Site icon news100k

Yuva Sathi: বাংলার যুব সাথী প্রকল্পে আবেদন কী ভাবে? যোগ্যতা, নথি, শর্ত ও সম্পূর্ণ গাইড

Spread the love

Yuva Sathi: বাংলার যুব সাথী প্রকল্পে আবেদন কী ভাবে? যোগ্যতা, নথি, শর্ত ও সম্পূর্ণ গাইড

পশ্চিমবঙ্গের কর্মহীন যুবক-যুবতীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছে নতুন সামাজিক উদ্যোগ— Yuva Sathi বা বাংলার যুব সাথী প্রকল্প। অন্তর্বর্তী বাজেটে এই প্রকল্পের ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই রাজ্য জুড়ে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। কবে থেকে চালু হবে, কারা আবেদন করতে পারবেন, কত টাকা মিলবে, কী কী নথি লাগবে— সবকিছু নিয়েই সাধারণ মানুষের আগ্রহ তুঙ্গে।

এই প্রতিবেদনে আমরা ধাপে ধাপে জানব—

চলুন শুরু করা যাক বিস্তারিত আলোচনা।


যুব সাথী প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য কী?

বর্তমান সময়ে উচ্চশিক্ষিত হলেও বহু তরুণ-তরুণী কর্মসংস্থানের সুযোগের অভাবে বেকার অবস্থায় রয়েছেন। সেই সমস্যার কিছুটা লাঘব করতে এবং চাকরি খোঁজার সময়টুকুতে ন্যূনতম আর্থিক সহায়তা দিতে এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে।

এই প্রকল্পের লক্ষ্য:

সরকারের মতে, এটি সাময়িক আর্থিক সহায়তা হলেও দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পথ তৈরি করবে।


কত টাকা মিলবে?

এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য আবেদনকারীরা প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা করে অর্থসাহায্য পাবেন।


কারা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন?

নিচের শর্তগুলি পূরণ করলে আবেদন করা যাবে—

১) বয়সসীমা

২) শিক্ষাগত যোগ্যতা

৩) কর্মসংস্থান

৪) আর্থিক সহায়তার মেয়াদ

৫) অন্যান্য প্রকল্পের সুবিধাভোগী

স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট কাম মিনস স্কলারশিপ, রূপশ্রী, শিক্ষাশ্রী ইত্যাদি প্রকল্পের সুবিধাভোগীরাও আবেদন করতে পারবেন (যদি কর্মহীন হন)।


কারা সুবিধা পাবেন না?

নিচের ব্যক্তিরা এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত নন—

অর্থাৎ, একই সঙ্গে একাধিক আর্থিক সহায়তা প্রকল্পের সুবিধা নেওয়া যাবে না।


আবেদন করবেন কীভাবে? (অফলাইন পদ্ধতি)

রাজ্য সরকার “দুয়ারে সরকার” ক্যাম্পের আদলে বিধানসভা ভিত্তিক ক্যাম্পের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করবে।

আবেদন প্রক্রিয়া:

১. নির্দিষ্ট তারিখে বিধানসভা এলাকায় ক্যাম্পে যান
২. আবেদনপত্র সংগ্রহ করুন
৩. সঠিক তথ্য দিয়ে ফর্ম পূরণ করুন
৪. প্রয়োজনীয় নথির ফটোকপি সংযুক্ত করুন
৫. জমা দিয়ে রিসিভ কপি সংগ্রহ করুন

আবেদন গ্রহণ হলে মোবাইল নম্বরে এসএমএস পাঠানো হবে।


অনলাইনে আবেদন করা যাবে?

বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ অনলাইন আবেদন পোর্টাল চালু হয়নি। তবে সরকারি ওয়েবসাইটে আবেদনপত্র ডাউনলোড করার সুযোগ থাকতে পারে।

⚠️ সতর্কতা:
ইতিমধ্যেই বহু ভুয়ো ওয়েবসাইট তৈরি হয়েছে। কোনও অজানা পোর্টালে ব্যক্তিগত তথ্য দেবেন না। শুধুমাত্র সরকারি ওয়েবসাইটেই ভরসা রাখুন।


আবেদন করতে কী কী নথি লাগবে?

নিচের নথিগুলি আগে থেকে প্রস্তুত রাখুন—

১) আধার কার্ড
২) মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড
৩) শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণপত্র
৪) ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ
৫) পাসপোর্ট সাইজ ছবি
৬) সক্রিয় মোবাইল নম্বর

সব নথি পরিষ্কার ও আপডেট থাকা জরুরি।


আবেদন করার সময় যে ভুলগুলি এড়াবেন


প্রকল্পের সম্ভাব্য প্রভাব

এই প্রকল্পের মাধ্যমে—

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে টেকসই কর্মসংস্থানই আসল সমাধান।


প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন: কলেজ পড়ুয়া কি আবেদন করতে পারবেন?

যদি ২১ বছরের বেশি হন এবং কর্মহীন হন, তবে আবেদন করতে পারেন।

প্রশ্ন: স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য কি আবেদন করতে পারবেন?

যদি নিয়মিত আয় না থাকে, তাহলে যোগ্য হতে পারেন।

প্রশ্ন: টাকা কবে থেকে পাওয়া যাবে?

আবেদন অনুমোদনের পর নির্দিষ্ট সময়ে ব্যাঙ্কে পাঠানো হবে।


ভবিষ্যতে কী হতে পারে?

সম্ভাবনা রয়েছে—


বাংলার যুব সাথী প্রকল্প রাজ্যের কর্মহীন যুবসমাজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। মাসিক ১,৫০০ টাকা হয়তো বড় অঙ্ক নয়, কিন্তু চাকরি খোঁজার সময় এটি মানসিক ও আর্থিক সহায়তা দেবে।

তবে মনে রাখতে হবে— এটি স্থায়ী সমাধান নয়। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য যুবকদের কর্মসংস্থানের পথে এগিয়ে দেওয়া। তাই আবেদন করার পাশাপাশি দক্ষতা বাড়ানো, প্রশিক্ষণ নেওয়া এবং চাকরি খোঁজার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

সরকারি ঘোষণার আপডেট নজরে রাখুন এবং শুধুমাত্র সরকারি সূত্রেই তথ্য যাচাই করুন।


 

Please follow and like us:
Exit mobile version