মাত্র ৪৪ রানের মধ্যেই শ্রীলঙ্কার পাঁচটি উইকেট পড়ে যায়। সেই সময় ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে হচ্ছিল। বাংলাদেশের বোলাররা নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন এবং ফিল্ডাররাও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ভালো ভূমিকা পালন করেন। (The Daily Star)
মারুফা আক্তার বিশেষভাবে নজর কাড়েন। তিনি শ্রীলঙ্কার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচকে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। তাঁর বোলিং পরিসংখ্যানও ছিল প্রশংসনীয়—৩ উইকেটের বিনিময়ে ২১ রান। (The Daily Star)
একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন হার্শিথা
শ্রীলঙ্কা যখন ৪৪/৫ অবস্থায় চাপে, তখন দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে এগিয়ে আসেন হার্শিথা সামারাবিক্রমা। পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে তিনি শুরুতে ঝুঁকি না নিয়ে পরিস্থিতি বুঝে ব্যাট করতে থাকেন।
হার্শিথার সঙ্গে নিলাক্ষিকা সিলভা গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। তাঁদের ব্যাটিংয়ে ধীরে ধীরে ম্যাচের পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। নিলাক্ষিকা ২৩ বলে ১৮ রান করে আউট হলেও হার্শিথা ক্রিজে টিকে থাকেন। এরপর শেষ কয়েক ওভারে তিনি আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন। (The Daily Star)
বিশেষ করে ১৮তম ওভারে হার্শিথার ব্যাট থেকে আসে একটি চার ও একটি ছয়। সেই ওভারেই ম্যাচের সমীকরণ অনেকটাই শ্রীলঙ্কার পক্ষে চলে আসে। এরপর শেষের দিকে আবারও গুরুত্বপূর্ণ ছক্কা মেরে তিনি দলকে জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে দেন। (SportsTak)
শেষ পর্যন্ত হার্শিথা ৩৭ বলে অপরাজিত ৪৮ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল চারটি চার এবং দুটি ছয়। কঠিন পরিস্থিতিতে তাঁর এই ইনিংসই কার্যত ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়। (myKhel)
শেষ ওভারে জয় শ্রীলঙ্কার
শেষ ওভারে শ্রীলঙ্কার জয়ের জন্য খুব বেশি রান বাকি ছিল না। চাপের মুহূর্তে হার্শিথা কোনো অপ্রয়োজনীয় বড় শট খেলেননি। ঠান্ডা মাথায় রান নিয়ে দলকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন। ১৯.২ ওভারে শ্রীলঙ্কা ৬ উইকেট হারিয়ে ১১৫ রান করে। ফলে বাংলাদেশকে চার উইকেটে হারিয়ে ম্যাচ জিতে নেয় শ্রীলঙ্কা। (মানি কন্ট্রোল)
এই জয়ের ফলে শ্রীলঙ্কা মহিলা এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে। টুর্নামেন্টে এটি তাদের টানা তৃতীয় জয়ও। অন্যদিকে বাংলাদেশের জন্য এই হার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেমিফাইনালে যেতে হলে পরবর্তী ম্যাচে তাদের ভালো পারফরম্যান্স করতে হবে। (Cricbuzz)
বাংলাদেশের জন্য বড় শিক্ষা
বাংলাদেশের জন্য এই ম্যাচে সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক ছিল বোলিং। মাত্র ১১৪ রান করার পরও বোলাররা শ্রীলঙ্কাকে ৪৪/৫ অবস্থায় নিয়ে গিয়েছিলেন। অর্থাৎ ম্যাচের একটা বড় অংশে বাংলাদেশ জয়ের অবস্থানে ছিল। কিন্তু হার্শিথার দুর্দান্ত ইনিংস এবং শেষদিকে শ্রীলঙ্কার ব্যাটারদের ঠান্ডা মাথার ব্যাটিং ম্যাচের ফল বদলে দেয়।
ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের আরও কিছুটা রান প্রয়োজন ছিল বলেই মনে হয়েছে। ১১৪ রানের পরিবর্তে যদি বাংলাদেশ ১৩০-১৪০ রানের কাছাকাছি পৌঁছতে পারত, তাহলে শ্রীলঙ্কার জন্য রান তাড়া করা আরও কঠিন হতে পারত। তবে বাংলাদেশের বোলিং পারফরম্যান্স দেখিয়ে দিয়েছে যে দলটি বড় দলগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা রাখে।
ম্যাচের মূল তথ্য
বাংলাদেশ: ১১৪/৮, ২০ ওভার
শ্রীলঙ্কা: ১১৫/৬, ১৯.২ ওভার
ফল: শ্রীলঙ্কা ৪ উইকেটে জয়ী
সেরা ব্যাটার: হার্শিথা সামারাবিক্রমা — অপরাজিত ৪৮ রান
হার্শিথার ইনিংস: ৩৭ বল, ৪ চার, ২ ছয়
বাংলাদেশের সেরা ব্যাটার: সোবহানা মোস্তারি — ৩৪ রান
বাংলাদেশের সেরা বোলার: মারুফা আক্তার — ৩/২১
ভেন্যু: দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম
সব মিলিয়ে, ৪৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়েও ম্যাচ জিতে শ্রীলঙ্কা শুধু সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেনি, কঠিন পরিস্থিতিতে চাপ সামলে জেতার মানসিক শক্তিরও প্রমাণ দিয়েছে। আর এই জয়ের কেন্দ্রে ছিলেন হার্শিথা সামারাবিক্রমা—তাঁর অপরাজিত ৪৮ রানের ইনিংসই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেয়। (Cricbuzz)

