Ajay Devgn বলিউডের অ্যাকশন সম্রাট
Ajay Devgn: সংগ্রাম, সাহস আর সাফল্যের এক নাটকীয় জীবনগাথা
বলিউডের ইতিহাসে এমন কিছু অভিনেতা আছেন, যাদের নাম শুনলেই দর্শকের চোখের সামনে ভেসে ওঠে শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব, দুর্দান্ত অ্যাকশন এবং আবেগঘন অভিনয়। সেই তালিকায় প্রথম সারিতেই রয়েছেন Ajay Devgn।
তিনি শুধু একজন অভিনেতা নন, বরং ভারতীয় সিনেমার এক জীবন্ত কিংবদন্তি।
অসংখ্য সুপারহিট সিনেমা, জাতীয় পুরস্কার, কোটি কোটি ভক্ত এবং প্রায় তিন দশকের বেশি সময় ধরে বলিউডে রাজত্ব—সব মিলিয়ে তাঁর জীবন যেন এক সিনেমার গল্প।
আজকের এই বিশেষ ব্লগে আমরা জানবো অজয় দেবগণের জন্ম, পরিবার, শৈশব, শিক্ষা, সিনেমায় আসার গল্প, সংগ্রাম, প্রেম, বিয়ে, সুপারহিট সিনেমা এবং তাঁর জীবনের নানা অজানা অধ্যায়।
জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়
Ajay Devgn-এর আসল নাম ছিল বিশাল বীরু দেবগণ।
তিনি জন্মগ্রহণ করেন ২ এপ্রিল ১৯৬৯ সালে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে।
তাঁর পরিবার মূলত পাঞ্জাবি হিন্দু পরিবার।
ছোটবেলা থেকেই অজয়ের পরিবার সিনেমা জগতের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিল। তাঁর বাবা Veeru Devgan ছিলেন বলিউডের বিখ্যাত স্টান্ট ও অ্যাকশন পরিচালক।
মা Veena Devgan ছিলেন একজন চলচ্চিত্র প্রযোজক।
অজয়ের পরিবারের পরিবেশ ছিল পুরোপুরি সিনেমাময়।
বাড়িতে প্রতিদিন অভিনেতা, পরিচালক, স্টান্টম্যানদের আনাগোনা ছিল।
ছোট্ট অজয় সেই পরিবেশে বড় হতে হতে সিনেমার প্রতি এক অন্যরকম আকর্ষণ অনুভব করতে শুরু করেন।
শৈশবের দিনগুলো
অজয় ছোটবেলা থেকেই খুব শান্ত ও লাজুক স্বভাবের ছিলেন।
স্কুলে তিনি খুব বেশি কথা বলতেন না।
বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করলেও নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে পছন্দ করতেন না।
তবে তাঁর মধ্যে সাহসিকতার অভাব ছিল না।
বাবা যেহেতু স্টান্ট পরিচালক ছিলেন, তাই ছোটবেলা থেকেই তিনি শুটিং সেটে যেতেন এবং বিভিন্ন অ্যাকশন দৃশ্য দেখতেন।
গাড়ি চালানো, বাইক স্টান্ট, ফাইট সিন—এসবের প্রতি তাঁর আগ্রহ তখন থেকেই তৈরি হয়।
শোনা যায়, খুব অল্প বয়সেই তিনি বাবার কাছ থেকে গাড়ি চালানো শিখে ফেলেছিলেন।
অন্যান্য বাচ্চারা যখন খেলনা নিয়ে খেলতো, তখন অজয় স্টান্ট ও অ্যাকশন দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হতেন।
শিক্ষাজীবন
Ajay Devgn মুম্বাইয়ের বিখ্যাত Silver Beach High School-এ পড়াশোনা করেন।
এরপর তিনি মিঠিবাই কলেজে ভর্তি হন।
যদিও পড়াশোনায় তিনি খারাপ ছিলেন না, কিন্তু তাঁর মন সবসময় সিনেমার দুনিয়ার দিকে ঝুঁকে থাকতো।
কলেজ জীবনে তিনি প্রায়ই শুটিং সেটে যেতেন এবং সিনেমা তৈরির বিভিন্ন দিক কাছ থেকে দেখতেন।
সেই সময়ই তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে—
“আমি কি একদিন বড় অভিনেতা হতে পারবো?”
