google.com, pub-3844643779687651, DIRECT, f08c47fec0942fa0

Mukul roy passes away

Mukul roy passes away

Spread the love

প্রয়াত মুকুল রায়:Mukul roy passes away, বাংলার রাজনীতির এক বিতর্কিত কৌশলী অধ্যায়ের অবসান

ChatGPT-Image-২৩-ফেব-২০২৬-০১_৩৬_২৬-PM Mukul roy passes away
প্রয়াত মুকুল রায়: বাংলার রাজনীতির এক বিতর্কিত কৌশলী অধ্যায়ের অবসান

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে কিছু নাম আছে, যাদের উপস্থিতি শুধু একটি দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না—বরং একটি যুগকে চিহ্নিত করে। সেই রকমই এক নাম মুকুল রায়। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নেতা মুকুল রায় ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সোমবার ভোররাতে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। দীর্ঘদিন অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করার পর রাত ১টা ৩০ মিনিটে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন বলে তাঁর পুত্র শুভ্রাংশু রায় জানান।

তাঁর প্রয়াণে শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নয়, সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক যুগের অবসান ঘটল।


শৈশব, শিক্ষা ও রাজনৈতিক হাতেখড়ি

উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়া তাঁর জন্মভূমি। সেখান থেকেই রাজনীতির প্রথম পাঠ শুরু। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রথম জীবনে তিনি কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সংগঠনের কাজের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান শক্ত করেন।

১৯৯০-এর দশকের শেষভাগে যখন বাংলার রাজনীতিতে পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে, তখনই তিনি যোগ দেন এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে।


তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা ও ‘চাণক্য’ উপাধি

১৯৯৮ সালে All India Trinamool Congress প্রতিষ্ঠার সময় তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন। Mamata Banerjee-র ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তিনি সংগঠনের ভিত মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। দল গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রতীক নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়ার দায়িত্বও তাঁর উপরেই ছিল।

তৃণমূল কংগ্রেসের উত্থানের সময়ে মুকুল রায় ছিলেন সংগঠনের নেপথ্যের কৌশলী। দলের ভেতরে তাঁকে অনেকেই ‘বাংলার চাণক্য’ বলে আখ্যা দিতেন। রাজনৈতিক জোট, বিরোধী শিবিরে ভাঙন, সাংগঠনিক সম্প্রসারণ—সব ক্ষেত্রেই তাঁর দক্ষতা ছিল স্পষ্ট।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থানের আগে পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসে তাঁকে দলের দ্বিতীয় সর্বাধিক প্রভাবশালী নেতা হিসেবে ধরা হতো।


কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব

২০১২ সালের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি ভারতের কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যদিও তাঁর মেয়াদ দীর্ঘ ছিল না, তবু রেলমন্ত্রকের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা তাঁকে জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ করে তোলে।

রেলমন্ত্রিত্বের সময় তিনি বিভিন্ন প্রকল্প ও পরিকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে উদ্যোগী হন। যদিও সময় স্বল্পতার কারণে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কার্যকর করার সুযোগ সীমিত ছিল।


সম্পর্কের টানাপোড়েন ও দলবদল

২০১৬ সালের পর থেকে তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়। রাজ্যের চিটফান্ড কেলেঙ্কারির তদন্তে কেন্দ্রীয় সংস্থার তলব তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে নাড়িয়ে দেয়।

২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে তিনি যোগ দেন Bharatiya Janata Party-তে। তাঁর এই দলবদল বাংলার রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন তোলে। বিজেপির সাংগঠনিক বিস্তারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ৪২টির মধ্যে ১৮টি আসন জয় করে—যা ছিল এক ঐতিহাসিক ফলাফল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সাফল্যের পেছনে মুকুল রায়ের সাংগঠনিক দক্ষতা বড় ভূমিকা নিয়েছিল।


২০২১ বিধানসভা নির্বাচন ও বিতর্ক

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং জয়লাভ করেন। কিন্তু পরে তিনি আবার তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে আসেন।

এই প্রত্যাবর্তন নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়। তিনি বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেননি, ফলে কাগজে-কলমে তিনি বিজেপির বিধায়কই রয়ে যান। পরবর্তীতে তাঁকে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির (PAC) চেয়ারম্যান করা হয়।

এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বিরোধী দলনেতা Suvendu Adhikari আইনি লড়াই শুরু করেন। Calcutta High Court প্রথমে অযোগ্যতার পক্ষে রায় দিলেও Supreme Court of India সেই রায়ে স্থগিতাদেশ দেয়।

