Vinod Khanna
বলিউডের রাজকীয় নায়ক বিনোদ খান্না: সংগ্রাম, সাফল্য, প্রেম, আধ্যাত্মিকতা ও জীবনের অজানা কাহিনি
ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এমন কিছু অভিনেতার নাম চিরকাল উজ্জ্বল হয়ে থাকবে যাঁরা শুধু অভিনয় নয়, ব্যক্তিত্ব, স্টাইল এবং জীবনদর্শনের জন্যও মানুষের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন। সেই তালিকার অন্যতম উজ্জ্বল নাম হল Vinod Khanna। তিনি ছিলেন এমন এক অভিনেতা যাঁর চোখের দৃষ্টি, সংলাপ বলার ধরণ এবং পর্দায় উপস্থিতি দর্শকদের মোহিত করত। ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে বলিউডে যখন একের পর এক সুপারস্টার জন্ম নিচ্ছে, তখন বিনোদ খান্না নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছিলেন।
তাঁর জীবনের গল্প শুধুমাত্র একজন সফল অভিনেতার গল্প নয়। এটি এক সাহসী মানুষের গল্প, যিনি খ্যাতির শিখরে থেকেও সবকিছু ছেড়ে আধ্যাত্মিকতার সন্ধানে চলে গিয়েছিলেন। আবার ফিরে এসে নতুনভাবে নিজের ক্যারিয়ার গড়েছিলেন। এই কারণেই তিনি অন্যদের থেকে আলাদা।
এই বিশেষ বাংলা বিনোদনধর্মী ব্লগে আমরা জানব তাঁর জন্ম, পরিবার, শিক্ষা, অভিনয়ে প্রবেশ, জনপ্রিয় সিনেমা, প্রেম, বিবাহ, রাজনৈতিক জীবন, আধ্যাত্মিক যাত্রা এবং জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত নানা অজানা তথ্য।
জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়
জন্ম তারিখ ও জন্মস্থান
Vinod Khanna-র জন্ম ৬ অক্টোবর ১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশোয়ারে। বর্তমানে এই শহর পাকিস্তানের অন্তর্গত। দেশভাগের আগে তাঁদের পরিবার সেখানে বসবাস করত। পরে দেশভাগের পর তাঁদের পরিবার ভারতে চলে আসে।
পরিবার
তাঁর বাবা কিশনচাঁদ খান্না ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। পরিবারটি আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ছিল। তাঁর মা কমলা খান্না ছিলেন শান্ত ও সংস্কৃতিমনা নারী। ছোটবেলা থেকেই পরিবারে শৃঙ্খলা এবং শিক্ষার পরিবেশ ছিল।
দেশভাগের পরে তাঁদের পরিবার মুম্বইয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। এই শহরই পরবর্তীকালে বিনোদ খান্নার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
শৈশব ও শিক্ষা জীবন
ছোটবেলায় বিনোদ খান্না খুব লাজুক স্বভাবের ছিলেন। স্কুলে পড়ার সময় তিনি জনসমক্ষে কথা বলতে সংকোচ বোধ করতেন। কিন্তু তাঁর ব্যক্তিত্বের মধ্যে একটি আলাদা আকর্ষণ ছিল যা শিক্ষকরা সহজেই বুঝতে পারতেন।
তিনি মুম্বইয়ের বিভিন্ন নামী স্কুলে পড়াশোনা করেন। পরে দিল্লি পাবলিক স্কুলেও কিছুদিন শিক্ষা লাভ করেন। এরপর তিনি মুম্বইয়ের সিডেনহ্যাম কলেজে বাণিজ্য বিভাগে ভর্তি হন।
অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ
স্কুলে একবার নাটকে অভিনয়ের সুযোগ পান। প্রথমদিকে তিনি রাজি হননি কারণ মঞ্চভীতি ছিল। কিন্তু তাঁর শিক্ষক জোর করে তাঁকে নাটকে অংশ নিতে বলেন। সেই নাটকই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
নাটকে অভিনয় করার পরে তিনি বুঝতে পারেন যে অভিনয়ের মধ্যে তাঁর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। কলেজ জীবনে এসে তিনি নিয়মিত সিনেমা দেখতে শুরু করেন। বিশেষ করে হলিউড অভিনেতাদের অভিনয় তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।
কীভাবে বলিউডে প্রবেশ
পরিবারের আপত্তি