কীভাবে সিনেমার জগতে প্রবেশ?
অজয়ের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে ১৯৯১ সালে।
তাঁর বাবা Veeru Devgan বলিউডে অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন।
তবে অজয় কখনও শুধুমাত্র বাবার পরিচয়ে সফল হতে চাননি।
তিনি নিজের আলাদা পরিচয় গড়তে চেয়েছিলেন।
এই সময় পরিচালকরা নতুন অ্যাকশন হিরো খুঁজছিলেন।
অজয়ের ব্যক্তিত্ব, চোখের দৃষ্টি এবং নীরব কিন্তু শক্তিশালী উপস্থিতি সবার নজর কাড়ে।
এরপর তিনি সুযোগ পান তাঁর প্রথম সিনেমা Phool Aur Kaante-এ অভিনয়ের।
সেই ঐতিহাসিক এন্ট্রি
বলিউডের ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় ডেবিউ ছিল অজয় দেবগণের।
Phool Aur Kaante সিনেমার শুরুতেই তিনি দুটি চলন্ত মোটরসাইকেলের উপর পা রেখে যে স্টান্ট করেছিলেন, তা রাতারাতি তাঁকে সুপারস্টার বানিয়ে দেয়।
সেই দৃশ্য আজও ভারতীয় সিনেমার অন্যতম আইকনিক এন্ট্রি হিসেবে পরিচিত।
দর্শকরা এক নতুন ধরনের নায়ক পেলেন—
যিনি কম কথা বলেন, কিন্তু চোখের ভাষাতেই সব প্রকাশ করেন।
কেন তিনি অভিনয় জগতে এলেন?
অজয়ের জীবনে সিনেমা ছিল শুধুমাত্র পেশা নয়, বরং আবেগ।
তিনি ছোটবেলা থেকেই দেখেছেন, কীভাবে একটি সিনেমা মানুষের মুখে হাসি ফোটায়, কাঁদায় এবং অনুপ্রেরণা দেয়।
এই অনুভূতিই তাঁকে অভিনয়ের দিকে টেনে আনে।
অজয় বিশ্বাস করতেন,
“নায়ক মানে শুধু নাচ বা স্টাইল নয়, বরং চরিত্রের গভীরতা।”
এই কারণেই তিনি সবসময় ভিন্ন ধরনের চরিত্র বেছে নিয়েছেন।
সংগ্রামের দিন
যদিও তাঁর পরিবার সিনেমা জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তবুও অজয়ের পথ খুব সহজ ছিল না।
অনেকেই বলতেন, তিনি দেখতে প্রচলিত বলিউড হিরোদের মতো নন।
কারও মতে তিনি খুব শান্ত, আবার কেউ বলতেন তাঁর অভিব্যক্তি কম।
কিন্তু অজয় নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে সব সমালোচনার জবাব দেন।
তিনি প্রমাণ করেন, সত্যিকারের অভিনেতার পরিচয় তাঁর অভিনয়ে।
একের পর এক সুপারহিট সিনেমা
ডেবিউয়ের পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে।
তিনি উপহার দিয়েছেন অসংখ্য ব্লকবাস্টার সিনেমা, যেমন—
- Jigar
- Dilwale
- Hum Dil De Chuke Sanam
- The Legend of Bhagat Singh
- Golmaal
- Singham
- Drishyam
- Tanhaji
প্রতিটি সিনেমায় তিনি নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন।
জাতীয় পুরস্কার জয়
Ajay Devgn তাঁর অসাধারণ অভিনয়ের জন্য একাধিক জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেছেন।
বিশেষ করে The Legend of Bhagat Singh সিনেমায় শহীদ ভগৎ সিংয়ের চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের চোখে জল এনে দিয়েছিল।
পরে Zakhm সিনেমার জন্যও তিনি ব্যাপক প্রশংসা পান।
প্রেমের গল্প ও বিয়ে
বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় দম্পতি হলেন Ajay Devgn এবং Kajol।
দুজনের পরিচয় হয় সিনেমার শুটিং সেটে।
প্রথমদিকে তাঁরা খুব বেশি কথা বলতেন না।
কারণ কাজলের স্বভাব ছিল প্রাণবন্ত আর অজয় ছিলেন ভীষণ চুপচাপ।
কিন্তু ধীরে ধীরে তাঁদের বন্ধুত্ব প্রেমে পরিণত হয়।
১৯৯৯ সালে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
বর্তমানে তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে।
অজয়ের ব্যক্তিত্ব কেন আলাদা?
