Nirab modi
লন্ডন, ২৮ জুলাই ২০২৬: ভারতের অন্যতম বৃহৎ ব্যাংক জালিয়াতি মামলার প্রধান অভিযুক্ত নীরব মোদিকে এখনও ভারতে প্রত্যর্পণ করা না হওয়ায় ব্রিটিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানালেন ব্রিটেনের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Priti Patel। তিনি বলেছেন, নীরব মোদি এখনও যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন—এটি অত্যন্ত হতাশাজনক এবং এতে ভারত সরকারের ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
নীরব মোদির বিরুদ্ধে ভারতের অন্যতম বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে। Nirav Modi-র বিরুদ্ধে প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১৬,০০০ কোটিরও বেশি টাকা) মূল্যের Punjab National Bank (PNB) ঋণ জালিয়াতি এবং অর্থপাচারের অভিযোগে ভারতের বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা মামলা করেছে।
প্রীতি প্যাটেল এক সাক্ষাৎকারে জানান, তিনি ২০২১ সালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন নীরব মোদিকে ভারতে প্রত্যর্পণের আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন। আদালতও প্রত্যর্পণের পক্ষে প্রাথমিকভাবে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে বলে মত দিয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া, মানবাধিকার সংক্রান্ত আপিল এবং রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনসহ একাধিক কারণে এখনও প্রত্যর্পণ কার্যকর হয়নি।
প্যাটেলের দাবি, নীরব মোদিকে প্রত্যর্পণ না করায় ভারত ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্কের ওপরও প্রভাব পড়েছে। তাঁর মতে, অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের ফেরত নেওয়ার বিষয়ে ভারত সরকারের অনীহার পেছনেও এই মামলার প্রভাব ছিল। তিনি বলেন, ভারত এই ইস্যুকে কূটনৈতিকভাবে গুরুত্ব দিয়েছে এবং যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে দৃশ্যমান পদক্ষেপ আশা করেছিল।
তিনি আরও বলেন, “যদি আমাদের বিচারব্যবস্থা দ্রুত এবং কার্যকরভাবে কাজ করত, তাহলে নীরব মোদি এতদিন যুক্তরাজ্যে থাকতেন না। এটি শুধু আমাদের আইনি ব্যবস্থার অপব্যবহারই নয়, ব্রিটিশ করদাতাদের প্রতিও এক ধরনের অবিচার।”
বর্তমানে ৫৫ বছর বয়সী নীরব মোদি লন্ডনের কারাগারে বন্দি রয়েছেন। ভারতের Central Bureau of Investigation (CBI) এবং Enforcement Directorate (ED)-এর মামলায় তাঁকে ভারতে এনে বিচার করার প্রস্তুতি চলছে। জানা গেছে, তিনি যুক্তরাজ্যের আদালতে একাধিকবার আপিল করলেও সেগুলি খারিজ হয়েছে। ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতেও শেষ চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তাঁর প্রত্যর্পণের সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নীরব মোদির প্রত্যর্পণ শুধু একটি অপরাধমূলক মামলার নিষ্পত্তিই নয়, ভারত-যুক্তরাজ্য আইনি সহযোগিতা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। বহু বছর ধরে ঝুলে থাকা এই মামলার দ্রুত সমাধান দুই দেশের পারস্পরিক আস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
ভারত সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রীতি প্যাটেলের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে নীরব মোদিকে দ্রুত ভারতে ফিরিয়ে এনে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবিতে ভারতের অবস্থান আগের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে।