অভিনয় জগতে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরে তাঁর পরিবার খুব একটা খুশি ছিল না। তাঁর বাবা চেয়েছিলেন ছেলে ব্যবসা সামলাক। কারণ সেই সময় অভিনয় পেশাকে অনেকেই অনিশ্চিত মনে করতেন।
তবে বিনোদ খান্না নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। তিনি বাবার কাছে সময় চান। বলা হয়, তাঁর বাবা তাঁকে দুই বছরের সময় দিয়েছিলেন সফল হওয়ার জন্য।
প্রথম সুযোগ
১৯৬৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত “মন কা মীত” ছবির মাধ্যমে তিনি বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন। মজার বিষয় হল, তিনি প্রথম ছবিতে নায়ক ছিলেন না; খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।
এই ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকদের নজর কেড়ে নেয়। সুদর্শন চেহারা, গভীর কণ্ঠস্বর এবং আত্মবিশ্বাসী অভিনয় তাঁকে দ্রুত পরিচিত করে তোলে।
খলনায়ক থেকে নায়ক
প্রথমদিকে তিনি বেশ কয়েকটি ছবিতে নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করেন। কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পরিচালকরা বুঝতে পারেন যে তিনি শুধু খলনায়ক নন, একজন পূর্ণাঙ্গ নায়ক হওয়ার যোগ্যতা রাখেন।
১৯৭১ সালে “হাম তুম অউর ওহ” ছবিতে তিনি নায়ক হিসেবে পরিচিতি পান। এরপর একের পর এক সফল সিনেমা তাঁকে বলিউডের প্রথম সারির অভিনেতায় পরিণত করে।
বলিউডে উত্থান
১৯৭০-এর দশকে তাঁর জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়তে থাকে। তিনি রোমান্টিক, অ্যাকশন এবং আবেগঘন চরিত্রে সমান দক্ষ ছিলেন।
জনপ্রিয় সিনেমা
আমার আকবর অ্যান্টনি
এই ছবিতে তিনি Amitabh Bachchan ও Rishi Kapoor-এর সঙ্গে অভিনয় করেন। তিন ভাইয়ের গল্পভিত্তিক এই সিনেমা ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় ছবি।
মুকাদ্দর কা সিকন্দর
এই ছবিতে তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের মুগ্ধ করে। অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে তাঁর রসায়ন ছিল অসাধারণ।
কুরবানি
Feroz Khan পরিচালিত এই সিনেমা বলিউডের অন্যতম স্টাইলিশ ছবি হিসেবে পরিচিত। ছবিতে বিনোদ খান্নার ব্যক্তিত্ব বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়।
হেরা ফেরি
এই ছবিতে তিনি আবারও অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে অভিনয় করেন। তাঁদের জুটি দর্শকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
দয়াবান
এই ছবিতে তাঁর অভিনয় এবং স্ক্রিন প্রেজেন্স ব্যাপক প্রশংসা পায়।
অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা
১৯৭০ ও ৮০-এর দশকে Amitabh Bachchan ছিলেন বলিউডের সবচেয়ে বড় সুপারস্টার। কিন্তু বিনোদ খান্না ছিলেন এমন কয়েকজন অভিনেতার মধ্যে একজন যিনি তাঁকে কঠিন প্রতিযোগিতা দিয়েছিলেন।
অনেক সমালোচক মনে করেন, যদি তিনি মাঝপথে অভিনয় থেকে বিরতি না নিতেন, তাহলে হয়তো তিনিই সেই সময়ের সবচেয়ে বড় তারকা হয়ে উঠতেন।
আধ্যাত্মিকতার পথে যাত্রা
ওশোর অনুসারী হওয়া
১৯৮২ সালে অভিনয়ের শিখরে থাকা অবস্থায় তিনি আচমকা বলিউড ছেড়ে দেন। তিনি আধ্যাত্মিক গুরু Osho-র অনুসারী হয়ে ওঠেন।
তিনি আমেরিকার ওরেগনে ওশোর আশ্রমে চলে যান। সেখানে তিনি সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করতেন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা থেকে শুরু করে নানা সাধারণ কাজও করতেন।
কেন তিনি সব ছেড়ে গিয়েছিলেন?
