কমেডির বাদশা শক্তি কাপুর: ভিলেন থেকে বলিউডের হাসির সম্রাট হয়ে ওঠার অবিশ্বাস্য যাত্রা
ভূমিকা
বলিউডের ইতিহাসে এমন কিছু অভিনেতা আছেন যাঁরা নায়ক না হয়েও দর্শকের হৃদয়ে অমর হয়ে গিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন শক্তি কাপুর। একদিকে ভয়ংকর ভিলেন, অন্যদিকে দর্শকদের পেট ফাটানো হাসির জাদুকর—এই দুই রূপেই তিনি সিনেমাপ্রেমীদের কাছে সমান জনপ্রিয়। তাঁর অভিনয়ের ভঙ্গি, সংলাপ বলার স্টাইল, মুখের অভিব্যক্তি এবং অদ্ভুত কমেডি টাইমিং তাঁকে অন্য সবার থেকে আলাদা করে তুলেছে।
একটা সময় বলিউডে যখন অমিতাভ বচ্চন, ধর্মেন্দ্র, জিতেন্দ্র, গোবিন্দ, অনিল কাপুর বা মিঠুন চক্রবর্তীর মতো তারকারা রাজত্ব করছিলেন, তখন সেই নায়কদের সিনেমাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতেন শক্তি কাপুর। কখনও তিনি ছিলেন ভয়ংকর অপরাধী, কখনও বা হাস্যকর চরিত্রে দর্শকদের মন জয় করেছেন। তাঁর অভিনয় ছাড়া ৮০ এবং ৯০ দশকের বলিউডকে কল্পনা করা কঠিন।
আজকের এই বিশেষ বিনোদনমূলক ব্লগে আমরা জানব শক্তি কাপুরের জন্ম, পরিবার, শিক্ষা, অভিনয়ে প্রবেশ, নাটকের প্রতি আগ্রহ, বলিউডে সংগ্রাম, কমেডি কিং হয়ে ওঠার গল্প এবং তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের নানা অজানা অধ্যায়।
জন্ম ও শৈশব
শক্তি কাপুরের আসল নাম সুনীল সিকান্দারলাল কাপুর। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ৩ সেপ্টেম্বর ১৯৫২ সালে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে। তাঁর পরিবার ছিল একটি সাধারণ পাঞ্জাবি পরিবার। দেশভাগের পর তাঁর পরিবারের সদস্যরা পাকিস্তান থেকে ভারতে চলে আসেন। তাঁদের জীবনে ছিল সংগ্রাম, অনিশ্চয়তা এবং নতুন করে শুরু করার গল্প।
শক্তি কাপুরের বাবা দিল্লিতে একটি টেইলারিং বা পোশাকের দোকান চালাতেন। ছোটবেলা থেকেই শক্তি ছিলেন অত্যন্ত চঞ্চল স্বভাবের। স্কুলে পড়ার সময় তিনি বন্ধুদের হাসাতেন, শিক্ষকদের নকল করতেন এবং নাটকে অভিনয় করতে ভালোবাসতেন। পরিবার যদিও চেয়েছিল তিনি ব্যবসা বা অন্য কোনো পেশায় যুক্ত হোন, কিন্তু তাঁর মন পড়ে থাকত অভিনয় আর সিনেমার জগতে।
দিল্লির ব্যস্ত পরিবেশে বড় হলেও শক্তি কাপুরের স্বপ্ন ছিল অনেক বড়। তিনি সিনেমা দেখতেন এবং বলিউডের অভিনেতাদের স্টাইল নকল করতেন। তাঁর মধ্যে তখন থেকেই একজন পারফর্মারের গুণ দেখা গিয়েছিল।
শিক্ষা জীবন
শক্তি কাপুর দিল্লিতেই তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত কিরোরি মাল কলেজে ভর্তি হন। কলেজ জীবনে তিনি নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং স্টেজ পারফরম্যান্সে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতেন।
এই সময়েই তাঁর অভিনয়ের প্রতি আকর্ষণ আরও গভীর হয়ে ওঠে। কলেজে বন্ধুদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম জনপ্রিয় ব্যক্তি। সবাই জানত, এই ছেলেটি একদিন বড় অভিনেতা হবে।
