Belgium vs Egypt FIFA World Cup 2026:
belgium vs egypt
গ্রুপ G-এর অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ ছিল বেলজিয়াম বনাম মিশর। সিয়াটলের লুমেন ফিল্ডে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে দুই দলই শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে ড্র করে। তবে স্কোরলাইন যতটা সাধারণ দেখাচ্ছে, ম্যাচের নাটকীয়তা ছিল তার চেয়ে অনেক বেশি। মিশর দীর্ঘ সময় এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত তিন পয়েন্ট তুলে নিতে পারেনি, আর বেলজিয়াম শেষ পর্যন্ত রোমেলু লুকাকুর প্রভাবে একটি মূল্যবান পয়েন্ট উদ্ধার করে। (Reuters)
ম্যাচ তথ্য belgium vs egypt
- টুর্নামেন্ট: FIFA World Cup 2026
- গ্রুপ: G
- তারিখ: ১৫ জুন ২০২৬
- ভেন্যু: Lumen Field, Seattle, USA
- ফলাফল: Belgium 1-1 Egypt
- দর্শক: প্রায় 66,775 জন (Sky Sports)
ম্যাচের স্কোরলাইন
| দল | গোল |
|---|---|
| Belgium | 1 |
| Egypt | 1 |
গোলদাতারা
Egypt
- ইমাম আশুর (১৯ মিনিট)
Belgium
- মোহামেদ হানি (আত্মঘাতী গোল, ৬৬ মিনিট) (Reuters)
বেলজিয়ামের সম্ভাব্য একাদশ
অধিনায়ক: কেভিন ডি ব্রুইনে
- থিবো কোর্তোয়া
- থমাস মুনিয়ের
- ব্র্যান্ডন মেশেলে
- নাথান এনগয়
- টিমোথি কাস্তাগনে
- আন্দ্রে ওনানা
- আমাদু ওনানা
- কেভিন ডি ব্রুইনে (C)
- জেরেমি ডোকু
- লিয়েন্দ্রো ট্রোসার্ড
- চার্লস ডি কেটেলায়ের
(Reddit)
মিশরের সম্ভাব্য একাদশ
অধিনায়ক: মোহামেদ সালাহ
- মোহামেদ এল-শেনাওয়ি
- মোহামেদ হানি
- রামি রাবিয়া
- মোহামেদ আবদেলমোনেম
- আহমেদ নাবিল
- মারওয়ান আতিয়া
- হামদি ফাথি
- ইমাম আশুর
- ওমর মারমুশ
- মোস্তাফা জিকো
- মোহামেদ সালাহ (C)
belgium vs egypt
প্রথমার্ধ: সালাহর পাসে ইতিহাসের স্বপ্ন
ম্যাচের শুরুতে বলের দখল ছিল বেলজিয়ামের। কেভিন ডি ব্রুইনে ও জেরেমি ডোকুর নেতৃত্বে আক্রমণ তৈরি হচ্ছিল একের পর এক। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হচ্ছিল ইউরোপিয়ান দলটি।
Mohamed Salah নীল নদের তীর থেকে মিশরের ফুটবল সম্রাট হওয়ার অবিশ্বাস্য গল্প
১৯তম মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ইমাম আশুর। মোহামেদ সালাহ মাঝমাঠ থেকে দুর্দান্ত একটি পাস দেন। বল পেয়ে আশুর বক্সের বাইরে থেকে শক্তিশালী শটে গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়াকে পরাস্ত করেন। পুরো স্টেডিয়াম স্তব্ধ হয়ে যায়। মিশর ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। (গার্ডিয়ান)
ইমাম আশুরের দুর্দান্ত গোল belgium vs egypt
আশুরের এই গোলটি ছিল তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। বেলজিয়ামের ডিফেন্স কিছুটা জায়গা ছেড়ে দেওয়ায় তিনি দূরপাল্লার শট নেন এবং সেটি সরাসরি জালে জড়িয়ে যায়।
এই গোলের পর মিশর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। তারা কাউন্টার অ্যাটাকে একাধিক সুযোগ তৈরি করে এবং প্রথমার্ধ শেষ করে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে। (AFC)
দ্বিতীয়ার্ধে বেলজিয়ামের চাপ
