Dharmendra
Dharmendra বলিউডের ‘হি-ম্যান’ ধর্মেন্দ্র দেওল: সংগ্রাম, প্রেম, সাফল্য আর কিংবদন্তি হয়ে ওঠার গল্প
ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এমন কিছু অভিনেতা আছেন, যাদের নাম উচ্চারণ করলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক স্বর্ণালী যুগ। সেই তালিকার একেবারে শীর্ষে রয়েছেন কিংবদন্তি অভিনেতা Dharmendra। বলিউডে তাঁকে বলা হতো “হি-ম্যান”। অ্যাকশন, রোম্যান্স, কমেডি কিংবা আবেগঘন চরিত্র—সব ধরনের অভিনয়েই তিনি নিজের অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রে রাজত্ব করেছেন।
ধর্মেন্দ্র শুধু একজন অভিনেতা নন; তিনি এক আবেগ, এক ইতিহাস। তাঁর সিনেমা, ব্যক্তিগত জীবন, প্রেম, সংগ্রাম এবং পরিবারের গল্প আজও কোটি মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। এই প্রতিবেদনটিতে আমরা বিস্তারিতভাবে জানব ধর্মেন্দ্র দেওলের জন্ম, শিক্ষা, অভিনয়ে আসার গল্প, পারিবারিক জীবন, বিখ্যাত সিনেমা এবং তাঁর অসাধারণ ক্যারিয়ারের নানা অজানা তথ্য।
জন্ম ও শৈশব
Dharmendra-এর পুরো নাম ছিল ধর্মেন্দ্র কেওয়াল কৃষাণ দেওল। তাঁর জন্ম ১৯৩৫ সালের ৮ ডিসেম্বর, ভারতের পাঞ্জাবের নসরালি গ্রামে। (Encyclopedia Britannica)
তাঁর বাবা কেওয়াল কৃষাণ ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক এবং মা সতওয়ন্ত কৌর ছিলেন গৃহিণী। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হওয়া ধর্মেন্দ্র ছোটবেলা থেকেই সিনেমার প্রতি ভীষণ আকৃষ্ট ছিলেন। গ্রামের মেলায় বা ছোটখাটো অনুষ্ঠানেও তিনি অভিনয় করতে ভালোবাসতেন।
শৈশবে তিনি ছিলেন খুবই শান্ত স্বভাবের। পড়াশোনার পাশাপাশি কুস্তি এবং খেলাধুলায়ও তাঁর আগ্রহ ছিল। পরবর্তীকালে তাঁর শক্তিশালী শরীর এবং ব্যক্তিত্বই তাঁকে “হি-ম্যান” উপাধি এনে দেয়।
শিক্ষা জীবন
ধর্মেন্দ্র পাঞ্জাবেই তাঁর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে তিনি ফাগওয়ারার রামগড়িয়া কলেজে পড়াশোনা করেন। (উইকিপিডিয়া)
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি নাটক এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন। যদিও তিনি খুব উচ্চশিক্ষিত ছিলেন না, কিন্তু তাঁর ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস এবং অভিনয়ের প্রতি আবেগ তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছিল।
কীভাবে অভিনয়ে এলেন ধর্মেন্দ্র?
