Pakistan vs England , ২৬৮ রানে পিছিয়ে ইংল্যান্ডের দাপট
বার্মিংহাম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬: Pakistan vs England নিয়ে Google-এ ২ লাখের বেশি সার্চের পিছনে এখন সবচেয়ে বড় কারণ এজবাস্টনে চলা তৃতীয় ও শেষ টেস্ট। তিন ম্যাচের সিরিজে ইংল্যান্ড ইতিমধ্যেই ২-০ এগিয়ে, আর তৃতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শেষে পাকিস্তান আরও কঠিন পরিস্থিতিতে। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৩৩ রানে অলআউট হওয়ার পর ইংল্যান্ড করেছে ৪৫৩ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তান দিনের শেষে ৫২/২, ফলে ইংল্যান্ডের থেকে এখনও ২৬৮ রান পিছিয়ে পাকিস্তান। বৃষ্টির কারণে দ্বিতীয় দিনের খেলা আগেই শেষ হয়। (PCB)
ম্যাচের বর্তমান চিত্র এক নজরে
দলইনিংসস্কোররানরেটপাকিস্তান১ম133 all out3.93ইংল্যান্ড১ম453 all out5.08পাকিস্তান২য়52/24.11
পাকিস্তানকে এখন শুধু লিড মুছলেই হবে না, নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে এমন স্কোর করতে হবে যাতে ইংল্যান্ডকে আবার ব্যাট করতে বাধ্য করা যায়। দ্বিতীয় দিনের শেষে সেই জায়গায় পৌঁছতে পাকিস্তানের আরও ২৬৮ রান প্রয়োজন। (PCB)
দুই দলের Playing XI
🇵🇰 পাকিস্তান
আজান আওয়াইস, সাইম আয়ুব, আবদুল্লাহ শফিক, শান মাসুদ (অধিনায়ক), বাবর আজম, সৌদ শাকিল, মুহাম্মদ গাজি ঘোরি (উইকেটকিপার), মুহাম্মদ ইমরান, রাজাউল্লাহ, মোহাম্মদ আব্বাস, মোহাম্মদ আলি।
পাকিস্তান এই ম্যাচে চারটি পরিবর্তন করেছে এবং গাজি ঘোরি, মোহাম্মদ ইমরান ও রাজাউল্লাহ টেস্ট অভিষেক করেছেন। (PCB)
🏴 ইংল্যান্ড
বেন ডাকেট, এমিলিও গে, জর্ডান কক্স, জো রুট (অধিনায়ক), হ্যারি ব্রুক, ড্যান লরেন্স, জেমি স্মিথ (উইকেটকিপার), গাস অ্যাটকিনসন, অলি রবিনসন, জোফ্রা আর্চার, জশ টাং।
তৃতীয় টেস্টে ইংল্যান্ড তাদের Playing XI-তে কোনও পরিবর্তন করেনি। (Jansatta)
প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৩৩ রানে পাকিস্তান অলআউট
টস জিতে ইংল্যান্ড প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্ত শুরু থেকেই কার্যকর প্রমাণিত হয়। পাকিস্তানের টপ অর্ডার ইংল্যান্ডের পেস আক্রমণের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি।
পাকিস্তানের প্রথম চার উইকেট পড়ে মাত্র ২৬ রানে। সাইম আয়ুব করেন ০, আজান আওয়াইস ৯, আবদুল্লাহ শফিক ৩ এবং শান মাসুদ মাত্র ৫ রান করে ফিরে যান। এরপর অধিনায়ক বাবর আজমও মাত্র ৭ রান করে জশ টাংয়ের বলে বোল্ড হন। (PCB)
অর্থাৎ ২৬ রানের মধ্যে চার উইকেট এবং ৪৮ রানে পাঁচ উইকেট—পাকিস্তানের ইনিংস কার্যত শুরুতেই চাপে পড়ে যায়।
সৌদ শাকিলের লড়াই
এই ধসের মধ্যে পাকিস্তানের হয়ে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ইনিংস খেলেন সৌদ শাকিল। তিনি ৪৭ বলে ৪৩ রান করেন এবং সাতটি চার মারেন।
