pati patni aur woh do
বর্তমান বলিউডে বড় বাজেটের অ্যাকশন সিনেমা, প্যান-ইন্ডিয়া রিলিজ, ভিএফএক্স ভরপুর দৃশ্য আর বক্স অফিসের রেকর্ড নিয়েই যেন সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়। কিন্তু এই প্রবল অ্যাকশন ঝড়ের মধ্যেও এমন কিছু নির্মাতা রয়েছেন, যারা এখনও বিশ্বাস করেন হাসির সিনেমা, পারিবারিক বিনোদন এবং থিয়েটারে একসঙ্গে বসে হাসার অভিজ্ঞতা কোনওদিন শেষ হবে না। সেই তালিকার অন্যতম নাম Mudassar Aziz।
তার নতুন ছবি Pati Patni Aur Woh Do মুক্তির আগেই আলোচনায়। ছবিতে অভিনয় করেছেন Ayushmann Khurrana, Sara Ali Khan, Wamiqa Gabbi এবং Rakul Preet Singh। তবে শুধু তারকা কাস্ট নয়, ছবির ভাবনা ও কমেডির ধরন নিয়েও দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পরিচালক মুদাসসর আজিজ বললেন, তিনি কখনও দর্শকদের হাসানোর জন্য অশ্লীলতা বা কুরুচিকর দৃশ্য ব্যবহার করেন না। আর এই বক্তব্যই এখন বলিউডে নতুন বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বলিউডে কমেডির সঙ্কট?
একটা সময় বলিউডে কমেডি সিনেমার স্বর্ণযুগ ছিল। পরিবার নিয়ে হলে গিয়ে সিনেমা দেখা, একসঙ্গে হাসাহাসি, সংলাপ মুখস্থ করে ফেলা— এসব ছিল সাধারণ ব্যাপার।
সেই সময়ে জনপ্রিয় হয়েছিল—
- পারিবারিক কমেডি
- ভুল বোঝাবুঝির গল্প
- পরিস্থিতির হাস্যরস
- বন্ধুত্ব ও সম্পর্কের মজার দ্বন্দ্ব
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বলিউডে অ্যাকশন, ডার্ক থ্রিলার এবং বিশাল ভিজ্যুয়াল স্পেকট্যাকলের দাপট বাড়তে থাকে। ফলে কমেডি সিনেমার সংখ্যা কমতে শুরু করে।
Mudassar Aziz মনে করেন, এটা সাময়িক সময়। তার মতে, দর্শক এখনও ভালো কমেডি দেখতে চান।
“দর্শকের সঙ্গে আবার সম্পর্ক গড়তে হবে”
মুদাসসর আজিজের বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে “দর্শকের প্রতি সম্মান” বিষয়টি।
তার মতে, হিন্দি সিনেমাকে আবার সেই দর্শকদের কাছে ফিরতে হবে, যারা একসময় সিনেমার জন্য পাগল ছিলেন। তিনি মনে করেন—
- ভাষার প্রতি ভালোবাসা থাকতে হবে
- সংস্কৃতিকে সম্মান করতে হবে
- পরিবার একসঙ্গে দেখতে পারে এমন কনটেন্ট তৈরি করতে হবে
বলিউডের অনেক নির্মাতা যখন শুধুমাত্র শহুরে বা আন্তর্জাতিক দর্শকদের মাথায় রেখে সিনেমা বানাচ্ছেন, তখন মুদাসসর বলছেন সাধারণ ভারতীয় পরিবারের কথা।
‘পতি পত্নী অউর ওহ দো’ আসলে কেমন ছবি?