খ্যাতি, অর্থ এবং স্টারডম থাকা সত্ত্বেও তিনি মানসিক শান্তি খুঁজছিলেন। তিনি মনে করতেন জীবনের আসল অর্থ শুধু সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
এই সিদ্ধান্তে পুরো বলিউড অবাক হয়ে যায়। কারণ তখন তিনি ছিলেন অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা।
ব্যক্তিগত জীবন
প্রথম বিবাহ
তিনি গীতাঞ্জলিকে বিয়ে করেন। তাঁদের দুই ছেলে—Akshaye Khanna এবং Rahul Khanna।
কিন্তু আধ্যাত্মিক জীবনের কারণে তাঁদের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।
দ্বিতীয় বিবাহ
পরে তিনি কবিতা খান্নাকে বিয়ে করেন। দ্বিতীয় জীবনে তিনি পরিবারকে অনেক বেশি সময় দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
বলিউডে প্রত্যাবর্তন
কয়েক বছর পরে তিনি আবার বলিউডে ফিরে আসেন। তাঁর প্রত্যাবর্তন ছিল অত্যন্ত সফল।
অনেক অভিনেতা দীর্ঘ বিরতির পরে জনপ্রিয়তা হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু বিনোদ খান্না আবারও দর্শকদের হৃদয় জয় করতে সক্ষম হন।
তিনি “ইনসাফ”, “সত্যমেব জয়তে” সহ একাধিক জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করেন।
জনপ্রিয় গান
তাঁর সিনেমার গান আজও মানুষের মনে সমান জনপ্রিয়।
উল্লেখযোগ্য গান
- “আপ জ্যায়সা কোই”
- “লায়লা ও লায়লা”
- “হম তুমহে চাহতে হ্যায় অ্যায়সে”
- “জিন্দেগি ইমতিহান লেতি হ্যায়”
- “ক্যায়সে কাহে হাম”
এই গানগুলিতে তাঁর স্টাইল এবং ব্যক্তিত্ব দর্শকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছিল।
অভিনয়ের বিশেষত্ব
ব্যক্তিত্ব
বিনোদ খান্নার ব্যক্তিত্ব ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তাঁর লম্বা চেহারা, গভীর কণ্ঠস্বর এবং আত্মবিশ্বাস তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছিল।
স্বাভাবিক অভিনয়
তিনি কখনও অতিরিক্ত নাটকীয় অভিনয়ে বিশ্বাস করতেন না। তাঁর অভিনয়ে ছিল স্বাভাবিক আবেগ এবং বাস্তবতা।
রোমান্টিক ইমেজ
১৯৭০-এর দশকে তিনি বলিউডের অন্যতম রোমান্টিক নায়ক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
রাজনৈতিক জীবন
অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তিনি Bharatiya Janata Party-তে যোগ দেন এবং পাঞ্জাবের গুরদাসপুর কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী
তিনি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্কৃতি ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও কাজ করেন। পরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনীতিতেও তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল উল্লেখযোগ্য।
সন্তানদের চলচ্চিত্র জীবন
অক্ষয় খান্না
Akshaye Khanna বলিউডের অন্যতম প্রতিভাবান অভিনেতা হিসেবে পরিচিত। তাঁর অভিনয় সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে।
রাহুল খান্না
Rahul Khanna অভিনয় এবং টেলিভিশন সঞ্চালনার মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
জীবনের শেষ সময়
জীবনের শেষদিকে বিনোদ খান্না ক্যানসারে আক্রান্ত হন। যদিও প্রথমদিকে এই খবর গোপন রাখা হয়েছিল।
২০১৭ সালে তাঁর অসুস্থতার একটি ছবি ভাইরাল হয়। সেই ছবি দেখে গোটা দেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে।
মৃত্যু
২৭ এপ্রিল ২০১৭ সালে মুম্বইয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর।
তাঁর মৃত্যুতে বলিউডে শোকের ছায়া নেমে আসে। বহু অভিনেতা ও পরিচালক তাঁকে শ্রদ্ধা জানান।
বলিউডে তাঁর অবদান
বিনোদ খান্না শুধু একজন অভিনেতা ছিলেন না; তিনি ছিলেন বলিউডের স্টাইল আইকন।
তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে একজন অভিনেতা একই সঙ্গে সুদর্শন, শক্তিশালী অভিনয়শিল্পী এবং গভীর চিন্তাশীল মানুষ হতে পারেন।
কেন আজও জনপ্রিয়?