মোহাম্মদ আব্বাসও ৩৬ বলে ২১ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। কিন্তু নিচের সারির ব্যাটারদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত রান না আসায় পাকিস্তান ৩৩.৫ ওভারে মাত্র ১৩৩ রানে অলআউট হয়ে যায়। (PCB)
পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসের Fall of Wickets
- 8/1 — সাইম আয়ুব
- 14/2 — আজান আওয়াইস
- 24/3 — আবদুল্লাহ শফিক
- 26/4 — শান মাসুদ
- 48/5 — বাবর আজম
- 64/6 — গাজি ঘোরি
- 84/7 — মোহাম্মদ ইমরান
- 101/8 — রাজাউল্লাহ
- 107/9 — সৌদ শাকিল
- 133/10 — মোহাম্মদ আলি (PCB)
ইংল্যান্ডের জবাব: ৪৫৩ রানের বিশাল স্কোর
পাকিস্তানকে ১৩৩ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ইংল্যান্ড তাদের প্রথম ইনিংসে আরও নিয়ন্ত্রিত এবং ধারাবাহিক ব্যাটিং করে। শুরুতে কয়েকটি উইকেট হারালেও মিডল অর্ডার এবং লোয়ার অর্ডার ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ইংল্যান্ডের হাতে নিয়ে যায়।
এমিলিও গে ৬০, হ্যারি ব্রুক ৭৫, ড্যান লরেন্স ৬৫, জেমি স্মিথ ৬৯ এবং অলি রবিনসন ৫০ রান করেন। ফলে ৮৯ ওভারে ইংল্যান্ডের স্কোর দাঁড়ায় ৪৫৩ অলআউট। (PCB)
ইংল্যান্ডের ইনিংসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল—একজন ব্যাটার শতরান না করলেও একাধিক ব্যাটার ৫০-এর আশেপাশে বা তার বেশি রান করেছেন। এই ধরনের ধারাবাহিক মাঝারি-বড় অবদানই শেষ পর্যন্ত বিশাল দলীয় স্কোর তৈরি করে।
হ্যারি ব্রুকের গুরুত্বপূর্ণ ৭৫
হ্যারি ব্রুক দ্বিতীয় দিন শুরু করেছিলেন ৫২ রানে। শেষ পর্যন্ত তিনি ৭৫ রান করেন। শতরানের খুব কাছে পৌঁছেও রান-আউট হয়ে ফিরে যান। শান মাসুদ ও সাইম আয়ুবের সমন্বিত ফিল্ডিংয়ে তাঁর ইনিংস শেষ হয়। (icc)
ড্যান লরেন্স ৬৫ এবং জেমি স্মিথ ৬৯ রান করেন। শেষদিকে অলি রবিনসন ৫০ রান করে ইংল্যান্ডের লিডকে আরও বড় করে দেন।
ফলে ইংল্যান্ডের ৪৫৩ রানের মধ্যে শুধু একজনের অবদান নয়—একাধিক ব্যাটারের ধারাবাহিক অবদান ছিল।
ইংল্যান্ডের Fall of Wickets
ইংল্যান্ডের ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ উইকেটগুলির মধ্যে ছিল:
- 12/1 — বেন ডাকেট
- 24/2 — জর্ডান কক্স
- 39/3 — জো রুট
- 143/4 — এমিলিও গে
- এরপর ব্রুক, লরেন্স, স্মিথ এবং লোয়ার অর্ডারের ব্যাটাররা দলকে ৪৫৩ পর্যন্ত নিয়ে যান।
পাকিস্তানের অভিষেককারী পেসার রাজাউল্লাহ ৪/১৪৮ নিয়ে নজর কাড়েন। মোহাম্মদ ইমরান নেন ২টি উইকেট এবং মোহাম্মদ আলিও ২টি উইকেট পান। (PCB)
দ্বিতীয় ইনিংসে আবার ধাক্কা পাকিস্তানের
৪৫৩ রানের জবাবে দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের শুরুটা আরও ভয়াবহ হতে পারত। সাইম আয়ুব এবং আবদুল্লাহ শফিক—দুজনেই কোনও রান না করে ফিরে যান।
অলি রবিনসন দুজনকেই আউট করেন। মাত্র কয়েক বলের মধ্যে পাকিস্তান ০ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বসে। (PCB)