ধর্মেন্দ্রর সিনেমায় আসার গল্প সত্যিই অনুপ্রেরণামূলক। তিনি ছোটবেলা থেকেই অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। সেই সময়ে বলিউডে সুযোগ পাওয়া খুব কঠিন ছিল। কিন্তু তিনি স্বপ্ন ছাড়েননি।
১৯৫৮ সালে জনপ্রিয় চলচ্চিত্র পত্রিকা ফিল্মফেয়ার একটি ট্যালেন্ট হান্ট প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। ধর্মেন্দ্র সেই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন এবং বিজয়ী হন। (Encyclopedia Britannica)
এই প্রতিযোগিতাই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। মুম্বইয়ের প্রযোজক ও পরিচালকরা তাঁর চেহারা, ব্যক্তিত্ব এবং আত্মবিশ্বাস দেখে মুগ্ধ হন। এরপর তিনি মুম্বই চলে আসেন এবং শুরু হয় তাঁর সংগ্রামের জীবন।
মুম্বইয়ে সংগ্রামের দিন
আজকের সুপারস্টার ধর্মেন্দ্রকে একসময় অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। মুম্বইয়ে এসে তিনি ছোট্ট একটি ঘরে থাকতেন। হাতে টাকা ছিল না। স্টুডিও থেকে স্টুডিও ঘুরে কাজ খুঁজতেন।
অনেক সময় তাঁকে প্রত্যাখ্যান করা হতো। কেউ কেউ বলতেন তিনি নাকি খুব সাধারণ দেখতে। কিন্তু ধর্মেন্দ্র বিশ্বাস করতেন, একদিন তিনি সফল হবেন।
সেই সময়ে তিনি বহু অডিশন দেন। অবশেষে পরিচালক অর্জুন হিঙ্গোরানি তাঁকে সুযোগ দেন।
প্রথম সিনেমা
ধর্মেন্দ্রর প্রথম সিনেমা ছিল Dil Bhi Tera Hum Bhi Tere (১৯৬০)। (Encyclopedia Britannica)
যদিও ছবিটি বক্স অফিসে বড় সাফল্য পায়নি, কিন্তু ধর্মেন্দ্রর অভিনয় নজর কেড়েছিল। এরপর ধীরে ধীরে তিনি বিভিন্ন ছবিতে কাজের সুযোগ পেতে থাকেন।
সাফল্যের শুরু
১৯৬০-এর দশকে ধর্মেন্দ্র একের পর এক জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করেন। Bandini, Anpadh, Haqeeqat, Ayee Milan Ki Bela—এসব ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করে। (Encyclopedia Britannica)
কিন্তু তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট ছিল Phool Aur Patthar (১৯৬৬)। এই ছবির পর তিনি রাতারাতি সুপারস্টার হয়ে যান।
বলিউডের “হি-ম্যান”
ধর্মেন্দ্রর শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব, অ্যাকশন দৃশ্য এবং পুরুষালী উপস্থিতির কারণে তাঁকে “হি-ম্যান অফ বলিউড” বলা হতো।
তিনি শুধু অ্যাকশন নয়, রোম্যান্টিক এবং কমেডি চরিত্রেও সমান দক্ষ ছিলেন। তাঁর হাসি, সংলাপ বলার স্টাইল এবং আবেগী অভিনয় দর্শকদের হৃদয় জয় করে নেয়।
‘শোলে’ এবং অমর হয়ে যাওয়া
বলিউডের ইতিহাসে Sholay একটি কিংবদন্তি সিনেমা। এই ছবিতে ধর্মেন্দ্র “বীরু” চরিত্রে অভিনয় করেন। Sholay
অমিতাভ বচ্চন, সঞ্জীব কুমার, হেমা মালিনী এবং অমজাদ খানের সঙ্গে তাঁর অভিনয় আজও দর্শকদের মনে গেঁথে আছে। বিশেষ করে পানির ট্যাঙ্কের ওপর উঠে আত্মহত্যার হুমকি দেওয়ার দৃশ্যটি ভারতীয় সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় দৃশ্য।
হেমা মালিনীর সঙ্গে প্রেম
ধর্মেন্দ্র এবং Hema Malini-র প্রেম বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত প্রেমকাহিনিগুলোর একটি।