ছবির নাম শুনে অনেকেই ভাবতে পারেন এটি হয়তো সম্পর্কের জটিলতা বা পরকীয়া নিয়ে তৈরি। কিন্তু পরিচালক সেই ধারণা ভাঙার চেষ্টা করেছেন।
তার মতে, ছবির মূল চরিত্র Ayushmann Khurrana অভিনীত প্রজাপতি পাণ্ডে আসলে “wife-proud” স্বামী।
অর্থাৎ—
- সে নিজের বিয়েতে বিরক্ত নয়
- অন্য সম্পর্কে আগ্রহী নয়
- কিন্তু পরিস্থিতির কারণে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ে
এই ধরনের কমেডি আগে দেখা গিয়েছিল—
- No Entry
- Welcome
এর মতো জনপ্রিয় ছবিতে।
“কমেডি মানে শুধু জোকস নয়”
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া, রিলস, মিম এবং শর্ট ভিডিও মানুষের হাসির ধারণা বদলে দিয়েছে। অনেকেই মনে করেন সিনেমার কমেডি আর আগের মতো কাজ করে না।
কিন্তু মুদাসসর এই ধারণার সঙ্গে একমত নন।
তার মতে—
“কমেডি শুধু জোকস বলা নয়। সিনেমার কমেডি মানে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা, যা দুই ঘণ্টা ধরে দর্শকদের বেঁধে রাখবে।”
এখানেই সিনেমার কমেডি আর মোবাইল স্ক্রিনের কনটেন্টের পার্থক্য।
থিয়েটারে একসঙ্গে হাসার অভিজ্ঞতা এখনও জীবিত
OTT যুগে অনেকেই মনে করেন থিয়েটারের গুরুত্ব কমছে। কিন্তু মুদাসসর আজিজ এখনও বিশ্বাস করেন বড় পর্দার ম্যাজিক শেষ হয়নি।
তার মতে—
- কমিউনিটি ওয়াচিং
- একসঙ্গে হাসা
- পরিবার নিয়ে সিনেমা দেখা
এই অভিজ্ঞতা OTT কখনও পুরোপুরি দিতে পারবে না।
“অশ্লীলতা দেখিয়ে হাসাই না”
এই বক্তব্যই এখন সবচেয়ে বেশি ভাইরাল।
মুদাসসর বলেন, তিনি কখনও এমন কমেডি করেন না যেখানে দর্শকদের হাসানোর জন্য অশালীনতা বা কুরুচিকর উপাদান ব্যবহার করতে হয়।
আজকের সময়ে যেখানে অনেক কমেডি কনটেন্ট—
- ডাবল মিনিং
- অশালীন সংলাপ
- শরীর নিয়ে কৌতুক
- অতিরিক্ত যৌন ইঙ্গিত
এর ওপর নির্ভর করে, সেখানে তার এই মন্তব্য আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে।
সামাজিক দায়িত্ব নিয়েও বড় মন্তব্য
পরিচালক মনে করেন, শুধু কমেডি নয়— সব ধরনের সিনেমারই সামাজিক দায়িত্ব রয়েছে।
তিনি বিশ্বাস করেন, নির্মাতাদের এমন একটা সীমা মানা উচিত যা অতিক্রম করলে কনটেন্ট পরিবারের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে।
এটাই সম্ভবত তার সিনেমাগুলিকে অন্যদের থেকে আলাদা করে।
আয়ুষ্মান খুরানাকে নিয়ে ভরসা
Ayushmann Khurrana বরাবরই আলাদা ধরনের গল্প বেছে নেওয়ার জন্য পরিচিত।
তার জনপ্রিয় ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- Vicky Donor
- Shubh Mangal Saavdhan
- Dum Laga Ke Haisha
এই ছবিগুলো সমাজের স্পর্শকাতর বিষয়কে হাস্যরসের মাধ্যমে তুলে ধরেছিল।
মুদাসসরের মতে, আয়ুষ্মানের সঙ্গে কাজ করলে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি সতর্কতা থাকে, কারণ দু’জনেই জানেন কীভাবে কঠিন বিষয়কেও সম্মানজনকভাবে উপস্থাপন করতে হয়।
সারা আলি খানকে কেন বেছে নেওয়া হল?
Sara Ali Khan সম্পর্কে পরিচালক বলেছেন, তিনি কমেডিতে নিজেকে পরীক্ষা করতে চেয়েছেন।
মুদাসসরের মতে, কোনও অভিনেতার মধ্যে যখন নতুন কিছু করার ক্ষুধা থাকে, তখনই সেরা পারফরম্যান্স বেরিয়ে আসে।
সারার ক্ষেত্রে তিনি সেই আগ্রহ দেখেছেন।
ওয়ামিকা গাব্বির “ফ্রেশনেস”
Wamiqa Gabbi বর্তমানে ভারতীয় OTT ও সিনেমা জগতে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন।
পরিচালকের মতে, স্ত্রীর চরিত্রে প্রয়োজন ছিল এমন একজন অভিনেত্রীর, যিনি একইসঙ্গে সতেজ ও আবেগপ্রবণ অভিনয় করতে পারেন। সেই কারণেই ওয়ামিকাকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
রাখুল প্রীতের চরিত্রে দ্বৈততা
Rakul Preet Singh-এর চরিত্র নিয়েও পরিচালক ইঙ্গিত দিয়েছেন।
তার মতে, ছবিতে রাখুল এমন এক নারী চরিত্রে অভিনয় করছেন, যিনি—
- একদিকে বন্ধুর মতো
- অন্যদিকে পরিস্থিতির কারণে ভুল বোঝাবুঝির কেন্দ্র
এই দ্বৈততাই ছবির কমেডিকে আরও মজার করবে।
বড় বাজেটের যুগে কমেডির চাপ
বর্তমানে দর্শক বড় স্কেল, বিশাল সেট, VFX এবং আন্তর্জাতিক মানের সিনেমা দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছেন।
তাহলে কমেডি সিনেমা কীভাবে প্রতিযোগিতা করবে?