তবে এরপর আজান আওয়াইস ও শান মাসুদ পরিস্থিতি সামাল দেন। আজান ৩০ বলে ২৯ রান করে অপরাজিত এবং শান মাসুদ ৪২ বলে ২১ রান করে অপরাজিত থেকে দিনের খেলা শেষ করেন। দুজন মিলে তৃতীয় উইকেটে অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে পাকিস্তানকে ৫২/২ পর্যন্ত নিয়ে যান। (PCB)
দ্বিতীয় ইনিংসের Fall of Wickets
পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে এখনও পর্যন্ত:
- 8/1 — সাইম আয়ুব
- 8/2 — আবদুল্লাহ শফিক
এরপর আজান আওয়াইস ও শান মাসুদ আর কোনও উইকেট পড়তে দেননি। বৃষ্টির কারণে ১২.৪ ওভারের পর দিনের খেলা বন্ধ হয়ে যায়। (PCB)
পাকিস্তান কীভাবে ধারাবাহিকভাবে রানরেট বাড়াতে পারে?
এখানে পাকিস্তানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল হঠাৎ আক্রমণ না করে ধাপে ধাপে রানরেট বাড়ানো।
দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের রানরেট এখন প্রায় ৪.১১। কিন্তু তাদের সামনে প্রথম কাজ হলো উইকেট বাঁচানো। ২৬৮ রান পিছিয়ে থাকা অবস্থায় অযথা দ্রুত রান করতে গিয়ে আবার উইকেট হারালে ম্যাচ দ্রুত ইংল্যান্ডের হাতে চলে যাবে।
প্রথম ধাপ: নতুন বল সামলানো
আজান আওয়াইস ও শান মাসুদের প্রথম লক্ষ্য হওয়া উচিত নতুন বলের সময় উইকেট বাঁচানো। প্রথম ১৫–২০ ওভারে প্রতিটি বল আক্রমণ করার বদলে singles, doubles এবং খারাপ বলের boundary নেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
দ্বিতীয় ধাপ: রানরেট ৪ থেকে ৪.৫-এর দিকে নেওয়া
সেট ব্যাটার তৈরি হলে স্কোরবোর্ড সচল রাখতে হবে। প্রতি ওভারে ৪–৫ রান করে তুলতে পারলে চাপ কমবে। একসঙ্গে বড় শট খেলার পরিবর্তে প্রতি ওভারে অন্তত ৩–৪টি scoring delivery তৈরি করা দরকার।
তৃতীয় ধাপ: ৫০ ওভারের পর গতি বাড়ানো
যদি হাতে ৬–৭টি উইকেট থাকে, তখন সেট ব্যাটাররা ঝুঁকি বাড়াতে পারেন। নতুন ব্যাটারকে প্রথমে কিছু সময় দিয়ে পরে boundary নেওয়া—এটাই Test cricket-এ দীর্ঘ ইনিংস তৈরির কার্যকর পদ্ধতি।
ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসেও একই বিষয় দেখা গেছে। তারা একসঙ্গে সবাই আক্রমণ করেনি; বরং একাধিক ব্যাটার ৫০–৭৫ রানের ইনিংস খেলেছেন। শেষ পর্যন্ত সেই ধারাবাহিকতা ৪৫৩ রান তৈরি করেছে।
ধারাবাহিক রানরেটের সহজ ফর্মুলা
উইকেট বাঁচাও → Singles নাও → Doubles নাও → খারাপ বলকে Boundary করো → সেট হওয়ার পর আক্রমণ বাড়াও।
এভাবে রানরেট বাড়ালে ব্যাটিংয়ের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে থাকে।
পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে উইকেটের মূল্য। ২৬৮ রান পিছিয়ে থেকে যদি তারা প্রতি ১০ ওভারে ৪০–৪৫ রান করতে পারে এবং একই সঙ্গে উইকেট ধরে রাখতে পারে, তাহলে ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরার সুযোগ তৈরি হবে।
ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় কে?