তাঁরা বহু সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করেছেন। কাজ করতে করতেই তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যদিও সেই সময় ধর্মেন্দ্র ইতিমধ্যেই বিবাহিত ছিলেন।
১৯৮০ সালে ধর্মেন্দ্র হেমা মালিনীকে বিয়ে করেন। (Encyclopedia Britannica)
প্রথম স্ত্রী ও পরিবার
ধর্মেন্দ্রর প্রথম স্ত্রীর নাম প্রকাশ কৌর। তাঁদের চার সন্তান রয়েছে—সানি দেওল, ববি দেওল, অজিতা এবং বিজেতা। (Encyclopedia Britannica)
পরে হেমা মালিনীর সঙ্গে তাঁর দুই মেয়ে হয়—ঈশা দেওল এবং অহনা দেওল। (উইকিপিডিয়া)
আজ পুরো দেওল পরিবারই বলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী পরিবার।
সানি দেওল ও ববি দেওল
Sunny Deol এবং Bobby Deol—দুজনেই বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা। (উইকিপিডিয়া)
সানি দেওল তাঁর অ্যাকশন ছবির জন্য বিখ্যাত, আর ববি দেওল ৯০-এর দশকে রোম্যান্টিক নায়ক হিসেবে জনপ্রিয় হন।
ধর্মেন্দ্র সবসময় তাঁর সন্তানদের ক্যারিয়ারে সমর্থন করেছেন। তাঁদের পরিবারকে বলিউডে “দেওল পরিবার” নামে বিশেষভাবে সম্মান করা হয়।
কমেডিতে অসাধারণ ধর্মেন্দ্র
অনেকে ভাবেন ধর্মেন্দ্র শুধু অ্যাকশন হিরো ছিলেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি অসাধারণ কমেডিয়ানও ছিলেন।
Chupke Chupke ছবিতে তাঁর কমেডি টাইমিং দর্শকদের মুগ্ধ করে। অমিতাভ বচ্চন এবং জয়া ভাদুড়ীর সঙ্গে তাঁর অভিনয় আজও প্রশংসিত।
রাজনৈতিক জীবন
২০০৪ সালে ধর্মেন্দ্র ভারতীয় জনতা পার্টির হয়ে রাজনীতিতে যোগ দেন। তিনি রাজস্থানের বিকানের থেকে লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হন। (উইকিপিডিয়া)
যদিও রাজনীতিতে তিনি খুব বেশি সক্রিয় ছিলেন না, তবুও সাধারণ মানুষ তাঁকে ভালোবাসতেন।
পুরস্কার ও সম্মান
ধর্মেন্দ্র তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বহু পুরস্কার পেয়েছেন।
- পদ্মভূষণ (২০১২)
- পদ্মবিভূষণ (মরণোত্তর, ২০২৬) (Encyclopedia Britannica)
এছাড়াও অসংখ্য ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড এবং লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কার পেয়েছেন।
জনপ্রিয় সিনেমাগুলো
ধর্মেন্দ্র অভিনীত কিছু বিখ্যাত সিনেমা:
- Sholay
- Phool Aur Patthar
- Chupke Chupke
- Dharam Veer
- Seeta Aur Geeta
- Yaadon Ki Baaraat
- Jugnu
- Charas
- Bandini
- Haqeeqat
- Pratigya
- The Burning Train
ধর্মেন্দ্রর অভিনয়ের বিশেষত্ব
ধর্মেন্দ্রর অভিনয়ে ছিল এক ধরনের স্বাভাবিকতা। তিনি সংলাপ বলতেন খুব সহজভাবে। তাঁর চোখের অভিব্যক্তি ছিল অসাধারণ।
তিনি একদিকে যেমন অ্যাকশন দৃশ্যে দারুণ ছিলেন, অন্যদিকে আবেগঘন দৃশ্যে দর্শকদের কাঁদাতেন।
দর্শকদের কাছে কেন এত জনপ্রিয় ছিলেন?
ধর্মেন্দ্রর জনপ্রিয়তার মূল কারণ ছিল তাঁর সরলতা। সুপারস্টার হওয়ার পরও তিনি সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করতে ভালোবাসতেন।
ফার্মহাউসে সময় কাটানো, প্রকৃতির কাছে থাকা এবং পরিবারকে সময় দেওয়া ছিল তাঁর পছন্দের বিষয়।
