Site icon news100k

suzlon share price

Spread the love

 (Suzlon Energy Ltd – NSE: SUZLON)


suzlon share price

 সুজলনের শেয়ারে নতুন নড়াচড়া! ৪৮ টাকার ঘরে স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগকারীদের চোখ ২০২৬-এর দিকে

কলকাতা | ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | বাজার ডেস্ক

ভারতীয় শেয়ারবাজারে আজ নজরকাড়া পারফরম্যান্স দেখাল সুজলন এনার্জি লিমিটেড (NSE: SUZLON)। দীর্ঘদিনের টালমাটাল পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠে সংস্থার শেয়ার ফের একবার বিনিয়োগকারীদের আলোচনার কেন্দ্রে। বৃহস্পতিবার বাজার বন্ধের সময় সুজলনের শেয়ার দাঁড়িয়েছে ₹৪৮.০৫, যা আগের দিনের তুলনায় ₹০.২০ বা ০.৪২% ঊর্ধ্বমুখী

এই সামান্য উত্থানের আড়ালেই লুকিয়ে রয়েছে এক গভীর গল্প—সংস্থার আর্থিক ঘুরে দাঁড়ানো, নবায়নযোগ্য শক্তি খাতে সরকারের জোর, এবং আগামী দিনে শেয়ারটির সম্ভাব্য দিকনির্দেশ।


📊 আজকের বাজার চিত্র: সুজলন এক নজরে

আজকের ট্রেডিং সেশনে সুজলনের শেয়ারে ছিল যথেষ্ট অস্থিরতা—

বিশেষজ্ঞদের মতে, ₹৪৭–₹৪৮ রেঞ্জে শেয়ারটি এখন একটি স্ট্রং কনসোলিডেশন জোনে রয়েছে।


⏳ ৫২ সপ্তাহের রেঞ্জ: উচ্চতা থেকে বাস্তবতা

গত এক বছরে সুজলনের শেয়ার যাত্রা ছিল রোলার-কোস্টারের মতো—

একসময় ₹৭০-এর ঘর ছোঁয়া এই শেয়ার বর্তমানে প্রায় ৩৫% নিচে। তবে বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতন পুরোপুরি নেতিবাচক নয়—বরং এটি একটি স্বাস্থ্যকর সংশোধন (healthy correction)


suzlon share price

🏢 বাজারমূল্য ও মূল্যায়ন (Valuation)

বর্তমানে সুজলনের মোট বাজারমূল্য প্রায়—

নবায়নযোগ্য শক্তি খাতের অন্যান্য সংস্থার তুলনায় এই P/E অনুপাতকে অনেকেই মাঝারি ও যুক্তিসঙ্গত বলেই মনে করছেন।


⚡ নবায়নযোগ্য শক্তির হাওয়ায় সুজলন

ভারতের শক্তি ভবিষ্যৎ এখন স্পষ্টভাবে ঝুঁকছে রিনিউএবল এনার্জি-র দিকে। ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত সরকার ৫০০ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে—

এই সব মিলিয়ে সুজলনের সামনে ফের একবার সুযোগের দরজা খুলছে।


📈 ত্রৈমাসিক আর্থিক ফলাফল: চমকপ্রদ ঘুরে দাঁড়ানো

🔹 সেপ্টেম্বর ২০২৫ ত্রৈমাসিক (YoY তুলনা)

সুজলনের সাম্প্রতিক আর্থিক ফলাফল বাজারকে কার্যত চমকে দিয়েছে—

সূচক পরিমাণ বার্ষিক বৃদ্ধি
মোট উপার্জন ₹৩.৮৭ শত কোটি 🔼 +৮৪.৬৯%
মোট আয় ₹১.২৮ শত কোটি 🔼 +৫৩৯.০৮%
ডিলিউটেড EPS ₹০.৯৩ 🔼 +৫২০%
মোট লাভ মার্জিন ৩৩.১% 🔼 +২৪৫.৮৭%

এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে—সুজলন শুধুমাত্র টিকে নেই, বরং লাভের পথে ফিরছে।


📉 EPS ওঠানামা: অস্থিরতার ইঙ্গিত?