স্টাইল আইকন
তাঁর পোশাক, চুলের স্টাইল এবং ব্যক্তিত্ব সেই সময়ের যুবকদের অনুপ্রাণিত করত।
বহুমুখী অভিনেতা
তিনি অ্যাকশন, রোমান্স, আবেগঘন চরিত্র—সব ক্ষেত্রেই সফল ছিলেন।
বাস্তব জীবনের সাহস
খ্যাতির শিখরে থেকেও আধ্যাত্মিকতার জন্য সব ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে।
কিছু অজানা তথ্য
১. ছোটবেলায় তিনি খুব লাজুক ছিলেন।
২. তাঁর বাবা অভিনয়ের বিরোধিতা করেছিলেন।
৩. তিনি প্রথমে খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় করেন।
৪. ওশোর আশ্রমে সাধারণ কর্মীর মতো কাজ করতেন।
৫. তিনি রাজনীতিতেও সফল ছিলেন।
৬. তাঁর ছেলে অক্ষয় খান্না বলিউডের অন্যতম সম্মানিত অভিনেতা।
পুরস্কার ও সম্মান
ভারতীয় সিনেমায় অবদানের জন্য তিনি বহু সম্মান পেয়েছেন।
তিনি ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের জন্য একাধিকবার মনোনীত হন এবং লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট সম্মানও লাভ করেন।
দর্শকদের হৃদয়ে অমর
আজও টেলিভিশনে তাঁর সিনেমা প্রচারিত হলে দর্শকরা আগ্রহ নিয়ে দেখেন। তাঁর অভিনয়, গান এবং ব্যক্তিত্ব নতুন প্রজন্মকেও মুগ্ধ করে।
Vinod Khanna ছিলেন ভারতীয় সিনেমার এক অনন্য নক্ষত্র। তিনি শুধু একজন অভিনেতা নন, বরং সাহসী এবং আত্মবিশ্বাসী একজন মানুষ ছিলেন। খ্যাতির শিখরে থেকেও তিনি জীবনের অন্য অর্থ খুঁজতে পেরেছিলেন।
তাঁর সিনেমা, গান, সংলাপ এবং ব্যক্তিত্ব আজও কোটি মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছে। বলিউডের ইতিহাসে তাঁর নাম চিরকাল সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে।
বিনোদ খান্নার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এক নজরে
- পুরো নাম: বিনোদ খান্না
- জন্ম: ৬ অক্টোবর ১৯৪৬
- জন্মস্থান: পেশোয়ার, ব্রিটিশ ভারত
- মৃত্যু: ২৭ এপ্রিল ২০১৭
- পেশা: অভিনেতা, রাজনীতিবিদ
- প্রথম ছবি: “মন কা মীত”
- জনপ্রিয় ছবি: “কুরবানি”, “আমার আকবর অ্যান্টনি”, “হেরা ফেরি”, “মুকাদ্দর কা সিকন্দর”
- রাজনৈতিক দল: ভারতীয় জনতা পার্টি
- সন্তান: অক্ষয় খান্না ও রাহুল খান্না
Vinod Khanna : বছরভিত্তিক সিনেমা ও জনপ্রিয় গানের বাংলা ব্লগ
ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম স্টাইলিশ এবং সুদর্শন অভিনেতা ছিলেন Vinod Khanna। তিনি শুধু একজন অভিনেতা নন, বরং ১৯৭০ এবং ১৯৮০-এর দশকের বলিউডের ফ্যাশন ও ব্যক্তিত্বের প্রতীক ছিলেন। তাঁর অভিনীত সিনেমা এবং গান আজও দর্শকদের হৃদয়ে সমান জনপ্রিয়।