তবে তাঁর পরিবার প্রথমদিকে অভিনয়কে পেশা হিসেবে নিতে রাজি ছিল না। কারণ তখন অভিনয় জগতকে স্থায়ী পেশা হিসেবে অনেক পরিবার ভালো চোখে দেখত না। কিন্তু শক্তি কাপুর নিজের স্বপ্নে অটল ছিলেন।
কলেজ শেষ করার পর তিনি অভিনয় শেখার জন্য পুনের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (FTII)-এ ভর্তি হন। এই প্রতিষ্ঠান থেকেই বহু বিখ্যাত অভিনেতা এবং পরিচালক বেরিয়ে এসেছেন। এখানেই শক্তি কাপুর অভিনয়ের সূক্ষ্ম দিকগুলো শিখতে শুরু করেন।
নাটক এবং অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ
ছোটবেলা থেকেই শক্তি কাপুর নাটক করতে ভালোবাসতেন। স্কুলে যেকোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হলে তিনি মঞ্চে উঠতেন। কখনও কৌতুক অভিনেতা, কখনও খলনায়ক—সব চরিত্রেই তিনি প্রাণ ঢেলে অভিনয় করতেন।
কলেজে পড়ার সময় তিনি থিয়েটারের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হন। দিল্লির বিভিন্ন নাট্যদলে অংশ নিতেন। তাঁর সংলাপ বলার ভঙ্গি এবং মুখের এক্সপ্রেশন সবাইকে মুগ্ধ করত।
FTII-তে পড়ার সময় তিনি বহু প্রতিভাবান অভিনেতার সঙ্গে পরিচিত হন। সেই সময় তিনি বুঝতে পারেন যে বলিউডে জায়গা করে নিতে গেলে শুধু প্রতিভা নয়, দরকার কঠোর পরিশ্রম এবং ধৈর্য।
অভিনয় শেখার পাশাপাশি তিনি সিনিয়র অভিনেতাদের কাজ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন। বিশেষ করে কমেডি অভিনেতাদের অভিনয় তাঁকে খুব আকর্ষণ করত। পরে সেই অভিজ্ঞতাই তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সম্পদ হয়ে ওঠে।
বলিউডে প্রবেশের সংগ্রাম
বলিউডে প্রবেশ করা কখনও সহজ ছিল না। শক্তি কাপুরকেও বহু অডিশন দিতে হয়েছে। অনেক পরিচালক তাঁকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। কেউ বলতেন তাঁর চেহারা ভিলেনের মতো, কেউ বলতেন তিনি নায়ক হওয়ার মতো নন।
কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। মুম্বইয়ে এসে ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন। স্টুডিওর বাইরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতেন। কখনও দিনের পর দিন কোনো কাজ মিলত না।
এই কঠিন সময়েই তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতাকে আরও শানিত করেন। অবশেষে তাঁর ভাগ্যের দরজা খুলে যায়।
বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা এবং পরিচালক সুনীল দত্ত তাঁর মধ্যে সম্ভাবনা দেখতে পান। একটি ছবিতে সুযোগ দেওয়ার সময়ই তাঁর নাম বদলে “শক্তি কাপুর” রাখা হয়। এই নামই পরবর্তীতে গোটা ভারত জুড়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
প্রথম সিনেমা এবং পরিচিতি
শক্তি কাপুরের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের ছবিগুলোর মধ্যে ছিল ভিলেন চরিত্র। তাঁর চোখের চাহনি, কণ্ঠস্বর এবং অভিনয়ের তীব্রতা দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