যদিও দীর্ঘমেয়াদি ছবিটা ইতিবাচক, তবুও ত্রৈমাসিক EPS ডেটা কিছুটা অস্থির—

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ওঠানামা মূলত—


💬 বাজার বিশেষজ্ঞদের মতামত

👉 টেকনিক্যাল অ্যানালিস্টদের বক্তব্য:
₹৪৬–₹৪৭ স্তরটি এখন শক্ত সাপোর্ট। ₹৫০ পার হলেই শেয়ারটি দ্রুত ₹৫৫-এর দিকে যেতে পারে।

👉 ফান্ডামেন্টাল বিশ্লেষকদের মত:
ঋণ কমানো, লাভের ধারাবাহিকতা ও সরকারি নীতি—এই তিনটি ফ্যাক্টর সুজলনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।


⚠️ ঝুঁকি কোথায়?

সব সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু ঝুঁকিও স্পষ্ট—

এই কারণেই অনেক বিশেষজ্ঞ সুজলনকে হাই রিস্ক–হাই রিওয়ার্ড শেয়ার হিসেবে দেখছেন।


🔮 ভবিষ্যৎ আউটলুক: ২০২৬-এ সুজলনের পথ

২০২৬ সালে সুজলনের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে—

  1. নতুন উইন্ড প্রজেক্ট অর্ডার
  2. EPS ধারাবাহিকভাবে পজিটিভ রাখা
  3. ঋণ আরও কমানো
  4. সরকারের রিনিউএবল পলিসি সাপোর্ট

এই সব দিক অনুকূলে থাকলে, বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন—
👉 মিড-টার্মে ₹৬০–₹৬৫
👉 লং-টার্মে ₹৭০+ অস্বাভাবিক নয়।


📝 উপসংহার: সুজলন—ঝুঁকি না সুযোগ?

সুজলন এনার্জি আজ আর শুধুমাত্র একটি “পেনি স্টক গল্প” নয়। এটি এখন এক টার্নঅ্যারাউন্ড স্টোরি। তবে এই গল্পে লাভ যেমন আছে, তেমনি ঝুঁকিও কম নয়।

দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারী, যারা রিনিউএবল এনার্জির ভবিষ্যতে বিশ্বাস করেন, তাঁদের জন্য সুজলন নজরে রাখার মতো একটি নাম। কিন্তু স্বল্পমেয়াদি ট্রেডারদের জন্য সতর্কতা জরুরি।


নিচে সুজলন শেয়ার মূল্যের ইতিহাস


সুজলন শেয়ার: এক নজরে গত এক বছরের ওঠানামা

২০২৫–২৬ বছরের মধ্যের বাজার‑চাপের মধ্যে সুজলন এনার্জির শেয়ার বেশ ব্যস্ত ছিল। ৫২‑সপ্তাহের ওপরের সীমা ও নীচের সীমা থেকে বোঝা যায়, বছরের মাঝামাঝি সময়ে তারা যখন শীর্ষে ছিল—তার পরিপ্রেক্ষিতে এখন কোথায় দাঁড়িয়েছে।

এই সংখ্যা শুধু চূড়ান্ত মান নয়—এগুলো এক বছরের চলন্ত গল্পের সংক্ষিপ্ত ছবি, যেখানে গ্রীন এনার্জির বাজার ও কোম্পানির আর্থিক রূপান্তর একে অন্যের সাথে নড়েচড়ে বসেছে।


কিছু মাসের ডাটা: চলতি বছরের শুরু থেকে বর্তমান

২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে কিছু দিনকে ধরে দেখা গেলে মূল্য প্রায় ₹৪৬–₹৫৩ ঘেরায় ওঠা‑নামা করেছে। উদাহরণস্বরূপ:

এই চলমান তারকা‑চক্রের মধ্যে, মাস বা even সপ্তাহের ছোট ওঠানামা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়—কারণ এগুলো দেখায় বাজারের স্বল্পমেয়াদি আবেগ ও তথ্য প্রবাহ কেমন। তবে বড় চিত্রে, শেয়ার এখন গত বছরের শীর্ষ থেকে অনেক দূরে; তবু একেবারে নীচের দিকেও শেষ হয়নি। এটি বাজারে একটা করেকশন বা পুনর্মূল্যায়নের ইঙ্গিত—যা ভবিষ্যৎ সম্ভাবনায় নতুন পড়াবে।


কেন গত এক বছরে এমন ওঠানামা?

১) আর্থিক ফলের প্রভাব
২০২৬ সালের শুরুতে, ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে সুজলন কনসোলিডেটেড লাভ বাড়িয়েছে; কিছুকাল আগে তাদের লাভ বৃদ্ধি নিয়ে সংবাদও এসেছে। একটি সাম্প্রতিক রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে সংস্থার নেট লাভ প্রায় ₹৪৪৫ কোটি, যেটি আগের বছর একই ত্রৈমাসিকের ₹৩৮৬ কোটি থেকে ১৫% বেশি। এই খবর প্রচারিত হয় ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬ তারিখে। (The Economic Times)

এই ধরনের খবর বাজারে ইতিবাচক মেজাজ জাগায়। কিন্তু জেনে রাখা দরকার—ত্রৈমাসিক লাভের মাঝারি বা স্বল্পমেয়াদি ওঠা‑নামায় মোট বছরব্যাপী প্রবণতা বদলায় না, বরং কখনো কখনো সাময়িক অস্থিরতা বাড়ায়। এই রিপোর্টে আরও বলা হয় যে এক বছরের তুলনায় আয়, ভলিউম ও মার্জিনে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে; একই সঙ্গে কিছুকাল আগে সাময়িকভাবে লাভ কমেছে বা বৃদ্ধি তাপমাত্রা ছিল ভিন্ন। এই সব ইঙ্গিত বাজারে চাপ দিতেও পারে।

২) উচ্চ মূল্য সূচক ও তুলনা
বিশেষ কিছু ফাইন্যান্স‑পোর্টাল যেমন Value Research Online দেখায়, ২০২৬ সালের শুরুতে P/E, P/B ইত্যাদি অনুপাত স্পষ্টভাবেই উল্লেখযোগ্য স্তরে। একটি তথ্য থেকে জানা যায়—৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ ~₹৪৯ এ শেয়ার থাকাকালীন পরিমাপগুলো কেমন ছিল; তাদের খণ্ডাংশে বলা হয়েছে প্রাথমিকভাবে P/E ২১.০৯ ইত্যাদি। (Value Research Online)

এই সব তুলনামূলক সূচক বাজারের আবারেক বার্তা দেয়—এটি অন্য ক্ষেত্রের মাঝারি বা সাম্যের তুলনায় কতটা সস্তা বা দামি। এই পরিমাপ সরাসরি সময়ের পরিবর্তনের সাথে একে অন্যের তুলনা করার সুযোগ দেয়। যখন বছর ধরে মূল্য কমে বা বেড়ে, তখন এই অনুপাতও ডাইনামিক হয়ে ওঠে; এতে আকর্ষণ বা সতর্কতা জন্মায়।

৩) বাজারের সেন্টিমেন্ট ও রিনিউএবল এনার্জির ওজন
সুজলন প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের রিনিউএবল এনার্জি, বিশেষ করে উইন্ড পার্কের নির্মাতা দেশে। রিনিউএবল এনার্জির ওপর গ্লোবাল ও দেশীয় ফোকাস বাড়ছে, কিন্তু একই সঙ্গে প্রতিযোগিতা, কাঁচামাল দাম, নীতিমালা ও লেনদেন প্রসেস ও প্রকল্প বিতরণে সময় লাগা—এসব অতীত ও বর্তমানের মূল্য ওঠানামায় প্রভাব ফেলে।