এই বিশেষ বাংলা ব্লগে থাকছে বছরভিত্তিক তাঁর উল্লেখযোগ্য সিনেমা, জনপ্রিয় গান, অভিনয় জীবন এবং চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারের স্মরণীয় মুহূর্ত।
জন্ম ও প্রাথমিক জীবন
- জন্ম: ৬ অক্টোবর ১৯৪৬
- জন্মস্থান: পেশোয়ার, ব্রিটিশ ভারত (বর্তমান পাকিস্তান)
- পিতা: কিশনচাঁদ খান্না
- মাতা: কমলা খান্না
- শিক্ষা: সিডেনহ্যাম কলেজ, মুম্বই
- পেশা: অভিনেতা, রাজনীতিবিদ
ছোটবেলায় তিনি খুব লাজুক ছিলেন। কিন্তু স্কুলের নাটকে অভিনয় করার পর তাঁর অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। পরে তিনি বলিউডে প্রবেশ করেন এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
১৯৬৮ – বলিউডে আত্মপ্রকাশ
সিনেমা
- Man Ka Meet
পরিচিতি
এই ছবিতে তিনি প্রথম অভিনয় করেন। মজার বিষয় হল, তিনি নায়ক নয়, খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।
জনপ্রিয় গান
- “Apni Ankhon Ko”
- “Tu Husn Hai Main Ishq Hoon”
১৯৬৯
সিনেমা
- Purab Aur Pachhim
- Sachaa Jhutha
উল্লেখযোগ্য দিক
এই সময় তিনি সহ-অভিনেতা এবং পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করে নিজের জায়গা তৈরি করছিলেন।
১৯৭০
সিনেমা
- Aan Milo Sajna
- Mastana
জনপ্রিয় গান
- “Achha To Hum Chalte Hain”
- “Koi Jab Tumhara Hriday Tod De”
এই সময় থেকেই তাঁর ব্যক্তিত্ব দর্শকদের নজর কাড়তে শুরু করে।
১৯৭১ – নায়ক হিসেবে জনপ্রিয়তা
সিনেমা
- Hum Tum Aur Woh
- Mere Apne
জনপ্রিয় গান
- “Haal Chaal Theek Thak Hai”
- “Koi Hota Jisko Apna”
এই সময় তিনি খলনায়ক থেকে পূর্ণাঙ্গ নায়কে পরিণত হন।
১৯৭২
সিনেমা
- Ek Hasina Do Diwane
- Parichay
জনপ্রিয় গান
- “Musafir Hoon Yaaron”
- “Beeti Na Bitai Raina”
১৯৭৩
সিনেমা
- Achanak
- Anokhi Ada
জনপ্রিয় গান
- “Suno Kaho Kaha Suna”
- “Humein Tumse Pyar Kitna”
“Achanak” ছবিতে তাঁর অভিনয় সমালোচকদের বিশেষ প্রশংসা পায়।
১৯৭৪
সিনেমা
- Imtihan
- Farebi
জনপ্রিয় গান
- “Ruk Jana Nahin”
- “Roz Shaam Aati Thi”
এই বছর তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময় ছিল।
১৯৭৫
সিনেমা
- Haath Ki Safai
- Zameer
জনপ্রিয় গান
- “Wada Karle Sajna”
- “Tum Bhi Chalo”
এই সময় তিনি অ্যাকশন হিরো হিসেবেও জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।
১৯৭৬
সিনেমা
- Hera Pheri
- Nehle Pe Dehla
জনপ্রিয় গান
- “Barson Purana Ye Yaarana”
- “Maine Tujhe Manga”
Amitabh Bachchan-এর সঙ্গে তাঁর জুটি দর্শকদের কাছে খুব জনপ্রিয় হয়।
১৯৭৭ – সোনালি সময়
সিনেমা
- Amar Akbar Anthony
- Khoon Pasina