তিনি খুব দ্রুত বলিউডে একজন নির্ভরযোগ্য পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে পরিচিতি পান। পরিচালকরা বুঝতে পারেন, এই অভিনেতা যেকোনো চরিত্রকে জীবন্ত করে তুলতে পারেন।
শুরুতে তিনি খলনায়কের চরিত্রে বেশি অভিনয় করতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর কমেডি প্রতিভা সামনে আসে। এবং সেই মুহূর্ত থেকেই বদলে যেতে থাকে তাঁর ক্যারিয়ার।
ভিলেন থেকে কমেডিয়ান
বলিউডে খুব কম অভিনেতাই আছেন যারা একইসঙ্গে ভয়ংকর ভিলেন এবং দুর্দান্ত কৌতুক অভিনেতা হিসেবে সফল হয়েছেন। শক্তি কাপুর সেই বিরল তালিকার অন্যতম নাম।
৮০-র দশকে তিনি অসংখ্য ছবিতে ভিলেনের চরিত্রে অভিনয় করেন। কিন্তু পরে গোবিন্দ, কাদের খান এবং জনি লিভারের সঙ্গে তাঁর কমেডি দৃশ্যগুলো দর্শকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
তাঁর অভিনীত “নন্দু”, “ক্রাইম মাস্টার গোগো” বা নানা অদ্ভুত চরিত্র আজও দর্শকদের মনে অমলিন। তাঁর সংলাপ বলার ভঙ্গি এতটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে তা সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ফিরত।
কমেডির ক্ষেত্রে তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল টাইমিং। সংলাপ বলার আগে বা পরে তাঁর মুখের অভিব্যক্তি দর্শকদের হাসিতে ফেটে পড়তে বাধ্য করত।
গোবিন্দ এবং শক্তি কাপুরের জুটি
৯০-এর দশকে গোবিন্দ এবং শক্তি কাপুরের জুটি বলিউডে এক আলাদা ইতিহাস তৈরি করে। এই দুই অভিনেতার কমেডি দৃশ্য মানেই ছিল হাসির ঝড়।
‘রাজা বাবু’, ‘কুলি নাম্বার ওয়ান’, ‘হিরো নাম্বার ওয়ান’, ‘আঁখিয়োঁ সে গোলি মারে’, ‘দুলহে রাজা’—এমন অসংখ্য ছবিতে তাঁদের অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।
শক্তি কাপুর শুধু সহ-অভিনেতা ছিলেন না, তিনি পুরো দৃশ্যকে প্রাণবন্ত করে তুলতেন। তাঁর উপস্থিতি মানেই ছিল বাড়তি বিনোদন।
অনেক সময় ছবির নায়ক-নায়িকার থেকেও বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠত তাঁর চরিত্র। দর্শকরা অপেক্ষা করতেন কখন তিনি পর্দায় আসবেন।
কাদের খান ও শক্তি কাপুর
কাদের খান এবং শক্তি কাপুরের কমেডি জুটি ছিল বলিউডের অন্যতম সেরা। কাদের খানের দুর্দান্ত সংলাপ এবং শক্তি কাপুরের অভিনয় মিলিয়ে সৃষ্টি হত অনবদ্য মুহূর্ত।
তাঁদের অনেক সিনেমার দৃশ্য আজও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। বিশেষ করে ৯০-এর দশকের বলিউড কমেডি বলতে এই জুটির নাম সবার আগে আসে।
কাদের খান এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, শক্তি কাপুরের মধ্যে এমন এক স্বাভাবিক কমেডি প্রতিভা আছে যা শেখানো যায় না।
ক্রাইম মাস্টার গোগো: কাল্ট চরিত্র
বলিউডের ইতিহাসে “ক্রাইম মাস্টার গোগো” চরিত্রটি এক অনন্য সৃষ্টি। ‘আন্দাজ আপনা আপনা’ ছবিতে শক্তি কাপুরের এই চরিত্র আজও দর্শকদের হাসায়।
তাঁর বিখ্যাত সংলাপ—“আঁখেঁ নিকাল কে গোটিয়া খেলতা হুঁ”—আজও মিম, ভিডিও এবং কমেডি শোতে ব্যবহৃত হয়।