এই ঘটনাপ্রবাহ বাংলার রাজনীতিতে দলত্যাগ ও সাংবিধানিক নৈতিকতার প্রশ্নকে নতুন করে সামনে নিয়ে আসে।


সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে আসা

গত কয়েক বছর ধরে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে অনেকটাই দূরে ছিলেন। স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার কারণে জনসমক্ষে তাঁর উপস্থিতি কমে যায়। দীর্ঘদিন কোমায় থাকার পর অবশেষে তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শেষ পর্ব ছিল নীরব, কিন্তু তাঁর অতীত কর্মকাণ্ডের প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী।


প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর শোকবার্তা, Mukul roy passes away

প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকপ্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সমাজসেবায় তাঁর অবদান ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, তিনি ছিলেন দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা। নানা রাজনৈতিক সংগ্রামে তাঁরা একসঙ্গে লড়েছেন—এই স্মৃতি তিনি কখনও ভুলবেন না।


রাজনৈতিক উত্তরাধিকার: প্রশংসা ও সমালোচনা

মুকুল রায়ের রাজনৈতিক জীবন ছিল একই সঙ্গে প্রশংসিত ও বিতর্কিত।

প্রশংসা:

  • অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতা
  • বিরোধী শিবিরে প্রভাব বিস্তার
  • দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা

সমালোচনা:

  • দলবদলের রাজনীতি
  • নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভাঙিয়ে নেওয়ার কৌশল
  • নৈতিকতার প্রশ্নে বিতর্ক

তিনি বাংলার রাজনীতিতে দলত্যাগ ও রাজনৈতিক পুনর্গঠনের এক নতুন ধারা তৈরি করেছিলেন। তাঁর কৌশল অনেকের কাছে বাস্তববাদী, আবার অনেকের কাছে নীতিহীন।


বাংলার রাজনীতিতে প্রভাব

তাঁর কর্মকাণ্ড পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির গতিপথ বদলে দেয়। কংগ্রেস থেকে তৃণমূল, তৃণমূল থেকে বিজেপি এবং আবার তৃণমূল—এই যাত্রাপথ দেখায় যে তিনি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত অভিযোজিত ছিলেন।

তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে সংগঠনই রাজনীতির প্রাণ। আদর্শ, মতাদর্শ, জোট—সব কিছুর ঊর্ধ্বে সংগঠনের শক্তি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা তাঁর কৌশলে স্পষ্ট ছিল।


ব্যক্তিজীবন

রাজনীতির বাইরেও তিনি ছিলেন পরিবারের মানুষ। পুত্র শুভ্রাংশু রায়ও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। রাজনৈতিক উত্থান-পতনের মধ্যেও পারিবারিক বন্ধন অটুট ছিল।

তাঁর ব্যক্তিত্বে ছিল দৃঢ়তা, আত্মবিশ্বাস এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেকে বদলে নেওয়ার ক্ষমতা।


এক যুগের অবসান, Mukul roy passes away

মুকুল রায়ের প্রয়াণ শুধুমাত্র একটি ব্যক্তির মৃত্যু নয়—এটি বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি। তিনি ছিলেন সংগঠনের স্থপতি, কৌশলের কারিগর এবং বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।

আজ যখন তাঁর জীবনকে ফিরে দেখা হয়, তখন বোঝা যায়—তিনি ছিলেন এমন এক রাজনীতিবিদ, যিনি নেপথ্যে থেকে খেলাটি নিয়ন্ত্রণ করতেন। তাঁর উপস্থিতি যেমন দলকে শক্তিশালী করেছে, তেমনই তাঁর পদক্ষেপ বহু বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।


ChatGPT-Image-২৩-ফেব-২০২৬-০১_৩৬_২৬-PM Mukul roy passes away

রাজনীতি কখনও সাদা-কালো নয়। সেখানে ধূসর অঞ্চলই বেশি। মুকুল রায় সেই ধূসর রাজনীতির এক বাস্তব প্রতিচ্ছবি। তিনি যেমন ছিলেন বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা, তেমনই ছিলেন কঠোর কৌশলী।

তাঁর প্রয়াণে পশ্চিমবঙ্গ হারাল এক অভিজ্ঞ রাজনৈতিক মস্তিষ্ককে। ইতিহাস তাঁকে বিচার করবে তাঁর কাজ, সিদ্ধান্ত এবং প্রভাবের ভিত্তিতে।

শ্রদ্ধাঞ্জলি।
ওঁ শান্তি।

Please follow and like us:
icon_Follow_en_US Mukul roy passes away
en_US_save Mukul roy passes away

Post Comment

RSS
Follow by Email