নতুন প্রজন্মের কাছেও জনপ্রিয়
আজকের তরুণ প্রজন্মও ধর্মেন্দ্রকে ভালোবাসে। কারণ তাঁর সিনেমাগুলো এখনও টেলিভিশন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সমান জনপ্রিয়।
তাঁর সংলাপ, স্টাইল এবং অভিনয় এখনও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়।
ব্যক্তিগত জীবনের বিতর্ক
ধর্মেন্দ্রর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও অনেক আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে হেমা মালিনীকে বিয়ে করার ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সময় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। (Encyclopedia Britannica)
তবে এসবের মধ্যেও তিনি নিজের কাজ এবং পরিবারকে গুরুত্ব দিয়েছেন।
ধর্মেন্দ্র ও হেমা মালিনীর জুটি
বলিউডের সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটিগুলোর একটি ছিল ধর্মেন্দ্র-হেমা মালিনী জুটি।
তাঁদের রসায়ন দর্শকদের এতটাই মুগ্ধ করেছিল যে বাস্তব জীবনেও তাঁদের প্রেম নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
জীবনের শেষ সময়
ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়েও ধর্মেন্দ্র অভিনয় চালিয়ে গেছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন, সত্যিকারের শিল্পীর কোনো অবসর নেই।
২০২৫ সালে তাঁর মৃত্যুর খবর পুরো ভারতকে শোকাহত করে। (Reuters)
তাঁর মৃত্যুতে বলিউড এক জীবন্ত কিংবদন্তিকে হারায়।
ধর্মেন্দ্র সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য
১. তিনি সিনেমায় আসার আগে রেলওয়েতে কাজ করতেন।
২. তিনি দিলীপ কুমারের ভীষণ বড় ভক্ত ছিলেন।
৩. ফিল্মফেয়ার ট্যালেন্ট হান্ট জিতে তাঁর ভাগ্য বদলে যায়।
৪. তিনি ৩০০-র বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। (উইকিপিডিয়া)
৫. বাস্তব জীবনেও তিনি খুব আবেগপ্রবণ এবং পরিবারকেন্দ্রিক ছিলেন।
ধর্মেন্দ্রর উত্তরাধিকার
ধর্মেন্দ্র শুধু একজন অভিনেতা নন, তিনি ভারতীয় সিনেমার এক যুগ। তাঁর সিনেমা, সংলাপ এবং ব্যক্তিত্ব আগামী প্রজন্মকেও অনুপ্রাণিত করবে।
আজও যখন বলিউডের সেরা অভিনেতাদের নাম নেওয়া হয়, তখন ধর্মেন্দ্রর নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারণ করা হয়। তিনি দেখিয়েছেন, কঠোর পরিশ্রম এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে সাধারণ মানুষও কিংবদন্তি হতে পারে।
Dharmendra-র জীবন এক সিনেমার গল্পের মতো। পাঞ্জাবের ছোট্ট গ্রাম থেকে শুরু করে বলিউডের সুপারস্টার হয়ে ওঠা—এই যাত্রা ছিল সংগ্রাম, ভালোবাসা এবং পরিশ্রমে ভরা।
তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিত্ব এবং মানবিকতা তাঁকে কোটি মানুষের হৃদয়ে অমর করে রেখেছে। ভারতীয় সিনেমা যতদিন থাকবে, ধর্মেন্দ্র নামটিও ততদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।
ধর্মেন্দ্র দেওল: বছরভিত্তিক সিনেমা ও অমর গানগুলোর সম্পূর্ণ ইতিহাস
ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে যদি সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী অভিনেতাদের তালিকা তৈরি করা হয়, তাহলে Dharmendra-এর নাম থাকবে একেবারে সামনের সারিতে। বলিউডের “হি-ম্যান” নামে পরিচিত এই কিংবদন্তি অভিনেতা ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে দর্শকদের মন জয় করেছেন। অ্যাকশন, রোম্যান্স, কমেডি, পারিবারিক ড্রামা—সব ধরনের চরিত্রেই তিনি ছিলেন সমান দক্ষ।
ধর্মেন্দ্র শুধু সিনেমা দিয়েই নয়, অসংখ্য সুপারহিট গানের মাধ্যমেও ভারতীয় দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। তাঁর সিনেমার গানগুলো আজও রেডিও, টিভি এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সমান জনপ্রিয়। “Pal Pal Dil Ke Paas”, “Yeh Dosti”, “Aaj Mausam Bada Beimaan Hai”—এসব গান যেন ভারতীয় সঙ্গীত ইতিহাসের অমূল্য সম্পদ। (Filmfare)
এই বিশেষ ব্লগ পোস্টে তুলে ধরা হলো ধর্মেন্দ্রর বছরভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ সিনেমা এবং সেই সিনেমাগুলোর বিখ্যাত গান।
১৯৬০ – বলিউডে আত্মপ্রকাশ
১৯৬০ সালে ধর্মেন্দ্র প্রথমবারের মতো বড় পর্দায় আসেন Dil Bhi Tera Hum Bhi Tere সিনেমার মাধ্যমে। এই ছবিই ছিল তাঁর অভিনয় জীবনের সূচনা। (উইকিপিডিয়া)
গুরুত্বপূর্ণ সিনেমা
- Dil Bhi Tera Hum Bhi Tere
জনপ্রিয় গান
- “Mujhko Is Raat Ki Tanhai Mein”
যদিও ছবিটি বিশাল ব্যবসা করতে পারেনি, কিন্তু ধর্মেন্দ্রর ব্যক্তিত্ব দর্শকদের নজর কাড়ে।
১৯৬১ – ধীরে ধীরে পরিচিতি
এই সময়ে ধর্মেন্দ্র ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করে নিজের জায়গা শক্ত করতে শুরু করেন।
সিনেমা
- Boy Friend
- Shola Aur Shabnam
জনপ্রিয় গান
- “Jaane Kya Dhoondti Rehti Hai”
১৯৬২ – রোম্যান্টিক নায়ক হিসেবে উত্থান
১৯৬২ সালে Anpadh ছবিতে ধর্মেন্দ্রর অভিনয় প্রশংসিত হয়। এই ছবির গানগুলোও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। (Filmfare)
সিনেমা
- Anpadh
- Soorat Aur Seerat
জনপ্রিয় গান
- “Aap Ki Nazron Ne Samjha”
- “Hai Isi Mein Pyar Ki Aabroo”
১৯৬৩ – অভিনয়ের গভীরতা
সিনেমা
- Bandini
জনপ্রিয় গান
- “Mora Gora Ang Lai Le”
Bandini ছবিটি সমালোচকদের কাছেও প্রশংসা পায়।
১৯৬৪ – জনপ্রিয়তার বিস্তার
সিনেমা
- Ayee Milan Ki Bela
- Pooja Ke Phool
জনপ্রিয় গান
- “Tum Kamsin Ho”
- “O Sanam Tere Ho Gaye Hum”
১৯৬৫ – দেশপ্রেমিক চরিত্রে সফলতা
সিনেমা
- Haqeeqat
- Kaajal
জনপ্রিয় গান
- “Main Yeh Sochkar”
- “Chhoo Lene Do Nazuk Hothon Ko”
১৯৬৬ – সুপারস্টার ধর্মেন্দ্রর জন্ম
Phool Aur Patthar ছবির মাধ্যমে ধর্মেন্দ্র সত্যিকারের সুপারস্টার হয়ে ওঠেন। (The Times of India)
সিনেমা
- Phool Aur Patthar
- Mamta
জনপ্রিয় গান
- “Zindagi Mein Pyar Karna Seekh Le”
- “Rahen Na Rahen Hum”
১৯৬৭ – রোম্যান্টিক কিং
সিনেমা
- Majhli Didi
- Baharon Ki Manzil
জনপ্রিয় গান
- “Aaj Kal Tere Mere Pyar Ke Charche”
১৯৬৮ – সুর আর রোম্যান্স
সিনেমা
- Izzat
- Ankhen
জনপ্রিয় গান
- “Ye Dil Tum Bin Kahin Lagta Nahin”