এই চরিত্রের মাধ্যমে শক্তি কাপুর প্রমাণ করেছিলেন যে তিনি শুধু পার্শ্ব অভিনেতা নন, তিনি পুরো সিনেমার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারেন।
৮০ এবং ৯০ দশকের বলিউডে শক্তি কাপুর
একটা সময় এমন ছিল যখন বছরে ২০-৩০টি ছবিতে অভিনয় করতেন শক্তি কাপুর। তাঁর ব্যস্ততা ছিল আকাশছোঁয়া।
তিনি অমিতাভ বচ্চন, ধর্মেন্দ্র, জিতেন্দ্র, অনিল কাপুর, সানি দেওল, গোবিন্দ, সালমান খান, শাহরুখ খানসহ বহু তারকার সঙ্গে কাজ করেছেন।
তাঁর বিশেষত্ব ছিল তিনি ছোট চরিত্রকেও মনে রাখার মতো করে তুলতে পারতেন। তাই পরিচালকরা তাঁকে বারবার কাস্ট করতেন।
ব্যক্তিগত জীবন
শক্তি কাপুরের স্ত্রী হলেন শিবাঙ্গী কাপুর। তাঁদের দুই সন্তান—সিদ্ধান্ত কাপুর এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রদ্ধা কাপুর।
শ্রদ্ধা কাপুর বর্তমানে বলিউডের অন্যতম সফল অভিনেত্রী। মেয়ের সাফল্যে শক্তি কাপুর অত্যন্ত গর্বিত।
পারিবারিক জীবনে তিনি অত্যন্ত হাসিখুশি এবং বন্ধুবৎসল মানুষ হিসেবে পরিচিত। বহু সাক্ষাৎকারে তাঁর সহকর্মীরা বলেছেন, বাস্তব জীবনেও তিনি খুব মজার মানুষ।
বিতর্ক এবং জীবনের কঠিন সময়
প্রতিটি তারকার জীবনে যেমন সাফল্য থাকে, তেমনই থাকে বিতর্ক এবং কঠিন সময়। শক্তি কাপুরের জীবনেও কিছু বিতর্ক এসেছে।
তবে তিনি সবসময় চেষ্টা করেছেন নিজের কাজের মাধ্যমে দর্শকদের ভালোবাসা ফিরে পেতে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি আবারও বিনোদন জগতে নিজের অবস্থান মজবুত করেন।
টেলিভিশন এবং রিয়েলিটি শো
শুধু সিনেমা নয়, শক্তি কাপুর টেলিভিশনেও কাজ করেছেন। বিভিন্ন কমেডি শো এবং রিয়েলিটি শোতে তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের আনন্দ দিয়েছে।
তিনি ‘বিগ বস’-এ অংশগ্রহণ করে নতুন প্রজন্মের কাছেও পরিচিত হয়ে ওঠেন।
নতুন প্রজন্মের কাছে শক্তি কাপুর
আজকের প্রজন্মও শক্তি কাপুরকে ভুলে যায়নি। ইউটিউব, রিলস এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর কমেডি দৃশ্যগুলো এখনও ভাইরাল হয়।
তাঁর অভিনীত বহু সংলাপ আজ মিম সংস্কৃতির অংশ হয়ে গিয়েছে।
বলিউডে নতুন অভিনেতারা এখনও তাঁর অভিনয় থেকে শেখেন কীভাবে একটি ছোট চরিত্রকেও বড় করে তুলতে হয়।
অভিনয়ের বৈশিষ্ট্য
শক্তি কাপুরের অভিনয়ের কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে:
১. অসাধারণ কমেডি টাইমিং ২. ভিন্নধর্মী সংলাপ বলার স্টাইল ৩. মুখের অভিব্যক্তির দক্ষ ব্যবহার ৪. চরিত্র অনুযায়ী কণ্ঠস্বর পরিবর্তন ৫. দর্শকদের সঙ্গে তাত্ক্ষণিক সংযোগ তৈরি করার ক্ষমতা
এই গুণগুলিই তাঁকে অন্য অভিনেতাদের থেকে আলাদা করেছে।
বলিউডে তাঁর অবদান
শক্তি কাপুর শুধু একজন অভিনেতা নন, তিনি বলিউড কমেডির এক যুগের প্রতিনিধি।
তাঁর অভিনয় ছাড়া ৮০ এবং ৯০ দশকের বহু সিনেমা এত জনপ্রিয় হত না। তিনি প্রমাণ করেছেন, পার্শ্ব চরিত্রও দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিতে পারে।
বলিউডে কমেডিকে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সহকর্মীদের চোখে শক্তি কাপুর