বলিউডে যেখানে অনেক তারকা সবসময় লাইমলাইটে থাকতে পছন্দ করেন, সেখানে অজয় দেবগণ বরাবরই ব্যক্তিগত জীবনকে শান্ত রাখতে ভালোবাসেন।
তিনি পার্টি বা অতিরিক্ত প্রচারে খুব কম দেখা দেন।
তাঁর এই রহস্যময় ব্যক্তিত্বই তাঁকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
অ্যাকশন হিরো থেকে শক্তিশালী অভিনেতা
অনেকেই ভাবতেন অজয় শুধুই অ্যাকশন সিনেমার নায়ক।
কিন্তু তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন যে তিনি একজন অসাধারণ অভিনেতা।
Drishyam-এ তাঁর অভিনয় ছিল নিখুঁত।
একজন সাধারণ পরিবারের বাবার চরিত্রে তাঁর আবেগ দর্শকদের মুগ্ধ করে।
আবার Tanhaji-এ তিনি ঐতিহাসিক চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করেন।
পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবে অজয়
অভিনয়ের পাশাপাশি অজয় পরিচালনা ও প্রযোজনাতেও সফল।
তিনি নিজের প্রযোজনা সংস্থা তৈরি করেন এবং একাধিক সিনেমা প্রযোজনা করেন।
বলিউডে প্রযুক্তিগত উন্নয়নেও তাঁর অবদান রয়েছে।
তিনি ভারতের আধুনিক VFX ও ডিজিটাল সিনেমা প্রযুক্তি ব্যবহারের অন্যতম পথিকৃৎ।
বাস্তব জীবনের অজয়
Ajay Devgn বাস্তব জীবনে অত্যন্ত পারিবারিক মানুষ।
তিনি পরিবারকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন।
শুটিংয়ের ব্যস্ততার মাঝেও স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য সময় বের করেন।
বন্ধুদের মতে, তিনি খুব বিশ্বস্ত এবং সাহায্যপ্রবণ মানুষ।
বলিউডে তাঁর প্রভাব
আজকের প্রজন্মের বহু অভিনেতা অজয় দেবগণকে অনুপ্রেরণা হিসেবে মানেন।
কারণ তিনি কখনও ট্রেন্ডের পিছনে ছোটেননি।
বরং নিজের স্টাইল ও অভিনয়ের মাধ্যমে আলাদা পরিচয় গড়ে তুলেছেন।
তাঁর সিনেমাগুলোতে দেশপ্রেম, পরিবার, আবেগ এবং ন্যায়ের বার্তা থাকে।
পুরস্কার ও সম্মাননা
Ajay Devgn পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা।
তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
- জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার
- ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড
- পদ্মশ্রী সম্মান
- একাধিক সমালোচক পুরস্কার
এই সম্মানগুলো তাঁর দীর্ঘ পরিশ্রম ও প্রতিভার স্বীকৃতি।
অজয়ের জীবনের কিছু অজানা তথ্য
১. তিনি ছোটবেলা থেকেই গাড়ির প্রতি ভীষণ আগ্রহী ছিলেন।
২. তিনি বাস্তব জীবনে খুব কম কথা বলেন।
৩. স্টান্টের অনেক দৃশ্য নিজেই করতে পছন্দ করেন।
৪. তিনি ধূমপান ছাড়ার জন্য একসময় কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
৫. পরিবার ছাড়া তিনি খুব কম মানুষের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক রাখেন।
দর্শকদের কাছে কেন এত জনপ্রিয়?