- “Gairon Pe Karam”
(Filmfare)
১৯৬৯ – হিটের বন্যা
সিনেমা
- Aaya Sawan Jhoom Ke
- Satyakam
- Pyar Hi Pyar
জনপ্রিয় গান
- “Saathiya Nahin Jaana”
- “Main Kahin Kavi Na Ban Jaoon”
১৯৭০ – বলিউডের শীর্ষ নায়ক
সিনেমা
- Jeevan Mrityu
- Sharafat
- Mera Naam Joker
জনপ্রিয় গান
- “Jhilmil Sitaron Ka Aangan Hoga”
- “Sharafat Chhod Di Maine”
১৯৭১ – অ্যাকশন হিরোর উত্থান
সিনেমা
- Mera Gaon Mera Desh
- Naya Zamana
জনপ্রিয় গান
- “Aaya Aaya Atariya Pe”
- “Apni Prem Kahaniyan”
১৯৭২ – হেমা মালিনীর সঙ্গে জুটি
ধর্মেন্দ্র ও Hema Malini জুটি এই সময়ে বলিউড কাঁপায়।
সিনেমা
- Seeta Aur Geeta
- Raja Jani
- Samadhi
জনপ্রিয় গান
- “Hawa Ke Saath Saath”
- “O Mere Raja”
১৯৭৩ – ক্যারিয়ারের সেরা বছর
১৯৭৩ সালকে ধর্মেন্দ্রর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা বছর বলা হয়। (উইকিপিডিয়া)
সিনেমা
- Jugnu
- Yaadon Ki Baaraat
- Blackmail
- Loafer
- Kahani Kismat Ki
জনপ্রিয় গান
- “Pal Pal Dil Ke Paas”
- “Aaj Mausam Bada Beimaan Hai”
- “Chura Liya Hai Tumne”
- “Rafta Rafta Dekho”
(Filmfare)
১৯৭৪ – জনপ্রিয়তার চূড়ায়
সিনেমা
- Dost
- Patthar Aur Payal
জনপ্রিয় গান
- “Gaadi Bula Rahi Hai”
- “Mujhe Dard Rehta Hai”
১৯৭৫ – ইতিহাস সৃষ্টি
Sholay এবং Chupke Chupke—এই দুই ছবির মাধ্যমে ধর্মেন্দ্র ইতিহাস গড়েন। (Fandango)
সিনেমা
- Sholay
- Chupke Chupke
- Pratigya
জনপ্রিয় গান
- “Yeh Dosti Hum Nahin Todenge”
- “Koi Haseena Jab Rooth Jaati Hai”
- “Main Jat Yamla Pagla Deewana”
- “Ab Ke Sajan Saawan Mein”
(Filmfare)
১৯৭৬ – অ্যাকশন ও রোম্যান্স
সিনেমা
- Charas
- Maa
জনপ্রিয় গান
- “Kal Ki Haseen Mulaqat”
- “Aaja Teri Yaad Aayi”
১৯৭৭ – বক্স অফিস কিং
সিনেমা
- Dharam Veer
- Dream Girl
- Kinara
জনপ্রিয় গান
- “O Meri Mehbooba”
- “Dream Girl”
- “Kisi Shayar Ki Ghazal”
(Filmfare)
১৯৭৮ – আন্তর্জাতিক জনপ্রিয়তা
সিনেমা
- Shalimar
- Azaad
জনপ্রিয় গান
- “Hum Bewafa Hargiz Na The”
- “Dilruba Dilliwali”
১৯৭৯ – ধারাবাহিক সাফল্য
সিনেমা
- Kartavya
- The Burning Train
জনপ্রিয় গান
- “Pehli Nazar Mein”
- “Pal Do Pal Ka Saath”
১৯৮০-এর দশক – অভিজ্ঞ অভিনেতা
১৯৮০-এর দশকে ধর্মেন্দ্র একের পর এক অ্যাকশন ছবিতে অভিনয় করেন।
গুরুত্বপূর্ণ সিনেমা
- Hukumat
- Rajput
- Naukar Biwi Ka
- Ghulami
- Batwara
জনপ্রিয় গান
- “Tera Naam Liya”
- “Mere Dushman Tu Meri Dosti Ko Tarse”
১৯৯০-এর দশক – চরিত্রাভিনেতা হিসেবে নতুন অধ্যায়
সিনেমা
- Kshatriya
- Humlaa
- Mafia
জনপ্রিয় গান
- “Dil Hi Dil Mein”
- “Main Tera Hero”
২০০০-এর দশক – নতুন প্রজন্মের সঙ্গে
ধর্মেন্দ্র আবার নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।
সিনেমা
- Apne
- Johnny Gaddaar
- Life in a Metro
জনপ্রিয় গান
- “Apne To Apne Hote Hain”
২০১০-এর দশক – দেওল পরিবারের প্রত্যাবর্তন