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। তৃতীয় টেস্ট এখনও শেষ হয়নি, তাই এই ম্যাচের Man of the Match এখনও ঘোষণা করা হয়নি। PCB-র অফিসিয়াল স্কোরকার্ডেও Player of Match ঘরটি এখনও ফাঁকা রয়েছে। (PCB)
তবে এখন পর্যন্ত ম্যাচের সবচেয়ে প্রভাবশালী ক্রিকেটারদের একজন নিঃসন্দেহে অলি রবিনসন। প্রথম ইনিংসে তিনি ৩/১৫ নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই সাইম আয়ুব ও আবদুল্লাহ শফিককে আউট করেছেন। দুই দিনের শেষে সিরিজে তাঁর উইকেট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১, যা অত্যন্ত অসাধারণ পারফরম্যান্স। (Reuters)
অন্যদিকে পাকিস্তানের হয়ে অভিষেক টেস্টেই রাজাউল্লাহ ৪/১৪৮ নিয়ে নজর কেড়েছেন। ব্যাট হাতে ইংল্যান্ডের হয়ে হ্যারি ব্রুক, ড্যান লরেন্স, জেমি স্মিথ এবং অলি রবিনসনের অবদানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। (PCB)
এখন ম্যাচের পরিস্থিতি কী?
দ্বিতীয় দিনের শেষে:
ইংল্যান্ড — 453 all out
পাকিস্তান — 133 all out & 52/2
পাকিস্তান এখনও পিছিয়ে — 268 রান
বাকি উইকেট — 8টি
দ্বিতীয় ইনিংসের রানরেট — 4.11
বৃষ্টির কারণে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ হয়ে যাওয়ায় তৃতীয় দিনে পাকিস্তানের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে দীর্ঘ সময় ব্যাট করা। (PCB)
শেষ কথা
Pakistan vs England-এর এই তৃতীয় টেস্টে এখনও ম্যাচের আনুষ্ঠানিক ফল বের হয়নি, কিন্তু পরিস্থিতি স্পষ্টতই ইংল্যান্ডের পক্ষে। পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৩৩ রানে অলআউট হয়ে বড় বিপদ ডেকে আনে। ইংল্যান্ড সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৪৫৩ রান করে ৩২০ রানের লিড নেয়।
দ্বিতীয় ইনিংসে আবার ০ রানে ২ উইকেট হারালেও আজান আওয়াইস ও শান মাসুদ প্রতিরোধ গড়ে ৫২/২ পর্যন্ত নিয়ে গেছেন। এখন পাকিস্তানের সাফল্যের চাবিকাঠি হবে ধৈর্য ধরে উইকেট বাঁচানো এবং ধাপে ধাপে রানরেট বাড়ানো।
ইংল্যান্ডের লক্ষ্য হবে দ্রুত বাকি আটটি উইকেট তুলে নিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে শেষ করা। পাকিস্তানের লক্ষ্য হবে দীর্ঘ সময় ব্যাট করে অন্তত ইংল্যান্ডকে আবার ব্যাট করতে বাধ্য করা। দ্বিতীয় দিনের শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অবশ্যই ইংল্যান্ডের হাতে। (Reuters)
সর্বশেষ স্কোর: England 453, Pakistan 133 & 52/2 — Pakistan trail by 268 runs. (Edgbaston)