সাক্ষাৎকার, প্রস্তাবিত প্রকল্প, সরকারী পলিসি—এসব শেয়ারের দামকে আদ্রভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। যখন সংস্থার অর্ডার বুক বা আবিষ্কৃত বাজেট প্রেক্ষিত স্বাস্থ্যকর থাকে, তখন শেয়ার প্রাইস হাইলাইটে আসে; আবার চার‑ছয় মাস পর অতিরিক্ত অস্থিরতা দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে যখন বাজার উচ্চস্বরে খবর বা সার্কুলার দেখে থাকে।


নীচ থেকে শীর্ষ: দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ

ভিডিও, সংবাদ, অ্যানালিস্ট টন—একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত লাভের বা ক্ষতির ইঙ্গিত হোতেই পারে। কিন্তু এক বছরের চিত্র দেখলে এটি স্পষ্ট যে—সুজলনের শেয়ার এক গ্লোবাল কম্পিটিশনের চাপে দীর্ঘমেয়াদি লেভেল পরিবর্তনের দিকে এগোচ্ছে।


ভবিষ্যত ঠিকানায় কিছু প্রশ্ন

১) ভবিষ্যতে শেয়ার কখন বা কেমন ভাবে শীর্ষ ছুঁতে পারে?
২) রিনিউএবল জগতে নতুন অর্ডার ও পরিবেশগত নীতি কেমন প্রভাব ফেলবে?
৩) প্রকাশিত রিপোর্টের মাঝারি লাভ বা ক্ষতির পর ভবিষ্যতে বাজার কীভাবে সাড়া দেবে?
৪) দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারী কি বর্তমান দামে অপেক্ষা করবেন, নাকি এমন এক চড়াই‑অবতারণা দেখে পরবর্তী উচ্চ বিনিয়োগ অবস্থানে যাবেন?

এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করে—অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, গ্লোবাল এনার্জি দাম, প্রকল্পের বাস্তবায়ন সময় ও প্রতিযোগী শক্তি। কিন্তু গত বছরের চিত্র থেকে বোঝা যায় যে সুজলন এখন স্বল্পমেয়াদি ওঠানামায় আটকে নেই; আর্থিক ও বাজারের সহায়তায় এটি পুনরুদ্ধার বা নতুন ঊর্ধ্বগতি দেখাতে পারে।


শেষের কথা

সুজলন শেয়ার মূল্য ইতিহাস শুধু সংখ্যার খেলা নয়; এটি দেশের রিনিউএবল বিদ্যুৎ, নীতি, প্রজেক্ট বাস্তবায়ন, বাজারের অনুভূতি—এসব বার্তা একত্রিত করে। মূল্য যখন শীর্ষে, তখন শেয়ার আলোচনায় থাকে; নীচে নামলে আবার উত্তেজনা তৈরি হয়।

এই দৃষ্টিকোণ থেকে, ইতিহাস হলো একটি রংধনু—যা নীচ থেকে শীর্ষ, শীর্ষ থেকে নীচে ফিরে আসে, এবং প্রতিটি মানুষের জন্য আলাদা অর্থ নিয়ে আসে। বিনিয়োগকারী, ট্রেডার, বিশ্লেষক—যারা এই খেলায় অংশ নিচ্ছেন, তাঁদের জন্য গত এক বছরে দেখা ওঠানামা শুধু সর্তকবার্তা নয়; ভবিষ্যতের কাহিনীর অংশ।

শেয়ার মূল্য ইতিহাসে আজকের দিন শুধু একটি পাতা—আগামী দিনের পাতায় কী লেখা হবে সেই অপেক্ষায়।


 

Please follow and like us:
Exit mobile version