অজয় দেবগণের জনপ্রিয়তার মূল কারণ হলো তাঁর বাস্তবধর্মী অভিনয়।
তিনি কখনও অতিরিক্ত নাটকীয়তা দেখান না।
বরং চোখের ভাষা ও সংলাপের মাধ্যমে চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলেন।
তাঁর গম্ভীর কণ্ঠস্বর এবং শক্তিশালী স্ক্রিন উপস্থিতি তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা
Ajay Devgn-এর জীবন নতুন প্রজন্মের কাছে বড় অনুপ্রেরণা।
তিনি দেখিয়েছেন—
চুপচাপ স্বভাবের মানুষও কঠোর পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে পারেন।
দিল্লির এক সাধারণ ছেলেকে আজ পুরো বিশ্ব চেনে বলিউডের অ্যাকশন কিং হিসেবে।
Ajay Devgn এর বছরভিত্তিক সব সিনেমার তালিকা | বলিউডের অ্যাকশন কিং-এর চলচ্চিত্র যাত্রা
বলিউডে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজত্ব করছেন Ajay Devgn।
অ্যাকশন, রোম্যান্স, কমেডি, থ্রিলার, দেশপ্রেম—প্রতিটি ধারার সিনেমাতেই তিনি নিজের অভিনয়ের ছাপ রেখেছেন।
১৯৯১ সালে ডেবিউ করার পর থেকে আজ পর্যন্ত অসংখ্য সুপারহিট সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি।
১৯৯১ সাল
- Phool Aur Kaante
এটাই ছিল অজয় দেবগণের প্রথম সিনেমা। মোটরসাইকেলের উপর দাঁড়িয়ে তাঁর এন্ট্রি আজও আইকনিক।
১৯৯২ সাল
- Jigar
- Platform
- Divya Shakti
১৯৯৩ সাল
- Sangram
- Ek Hi Raasta
- Bedardi
- Dhanwaan
- Shaktiman
১৯৯৪ সাল
- Dilwale
- Suhaag
- Vijaypath
- Kanoon
১৯৯৫ সাল
- Naajayaz
- Haqeeqat
- Gundaraj
- Hulchul
১৯৯৬ সাল
- Jaan
- Diljale
১৯৯৭ সাল
- Ishq
- Itihaas
১৯৯৮ সাল
- Pyaar To Hona Hi Tha
- Major Saab
- Zakhm
১৯৯৯ সাল
- Hum Dil De Chuke Sanam
- Hogi Pyaar Ki Jeet
- Kachche Dhaage
- Dil Kya Kare
২০০০ সাল
- Raju Chacha
- Deewane
২০০১ সাল
- Yeh Raaste Hain Pyaar Ke
- Lajja
- Tera Mera Saath Rahen
২০০২ সাল
- Company
- The Legend of Bhagat Singh
- Deewangee
২০০৩ সাল
- Qayamat
- Gangaajal
- LOC Kargil
২০০৪ সাল
- Khakee
- Masti
- Yuva
- Raincoat
২০০৫ সাল
- Insan
- Blackmail
- Kaal
- Main Aisa Hi Hoon
- Apaharan
২০০৬ সাল
- Golmaal
- Omkara
- Cash
২০০৭–২০১০ সাল
- Halla Bol
- Golmaal Returns
- All the Best
- London Dreams
- Atithi Tum Kab Jaoge?