বহু অভিনেতা এবং পরিচালক বলেছেন, শক্তি কাপুর সেটে অত্যন্ত প্রাণবন্ত মানুষ ছিলেন। তিনি পুরো ইউনিটকে হাসিখুশি রাখতেন।
গোবিন্দ একবার বলেছিলেন, শক্তি কাপুরের সঙ্গে কাজ করলে অভিনয় আরও সহজ হয়ে যায়। কারণ তিনি দৃশ্যকে স্বাভাবিকভাবে জীবন্ত করে তুলতে পারেন।
কাদের খানও তাঁকে বলিউডের অন্যতম সেরা কমেডিয়ান হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
পুরস্কার এবং সম্মান
দীর্ঘ অভিনয় জীবনে শক্তি কাপুর বহু পুরস্কার এবং সম্মান পেয়েছেন। যদিও তিনি সবসময় পুরস্কারের চেয়ে দর্শকদের ভালোবাসাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
তাঁর জনপ্রিয়তা প্রমাণ করে যে তিনি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন।
আজকের শক্তি কাপুর
বর্তমানে শক্তি কাপুর আগের মতো নিয়মিত সিনেমা না করলেও মাঝে মাঝে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন।
তিনি পরিবারকে সময় দেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। বলিউডের প্রবীণ অভিনেতাদের মধ্যে এখনও তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয়।
তাঁর পুরনো সিনেমাগুলো টেলিভিশন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এখনও সমানভাবে জনপ্রিয়।
শক্তি কাপুরের জনপ্রিয় কিছু সিনেমা
- আন্দাজ আপনা আপনা
- রাজা বাবু
- কুলি নাম্বার ওয়ান
- হিরো নাম্বার ওয়ান
- দুলহে রাজা
- আঁখিয়োঁ সে গোলি মারে
- তোফা
- চালবাজ
- বল রাধা বল
- বাপ নম্বরি বেটা দশ নম্বরি
এই ছবিগুলোতে তাঁর অভিনয় দর্শকদের আজও আনন্দ দেয়।
কমেডির রাজা হিসেবে জনপ্রিয়তা
বলিউডে কমেডির ইতিহাস লিখতে গেলে শক্তি কাপুরের নাম সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে।
তিনি এমন এক অভিনেতা যিনি দর্শকদের শুধু হাসাননি, বরং তাঁদের স্মৃতিতে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন।
তাঁর অভিনয় দেখলে বোঝা যায়, কমেডি করা মোটেও সহজ নয়। এর জন্য প্রয়োজন পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা, শরীরী ভাষা এবং সঠিক সময়জ্ঞান।
শক্তি কাপুর এই সব গুণের এক অসাধারণ সমন্বয়।
উপসংহার
দিল্লির এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে বলিউডের কমেডির বাদশা হয়ে ওঠার গল্প সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। শক্তি কাপুর প্রমাণ করেছেন যে কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য এবং প্রতিভা থাকলে সাফল্য একদিন না একদিন আসবেই।
তিনি শুধু একজন অভিনেতা নন, তিনি ভারতীয় বিনোদন জগতের এক উজ্জ্বল অধ্যায়। তাঁর অভিনয় আগামী প্রজন্মকেও হাসাবে, আনন্দ দেবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।
ভিলেন, কমেডিয়ান, চরিত্র অভিনেতা—সব পরিচয় ছাপিয়ে শক্তি কাপুর আজ বলিউডের এক কিংবদন্তি নাম। তাঁর অভিনয়ের জাদু কখনও পুরোনো হবে না।
দর্শকদের হৃদয়ে তিনি চিরকাল থাকবেন হাসির রাজা হিসেবে।