সিনেমা
- Yamla Pagla Deewana
- Yamla Pagla Deewana 2
- Second Hand Husband
জনপ্রিয় গান
- “Yamla Pagla Deewana”
- “Tinku Jiya”
২০২০-এর দশক – শেষ অধ্যায়
সিনেমা
- Rocky Aur Rani Kii Prem Kahaani
- Teri Baaton Mein Aisa Uljha Jiya
- Ikkis
জনপ্রিয় গান
- “Heart Throb”
- “Kudmayi”
ধর্মেন্দ্রর সেরা ১৫টি অমর গান
১. Pal Pal Dil Ke Paas
২. Yeh Dosti Hum Nahin Todenge
৩. Aaj Mausam Bada Beimaan Hai
৪. Dream Girl
৫. Main Jat Yamla Pagla Deewana
৬. O Meri Mehbooba
৭. Hum Bewafa Hargiz Na The
৮. Jhilmil Sitaron Ka Aangan Hoga
৯. Rafta Rafta Dekho
১০. Ye Dil Tum Bin
১১. Saathiya Nahin Jaana
১২. Kisi Shayar Ki Ghazal
১৩. Koi Haseena Jab Rooth Jaati Hai
১৪. Gadi Bula Rahi Hai
১৫. Aap Ki Nazron Ne Samjha
(Filmfare)
ধর্মেন্দ্রর জনপ্রিয়তার রহস্য
ধর্মেন্দ্রর মধ্যে ছিল এক অদ্ভুত আকর্ষণ। তিনি ছিলেন একই সঙ্গে শক্তিশালী, রোম্যান্টিক এবং মজার মানুষ। তাঁর অভিনয়ে ছিল স্বাভাবিকতা।
আজও তাঁর গান শুনলে মানুষ নস্টালজিক হয়ে পড়ে। নতুন প্রজন্মও তাঁর সিনেমা দেখে অনুপ্রাণিত হয়। Reddit-এর অনেক ব্যবহারকারীও মনে করেন ধর্মেন্দ্রর মতো বহুমুখী অভিনেতা বলিউডে খুব কম এসেছে। (Reddit)
Dharmendra শুধু একজন অভিনেতা নন, তিনি ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসের একটি যুগ। তাঁর সিনেমা এবং গান ভারতীয় সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে।
১৯৬০-এর সাদা-কালো যুগ থেকে শুরু করে আধুনিক বলিউড পর্যন্ত তিনি নিজের জাদু ধরে রেখেছেন। তাঁর গান আজও প্রেম, বন্ধুত্ব এবং আবেগের প্রতীক হয়ে আছে।
যতদিন ভারতীয় সিনেমা থাকবে, ততদিন ধর্মেন্দ্রর সিনেমা ও গানও মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।

       ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এমন কিছু অভিনেতা আছেন, যাঁদের স্টাইল, নাচ এবং ব্যক্তিত্ব পুরো একটি প্রজন্মকে প্রভাবিত করেছে। সেই তালিকার অন্যতম উজ্জ্বল নাম Jeetendra Kapoor। বলিউডে তিনি পরিচিত ছিলেন “জাম্পিং জ্যাক” নামে। তাঁর দ্রুত নাচ, সাদা জুতো, রঙিন পোশাক এবং প্রাণবন্ত অভিনয় তাঁকে অন্য সবার থেকে আলাদা করে তুলেছিল। ১৯৬০-এর দশকে অভিনয় জীবন শুরু করে তিনি ৭০, ৮০ এবং ৯০-এর দশক পর্যন্ত বলিউডে একচ্ছত্র জনপ্রিয়তা বজায় রেখেছিলেন। তাঁর সিনেমা মানেই ছিল বিনোদনের পূর্ণ প্যাকেজ—রোম্যান্স, কমেডি, পারিবারিক আবেগ এবং দুর্দান্ত গান। এই বিশেষ ব্লগ পোস্টে তুলে ধরা হলো জিতেন্দ্র কাপুরের বছরভিত্তিক উল্লেখযোগ্য সিনেমা এবং সেই সিনেমাগুলোর জনপ্রিয় গানগুলোর বিস্তৃত তালিকা। ([উইকিপিডিয়া][1]) --- # ১৯৬০-এর দশক: স্বপ্নের শুরু জিতেন্দ্রর আসল নাম ছিল রবি কাপুর। তিনি ধীরে ধীরে ছোট চরিত্র থেকে নিজের জায়গা তৈরি করেন। এই সময়ে তাঁর অভিনয়ে সরলতা এবং তারুণ্যের ছাপ দর্শকদের মন জয় করতে শুরু করে। --- # ১৯৬৪ – প্রথম বড় সুযোগ ### সিনেমা * Geet Gaya Patharon Ne  

Post Comment