- Once Upon a Time in Mumbaai
- Golmaal 3
২০১১ সাল
- Singham
- Rascals
২০১২ সাল
- Bol Bachchan
- Son of Sardaar
২০১৩ সাল
- Himmatwala
- Satyagraha
২০১৪ সাল
- Singham Returns
- Action Jackson
২০১৫ সাল
- Drishyam
২০১৬ সাল
- Shivaay
২০১৭ সাল
- Baadshaho
- Golmaal Again
২০১৮ সাল
- Raid
- Total Dhamaal
২০১৯ সাল
- De De Pyaar De
২০২০ সাল
- Tanhaji
২০২১ সাল
- Bhuj: The Pride of India
২০২২ সাল
- Gangubai Kathiawadi
- Runway 34
- Thank God
- Drishyam 2
২০২৩ সাল
- Bholaa
- Maidaan
২০২৪ ও পরবর্তী সিনেমা
- Maidaan
- Singham Again
অজয় দেবগণের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারের বিশেষ দিক
Ajay Devgn শুধু অ্যাকশন হিরো নন, তিনি বলিউডের অন্যতম বহুমুখী অভিনেতা।
কমেডি, রোম্যান্স, থ্রিলার, দেশপ্রেম, ঐতিহাসিক—সব ধরনের চরিত্রে তিনি সফল হয়েছেন।
বিশেষ করে
- Drishyam
- Singham
- Golmaal
- Tanhaji
এই সিনেমাগুলো তাঁকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।
উপসংহার
১৯৯১ সালের এক তরুণ অ্যাকশন হিরো থেকে আজকের বলিউড সুপারস্টার—Ajay Devgn-এর এই যাত্রা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।
Ajay Devgn এর সুপারহিট সব গান | রোম্যান্স, অ্যাকশন ও আবেগে ভরা এক সুরের যাত্রা
বলিউডে Ajay Devgn শুধু অ্যাকশন কিং হিসেবেই জনপ্রিয় নন, তাঁর সিনেমার গানগুলোও কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।
৯০-এর দশকের রোম্যান্টিক গান থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের আবেগঘন ও পার্টি সং—সব ধরনের গানেই তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।
১৯৯১–১৯৯৫ : ক্যারিয়ারের শুরুর রোম্যান্টিক গান
জনপ্রিয় গান
- Tumse Milne Ko Dil Karta Hai — Phool Aur Kaante
- Premi Aashiq Aawara — Phool Aur Kaante
- Jeeta Tha Jiske Liye — Dilwale
- Mauka Milega To Hum — Dilwale
- Tere Pyar Mein Main — Suhaag
- Pyaar Pyaar Mujhe Pyaar Ho Gaya — Vijaypath
এই সময়ের গানগুলোতে ছিল ৯০-এর দশকের মিষ্টি প্রেম আর আবেগের ছোঁয়া।
১৯৯৬–১৯৯৯ : রোম্যান্স ও আবেগের স্বর্ণযুগ
জনপ্রিয় গান
- Ho Nahi Sakta — Diljale
- Neend Churayi Meri — Ishq
- Dekho Dekho Jaanam — Ishq
- Ajnabi Mujhko Itna Bata — Pyaar To Hona Hi Tha
- Pyaar To Hona Hi Tha — Pyaar To Hona Hi Tha
- Chand Chupa Badal Mein — Hum Dil De Chuke Sanam
- Tadap Tadap Ke — Hum Dil De Chuke Sanam
- Aankhon Ki Gustakhiyan — Hum Dil De Chuke Sanam
এই সময়েই অজয় দেবগণের রোম্যান্টিক ইমেজ আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
২০০০–২০০৫ : আবেগ, পরিবার ও নাটকীয় গানের যুগ