- Parvarish
জনপ্রিয় গান
- “Parda Hai Parda”
- “Humko Tumse Ho Gaya Hai Pyar”
এই বছর তাঁকে বলিউডের সুপারস্টারদের তালিকায় স্থায়ী জায়গা এনে দেয়।
১৯৭৮
সিনেমা
- Muqaddar Ka Sikandar
- Main Tulsi Tere Aangan Ki
জনপ্রিয় গান
- “O Saathi Re”
- “Dil To Hai Dil”
এই ছবিগুলো বক্স অফিসে বিশাল সফল হয়।
১৯৭৯
সিনেমা
- The Burning Train
- Amar Deep
জনপ্রিয় গান
- “Pal Do Pal Ka Saath”
- “Meri Dooron Se Aayi Baraat”
১৯৮০ – কুরবানি যুগ
সিনেমা
- Qurbani
জনপ্রিয় গান
- “Laila O Laila”
- “Aap Jaisa Koi”
- “Hum Tumhe Chahte Hain Aise”
Feroz Khan পরিচালিত এই ছবি বলিউডের ইতিহাসে অন্যতম স্টাইলিশ সিনেমা হিসেবে পরিচিত।
১৯৮১
সিনেমা
- Kudrat
- Jail Yatra
জনপ্রিয় গান
- “Humein Tumse Pyar Kitna”
- “Chhodo Sanam”
১৯৮২ – আধ্যাত্মিকতার পথে
এই সময় তিনি অভিনয়ের শিখরে থেকেও বলিউড ছেড়ে আধ্যাত্মিক গুরু Osho-র আশ্রমে চলে যান।
এই সিদ্ধান্ত গোটা বলিউডকে অবাক করেছিল।
১৯৮৭ – বলিউডে প্রত্যাবর্তন
সিনেমা
- Insaaf
জনপ্রিয় গান
- “Dil Main Ho Tum”
দীর্ঘ বিরতির পরে তাঁর প্রত্যাবর্তন অত্যন্ত সফল হয়।
১৯৮৮
সিনেমা
- Satyamev Jayate
- Dayavan
জনপ্রিয় গান
- “Aaj Phir Tumpe”
- “Dil Tera Kisne Toda”
এই সময় তাঁর পরিণত অভিনয় দর্শকদের নতুনভাবে মুগ্ধ করে।
১৯৮৯
সিনেমা
- Chandni
জনপ্রিয় গান
- “Mere Haathon Mein”
- “Lagi Aaj Sawan Ki”
১৯৯০-এর দশক
উল্লেখযোগ্য সিনেমা
- Jurm
- CID
- Police Aur Mujrim
- Farishtay
জনপ্রিয় গান
- “Jab Koi Baat Bigad Jaye”
- “Kaun Ho Tum”
এই সময় তিনি চরিত্রাভিনেতা হিসেবেও সাফল্য পান।
২০০০-এর দশক
সিনেমা
- Deewaanapan
- Risk
- Wanted
বিশেষ দিক
এই সময় তিনি বাবা ও অভিজ্ঞ চরিত্রে অভিনয় করে নতুন প্রজন্মের কাছেও জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।
রাজনৈতিক জীবন
অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন।
তিনি Bharatiya Janata Party-তে যোগ দেন এবং পাঞ্জাবের গুরদাসপুর কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন।
তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
পরিবার
প্রথম স্ত্রী
গীতাঞ্জলি খান্না
সন্তান
- Akshaye Khanna
- Rahul Khanna
জীবনের শেষ সময়
২০১৭ সালে তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত হন।
২৭ এপ্রিল ২০১৭ সালে তিনি মুম্বইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তাঁর মৃত্যুতে গোটা বলিউড শোকাহত হয়ে পড়ে।
কেন আজও জনপ্রিয় বিনোদ খান্না?