Shakti Kapoor এর বছরভিত্তিক জনপ্রিয় সিনেমার তালিকা
বলিউডের কমেডি কিং শক্তি কাপুর ৭০০-রও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ভিলেন, কমেডিয়ান এবং চরিত্র অভিনেতা হিসেবে তিনি ৮০ ও ৯০-এর দশকে বলিউডে এক আলাদা পরিচিতি তৈরি করেন।
১৯৭৭
-
খেল খেলাড়ি কা
১৯৭৮
-
কুরবানি
১৯৭৯
-
জুরমানা
১৯৮০
-
কুরবানি
-
রকি
১৯৮১
-
লাওয়ারিস
-
মেরি আওয়াজ শুনো
১৯৮২
-
সত্তে পে সত্তা
-
বাদলে কি আগ
১৯৮৩
-
হিম্মতওয়ালা
-
হিরো
-
মাওয়ালি
১৯৮৪
-
তোফা
-
আকলমান্দ
-
ইনকিলাব
১৯৮৫
-
বালিদান
-
মাস্টারজি
-
গিরফতার
১৯৮৬
-
করমা
-
জানবাজ
-
নাগিনা
১৯৮৭
-
ড্যান্স ড্যান্স
-
সত্যমেব জয়তে
-
হিফাজত
১৯৮৮
-
তেজাব
-
পেয়ার কা মন্দির
-
বিজয়
১৯৮৯
-
চালবাজ
-
গাইর কানুনী
-
জেন্টলম্যান
১৯৯০
-
বাপ নম্বরি বেটা দশ নম্বরি
-
পেয়ার কা দেবতা
-
ইজ্জতদার
১৯৯১
-
ফুল অউর কাঁটে
-
শঙ্করা
-
নাচনে ওয়ালে গানে ওয়ালে
১৯৯২
-
বোল রাধা বোল
-
ইন্সানিয়ত কে দেবতা
-
গীত
১৯৯৩
-
আঁখে
-
রাজা বাবু
-
খলনায়ক
১৯৯৪
-
আন্দাজ আপনা আপনা
-
আন্দাজ
-
আতি কি খেল
১৯৯৫
-
কুলি নম্বর ওয়ান
-
তাকদিরওয়ালা
-
দিওয়ানা মাস্তানা
১৯৯৬
-
সজন চলে সাসুরাল
-
রাজা হিন্দুস্তানি
-
লোফার
১৯৯৭
-
জুদাই
-
বানারসি বাবু
-
হিরো নম্বর ওয়ান
১৯৯৮
-
বড়ে মিঞা ছোটে মিঞা
-
ঘরওয়ালি বাহারওয়ালি
-
মহারাজা
১৯৯৯
-
হাসিনা মান যায়েগি
-
হাম আপকে দিল মে রহতে হ্যায়
-
জানম সমঝা করো
২০০০
-
কাহিঁ পেয়ার না হো যায়ে
-
ফির ভি দিল হ্যায় হিন্দুস্তানি
-
জোড়ি নম্বর ওয়ান
২০০১
-
এক রিশতা
-
জোড়ি নম্বর ওয়ান
-
এহসাস
২০০২
-
হাতিয়ার
-
২৩ মার্চ ১৯৩১: শহীদ
-
হান ম্যায়নে ভি পেয়ার কিয়া
২০০৩
-
হাঙ্গামা
-
তালাশ
২০০৪
-
হুলচুল
-
সুনো সাসুরজি
-
শিকার
২০০৫
-
গরম মসলা
-
ডি
২০০৬
-
মালামাল উইকলি
-
চুপ চুপ কে
-
ভাগম ভাগ
২০০৭
-
নেহলে পে দেহলা
২০০৮
-
জিমি
-
উডস্টক ভিলা
২০০৯
-
ডি দানা দান
২০১০
-
নো প্রবলেম
-
টিন পাত্তি
২০১১
-
বিন বুলায়ে বারাতি
-
চতুর সিং টু স্টার
২০১২
-
মিস্টার ভাট্টি অন চুট্টি
২০১৩
-
বস
-
সাহাসম
২০১৪
-
ম্যায় তেরা হিরো
-
ম্যারেজ দা গ্যারেজ
২০১৫
-
মুম্বাই ক্যান ড্যান্স সালা
২০১৬
-
ক্যা কুল হ্যায় হাম ৩
২০১৭
-
লাভ ইউ ফ্যামিলি
-
রক্তধার
২০১৮
-
দ্য জার্নি অফ কর্মা
-
রেঞ্জিলা রাজা
২০১৯
-
লুসিফার
-
দোস্তি জিন্দাবাদ
২০২০
-
শিমলা মির্চি
২০২১
-
সত্য সাই বাবা
২০২২
-
ন্যায়: দ্য জাস্টিস
২০২৩
-
অ্যানিম্যাল
-
ট্রায়াল পিরিয়ড
২০২৪
-
রকি দ্য স্লেভ
২০২৫
-
মেরে হাজব্যান্ড কি বিবি
-
ভেল্লাপান্তি
শক্তি কাপুরের সবচেয়ে জনপ্রিয় চরিত্র
-
ক্রাইম মাস্টার গোগো — আন্দাজ আপনা আপনা
-
নন্দু — রাজা বাবু
-
বাটুকনাথ — চালবাজ
-
গোঙ্গা — বোল রাধা বোল
অনেক বলিউড ভক্তের মতে, শক্তি কাপুর ছিলেন ৮০-৯০ দশকের সবচেয়ে বহুমুখী কমেডি অভিনেতাদের একজন। Reddit-এও অনেক দর্শক তাঁর কমেডি টাইমিং ও ভিলেন চরিত্রের প্রশংসা করেছেন।