বিরতির পর বেলজিয়াম আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। ডি ব্রুইনের ফ্রি-কিক পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ডোকুও কয়েকটি ভালো সুযোগ নষ্ট করেন।
মিশর রক্ষণভাগ শক্ত রেখে খেলছিল। সালাহ এবং মারমুশ দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে বেলজিয়ামকে ব্যস্ত রাখেন। (Reuters)
লুকাকুর আগমন বদলে দিল ম্যাচ belgium vs egypt
৬৬ মিনিটে কোচ রুডি গার্সিয়া মাঠে নামান রোমেলু লুকাকুকে।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, মাঠে নামার প্রায় ২০ সেকেন্ডের মধ্যেই ম্যাচের চিত্র পাল্টে যায়।
থমাস মুনিয়েরের একটি বিপজ্জনক ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে মিশরের ডিফেন্ডার মোহামেদ হানি নিজের জালেই বল জড়িয়ে ফেলেন। স্কোরলাইন হয়ে যায় ১-১।
অফিশিয়ালি গোলটি আত্মঘাতী হিসেবে গণ্য হলেও পুরো আক্রমণের পেছনে ছিলেন লুকাকু। তার উপস্থিতি মিশরের রক্ষণকে চাপে ফেলে দেয়। (Reuters)
শেষ মুহূর্তের নাটক belgium vs egypt
ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিট ছিল দারুণ উত্তেজনাপূর্ণ।
- লুকাকু সহজ হেড মিস করেন।
- সালাহর একটি হেড কোর্তোয়া রক্ষা করেন।
- মারমুশের শট অল্পের জন্য বাইরে যায়।
- শেষ দিকে মিশর পেনাল্টির দাবি জানালেও VAR সিদ্ধান্ত বদলায়নি। (গার্ডিয়ান)
ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় কারা?
১. ইমাম আশুর (Egypt)
- দলের একমাত্র গোল
- মাঝমাঠে অসাধারণ পারফরম্যান্স
২. মোহামেদ সালাহ (Egypt)
- অ্যাসিস্ট
- একাধিক আক্রমণ তৈরি
৩. রোমেলু লুকাকু (Belgium)
- বদলি হিসেবে নেমে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন
৪. থিবো কোর্তোয়া (Belgium)
- গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সেভ করেন
কৌশলগত বিশ্লেষণ
মিশর কীভাবে গোল করল? belgium vs egypt
মিশর রক্ষণাত্মক ফরমেশনে খেললেও দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক ব্যবহার করে। সালাহ বল ধরে রাখেন এবং সঠিক সময়ে ইমাম আশুরকে পাস দেন। আশুর দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে গোল করেন। (গার্ডিয়ান)
বেলজিয়াম কীভাবে সমতা ফেরাল?
ডি ব্রুইনে ও ডোকুর গতির সঙ্গে লুকাকুর শারীরিক শক্তি যোগ হওয়ায় মিশরের ডিফেন্স চাপে পড়ে। ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে মোহামেদ হানির আত্মঘাতী গোল হয়। (Reuters)
গ্রুপ G-এর পরিস্থিতি
এই ড্রয়ের ফলে বেলজিয়াম ও মিশর উভয়েই ১ পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল। ফলে গ্রুপ G-এর লড়াই আরও জমে উঠেছে। (Reuters)
belgium vs egypt
বেলজিয়াম বনাম মিশর ম্যাচটি ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে উপভোগ্য ম্যাচগুলোর একটি। মিশর ঐতিহাসিক জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল, কিন্তু লুকাকুর আগমনে বদলে যায় সব হিসাব। অন্যদিকে বেলজিয়াম বুঝতে পারল যে শুধু তারকা খেলোয়াড় থাকলেই হবে না, সুযোগগুলো কাজে লাগাতেও হবে।
ম্যাচ শেষে দুই দলই একটি করে পয়েন্ট পেলেও দর্শকরা পেলেন বিশ্বকাপের আসল রোমাঞ্চ—নাটক, আবেগ, গোল এবং শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা। (Sky Sports)