১. ব্যক্তিত্ব
তাঁর স্টাইল এবং পর্দায় উপস্থিতি ছিল অসাধারণ।
২. অভিনয় দক্ষতা
রোমান্স, অ্যাকশন, আবেগ—সব ধরনের চরিত্রে তিনি সফল ছিলেন।
৩. গান
তাঁর সিনেমার গান আজও মানুষের মনে সমান জনপ্রিয়।
৪. সাহসী সিদ্ধান্ত
খ্যাতির শিখরে থেকেও আধ্যাত্মিকতার জন্য সব ছেড়ে যাওয়া তাঁকে অনন্য করেছে।
বিনোদ খান্নার সর্বাধিক জনপ্রিয় গান তালিকা
- “Laila O Laila”
- “Aap Jaisa Koi”
- “Hum Tumhe Chahte Hain Aise”
- “O Saathi Re”
- “Ruk Jana Nahin”
- “Parda Hai Parda”
- “Dil Main Ho Tum”
- “Aaj Phir Tumpe”
- “Mere Haathon Mein”
বলিউডে তাঁর অবদান
Vinod Khanna শুধু একজন অভিনেতা নন; তিনি ছিলেন ভারতীয় সিনেমার এক সোনালি যুগের প্রতীক।
তাঁর সিনেমা, গান, ব্যক্তিত্ব এবং জীবনদর্শন আজও দর্শকদের অনুপ্রাণিত করে।
বলিউডের ইতিহাসে অনেক তারকা এসেছেন এবং গিয়েছেন, কিন্তু বিনোদ খান্নার মতো ব্যক্তিত্ব খুব কম দেখা যায়। তিনি একদিকে যেমন সুপারস্টার ছিলেন, অন্যদিকে বাস্তব জীবনে ছিলেন গভীর চিন্তাশীল মানুষ।
আজও তাঁর সিনেমা টেলিভিশনে প্রচারিত হলে দর্শকরা আগ্রহ নিয়ে দেখেন। তাঁর গান বাজলে নস্টালজিয়া ফিরে আসে। ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসে তাঁর নাম চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।
       ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এমন কিছু অভিনেতা আছেন, যাঁদের স্টাইল, নাচ এবং ব্যক্তিত্ব পুরো একটি প্রজন্মকে প্রভাবিত করেছে। সেই তালিকার অন্যতম উজ্জ্বল নাম Jeetendra Kapoor। বলিউডে তিনি পরিচিত ছিলেন “জাম্পিং জ্যাক” নামে। তাঁর দ্রুত নাচ, সাদা জুতো, রঙিন পোশাক এবং প্রাণবন্ত অভিনয় তাঁকে অন্য সবার থেকে আলাদা করে তুলেছিল। ১৯৬০-এর দশকে অভিনয় জীবন শুরু করে তিনি ৭০, ৮০ এবং ৯০-এর দশক পর্যন্ত বলিউডে একচ্ছত্র জনপ্রিয়তা বজায় রেখেছিলেন। তাঁর সিনেমা মানেই ছিল বিনোদনের পূর্ণ প্যাকেজ—রোম্যান্স, কমেডি, পারিবারিক আবেগ এবং দুর্দান্ত গান। এই বিশেষ ব্লগ পোস্টে তুলে ধরা হলো জিতেন্দ্র কাপুরের বছরভিত্তিক উল্লেখযোগ্য সিনেমা এবং সেই সিনেমাগুলোর জনপ্রিয় গানগুলোর বিস্তৃত তালিকা। ([উইকিপিডিয়া][1]) --- # ১৯৬০-এর দশক: স্বপ্নের শুরু জিতেন্দ্রর আসল নাম ছিল রবি কাপুর। তিনি ধীরে ধীরে ছোট চরিত্র থেকে নিজের জায়গা তৈরি করেন। এই সময়ে তাঁর অভিনয়ে সরলতা এবং তারুণ্যের ছাপ দর্শকদের মন জয় করতে শুরু করে। --- # ১৯৬৪ – প্রথম বড় সুযোগ ### সিনেমা * Geet Gaya Patharon Ne  


Post Comment