জনপ্রিয় গান
- Dil Dil — Raju Chacha
- Tune Mujhe Pehchana Nahi — Raju Chacha
- Yeh Dil Mohabbat Mein — Yeh Raaste Hain Pyaar Ke
- Aankhein Bhi Hoti Hai Dil Ki Zubaan — Haasil
- Masti Masti — Masti
- Subah Ki Dhup Si — Dhoop
এই সময়ের গানগুলোতে ছিল আবেগ, পরিবার এবং জীবনের বাস্তব অনুভূতি।
২০০৬–২০১০ : কমেডি ও মডার্ন হিট গান
জনপ্রিয় গান
- Golmaal Title Song — Golmaal
- Mast Malang — Golmaal
- Beedi Jalaile — Omkara
- Ashiq Banaya Aapne Remix Appearance — Cash
- Kyon Ki Itna Pyar — Halla Bol
- Tu Jaane Na — Ajab Prem Ki Ghazab Kahani (বিশেষ উপস্থিতি)
- Pee Loon Remix — Once Upon a Time in Mumbaai
এই সময় অজয়ের সিনেমায় কমেডি ও স্টাইলিশ গানের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে।
২০১১–২০১৫ : অ্যাকশন ও আবেগঘন গানের বিস্ফোরণ
জনপ্রিয় গান
- Singham Title Track — Singham
- Saathiyaa — Singham
- Chalao Na Naino Se — Bol Bachchan
- Po Po Song — Son of Sardaar
- Rani Tu Mein Raja — Son of Sardaar
- Suno Na Sangemarmar — Youngistaan (বিশেষ জনপ্রিয়তা)
- Drishyam Theme Song — Drishyam
২০১৬–২০২০ : নতুন যুগের সুপারহিট গান
জনপ্রিয় গান
- Bolo Har Har Har — Shivaay
- Darkhaast — Shivaay
- Mere Rashke Qamar — Baadshaho
- Sanu Ek Pal Chain — Raid
- Speaker Phat Jaaye — Total Dhamaal
- Shankara Re Shankara — Tanhaji
- Maay Bhavani — Tanhaji
২০২১–বর্তমান : আধুনিক বলিউডের মিউজিক্যাল হিট
জনপ্রিয় গান
- The Fall Song — Runway 34
- Sahi Galat — Drishyam 2
- Nazar Lag Jayegi — Bholaa
- Dil Hai Bholaa — Bholaa
- Team India Hain Hum — Maidaan
অজয় দেবগণের গানের বিশেষ বৈশিষ্ট্য
Ajay Devgn-এর গানগুলো সাধারণত তিনটি জিনিসের জন্য বিখ্যাত—
- গভীর আবেগ
- শক্তিশালী রোম্যান্স
- বাস্তবধর্মী উপস্থাপনা
তিনি অতিরিক্ত নাচ বা স্টাইলের বদলে অভিনয় ও অভিব্যক্তির মাধ্যমে গানকে জীবন্ত করে তোলেন।
কাজলের সঙ্গে সুপারহিট জুটি
Ajay Devgn এবং Kajol-এর জুটি বলিউডের অন্যতম সেরা জুটি।
তাঁদের জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- Ajnabi Mujhko Itna Bata
- Pyaar To Hona Hi Tha
- Jeeta Tha Jiske Liye
- Aankhon Ki Gustakhiyan
এই গানগুলো আজও দর্শকদের হৃদয়ে অমলিন।
তিন দশকের বেশি সময় ধরে Ajay Devgn বলিউডকে উপহার দিয়েছেন অসংখ্য স্মরণীয় গান।
রোম্যান্টিক ব্যালাড, দেশাত্মবোধক গান, কমেডি ট্র্যাক কিংবা আবেগঘন সুর—সব ধরনের গানেই তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।
আজও তাঁর পুরোনো গান শুনলে ৯০-এর দশকের সেই সোনালি সময়ের স্মৃতি ফিরে আসে।
Post Comment