মুদাসসরের উত্তর স্পষ্ট—
“কমেডির জাঁকজমক শুরু হয় লেখার টেবিলে।”
তার মতে, গল্পের মধ্যেই এমন মুহূর্ত তৈরি করতে হবে যা দর্শকদের বড় অভিজ্ঞতা দেবে।
হৃষীকেশ মুখোপাধ্যায়ের প্রভাব
পরিচালক বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন Hrishikesh Mukherjee-এর নাম।
হৃষীকেশ মুখোপাধ্যায়ের সিনেমাগুলো—
- সহজ
- মানবিক
- হাস্যরসপূর্ণ
- পারিবারিক
হলেও সেগুলোর প্রভাব ছিল বিশাল।
মুদাসসর মনে করেন, আজকের যুগে সেই সরলতার সঙ্গে আধুনিক বড় স্কেলের চাহিদাকেও মেলাতে হবে।
থিয়েটার বনাম OTT
আজকের দিনে OTT প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয়তা এতটাই বেড়েছে যে অনেকেই মনে করেন কমেডি সিনেমা ঘরে বসেই দেখা ভালো।
কিন্তু পরিচালক এখনও বিশ্বাস করেন—
থিয়েটারে একসঙ্গে বসে হাসার অনুভূতি অন্যরকম।
তিনি তার নতুন ছবিকে “থিয়েটার অভিজ্ঞতার প্রতি ভালোবাসার চিঠি” বলেও উল্লেখ করেছেন।
বলিউড কি আবার পারিবারিক কমেডিতে ফিরছে?
গত কয়েক বছরে বলিউডে অ্যাকশন ও থ্রিলারের দাপট থাকলেও এখন ধীরে ধীরে পারিবারিক বিনোদনের দিকে ঝোঁক বাড়ছে।
কারণ দর্শকরা সবসময়—
- ভারী অ্যাকশন
- ডার্ক গল্প
- অতিরিক্ত সহিংসতা
দেখতে চান না।
অনেকেই হালকা মেজাজের, পরিবার নিয়ে উপভোগ করা যায় এমন সিনেমা খুঁজছেন।
দর্শকের রুচি বদলেছে, কিন্তু হাসির চাহিদা কমেনি
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে মানুষ প্রতিদিন শত শত ছোট ভিডিও দেখছেন। ফলে দর্শকদের মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়েছে।
তবুও ভালো গল্প ও স্মরণীয় চরিত্র থাকলে কমেডি সিনেমা এখনও সফল হতে পারে।
‘পতি পত্নী অউর ওহ দো’ সেই পরীক্ষার মুখে দাঁড়িয়ে।
৯০-এর দশকের কমেডির নস্টালজিয়া
ছবিটির ট্রেলার দেখে অনেক দর্শক বলছেন এতে পুরনো বলিউড কমেডির গন্ধ রয়েছে।
বিশেষ করে—
- ভুল বোঝাবুঝি
- সম্পর্কের জট
- দ্রুতগতির সংলাপ
- পারিবারিক বিশৃঙ্খলা
এই সব উপাদান ৯০-এর দশকের জনপ্রিয় কমেডির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।
মুক্তি নিয়ে বাড়ছে উত্তেজনা
ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে ১৫ মে। ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দর্শকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অনেকে আশা করছেন ছবিটি—
- পারিবারিক দর্শকদের টানবে
- থিয়েটারে হাসির পরিবেশ ফিরিয়ে আনবে
- কমেডি ঘরানাকে নতুন জীবন দেবে
বলিউডের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ছবি?
‘পতি পত্নী অউর ওহ দো’ শুধু আরেকটি কমেডি সিনেমা নয়। এটি এক ধরনের পরীক্ষা—
দর্শক কি এখনও পরিষ্কার, পারিবারিক, পরিস্থিতিভিত্তিক কমেডি দেখতে চান?
যদি ছবিটি সফল হয়, তাহলে বলিউডে আরও বেশি কমেডি সিনেমা তৈরি হতে পারে।
Mudassar Aziz-এর বক্তব্য স্পষ্ট— কমেডি মানে কেবল সস্তা হাসি নয়। ভালো গল্প, সম্মানজনক উপস্থাপনা এবং দর্শকদের সঙ্গে আবেগের সম্পর্ক তৈরি করাই তার লক্ষ্য।
আজকের OTT, সোশ্যাল মিডিয়া এবং বড় বাজেটের যুগে দাঁড়িয়েও তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষ এখনও হলে গিয়ে একসঙ্গে হাসতে চায়।
আর সেই বিশ্বাস নিয়েই আসছে Pati Patni Aur Woh Do।
এখন দেখার, দর্শকরা এই “পরিবারের সঙ্গে দেখা যায়” কমেডিকে কতটা আপন করে নেন।
