novak djokovic
রোলাঁ গারোঁতে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যামের স্বপ্নে এগোচ্ছেন Novak Djokovic
ফরাসি ওপেনের মাটিতে আবারও নিজের অভিজ্ঞতা ও মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দিলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা টেনিস তারকা Novak Djokovic। ২০২৬ সালের Roland Garros-এর প্রথম রাউন্ডে তিনি কঠিন লড়াইয়ের পর ফরাসি তরুণ খেলোয়াড় Giovanni Mpetshi Perricard-কে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা করে নেন। ম্যাচের স্কোর ছিল ৫-৭, ৭-৫, ৬-১, ৬-৪।
প্যারিসের ক্লে কোর্টে এই ম্যাচ ছিল নাটকীয়তা, চাপ এবং প্রত্যাবর্তনের এক অনন্য উদাহরণ। প্রথম সেট হারার পর অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো এবার সমস্যায় পড়তে চলেছেন জকোভিচ। কিন্তু অভিজ্ঞ সার্বিয়ান তারকা আবারও দেখিয়ে দিলেন কেন তাঁকে আধুনিক টেনিসের অন্যতম সেরা বলা হয়।
৩৯ বছর বয়সেও তাঁর ফিটনেস, মানসিক দৃঢ়তা এবং কোর্টে কৌশলী পারফরম্যান্স ভক্তদের মুগ্ধ করেছে। ম্যাচ শেষে হাসতে হাসতে জকোভিচ বলেন, “তিন ঘণ্টার ম্যাচ, এই বয়সে ঠিক ডাক্তার যা চেয়েছিলেন!” তাঁর এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে।
প্রথম সেটে চাপে পড়েছিলেন জকোভিচ
ম্যাচের শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। ফরাসি তরুণ তারকা Giovanni Mpetshi Perricard নিজের শক্তিশালী সার্ভ ও আক্রমণাত্মক খেলায় শুরু থেকেই চাপ তৈরি করেন। দর্শকরাও নিজেদের দেশের খেলোয়াড়কে প্রবল সমর্থন দিচ্ছিলেন।
প্রথম সেটে বেশ কয়েকবার ব্রেক পয়েন্ট পেলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেননি জকোভিচ। উল্টো দিকে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দুর্দান্ত সার্ভ করে সেট জিতে নেন মপেতশি পেরিকার্ড।
এই সেটে জকোভিচকে কিছুটা ধীরগতির এবং ছন্দহীন মনে হচ্ছিল। অনেকেই তখন ভাবছিলেন, দীর্ঘদিন পর ক্লে কোর্টে ফিরে এসে হয়তো এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নন তিনি।
দ্বিতীয় সেট থেকেই ম্যাচের মোড় ঘোরে
প্রথম সেট হারলেও হাল ছাড়েননি জকোভিচ। দ্বিতীয় সেটে তিনি নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেন।
দীর্ঘ র্যালি, নিখুঁত রিটার্ন এবং কোর্ট কভারেজ দিয়ে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে দেন তিনি। একের পর এক ব্রেক পয়েন্ট মিস করলেও শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ব্রেক আদায় করে সেট জিতে নেন।
এই সেট জয়ের পর থেকেই যেন বদলে যায় পুরো ম্যাচের চিত্র। দর্শকরাও বুঝতে পারেন, অভিজ্ঞ চ্যাম্পিয়ন ধীরে ধীরে নিজের সেরা ছন্দে ফিরছেন।
তৃতীয় সেটে একচ্ছত্র আধিপত্য
তৃতীয় সেটে যেন সম্পূর্ণ অন্য এক জকোভিচকে দেখা যায়। তাঁর ফোরহ্যান্ড, ব্যাকহ্যান্ড এবং সার্ভ—সবকিছুই তখন দুর্দান্ত ছন্দে।
মাত্র একটি গেম হারিয়ে ৬-১ ব্যবধানে সেট জিতে নেন তিনি। তরুণ ফরাসি খেলোয়াড় তখন মানসিকভাবে কিছুটা ভেঙে পড়েন। জকোভিচের ধারাবাহিক আক্রমণ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় তাঁকে।
বিশেষ করে বেসলাইন থেকে জকোভিচের নিয়ন্ত্রণ ছিল অসাধারণ। দীর্ঘ র্যালিতে অভিজ্ঞতার পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
শেষ সেটে লড়াই, তবুও জয় জকোভিচের
চতুর্থ সেটে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন Giovanni Mpetshi Perricard। দর্শকদের সমর্থনে কয়েকটি দুর্দান্ত সার্ভিস গেম খেলেন তিনি।
তবে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অভিজ্ঞতার জোরে ম্যাচ নিজের দিকে টেনে নেন Novak Djokovic। শেষ পর্যন্ত ৬-৪ ব্যবধানে সেট জিতে ম্যাচ শেষ করেন তিনি।
ম্যাচ শেষে দর্শকদের অভিবাদন জানান জকোভিচ। প্রতিপক্ষকেও প্রশংসায় ভরিয়ে দেন তিনি।
প্রতিপক্ষকে নিয়ে জকোভিচের প্রশংসা
ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের সামনে জকোভিচ বলেন, তরুণ ফরাসি খেলোয়াড় ভবিষ্যতে বড় তারকা হওয়ার সম্ভাবনা রাখেন।
তাঁর মতে, “এই ধরনের সার্ভারদের বিরুদ্ধে খেলাটা সবসময় কঠিন। যদি ও নিজের খেলায় আরও ধারাবাহিকতা আনতে পারে, তাহলে ভবিষ্যৎ খুব উজ্জ্বল।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, মপেতশি পেরিকার্ডের শক্তিশালী সার্ভ এবং আগ্রাসী মানসিকতা আগামী দিনে তাঁকে বড় মঞ্চে সফল করতে পারে।
২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যামের স্বপ্ন
এই টুর্নামেন্টে জকোভিচের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হল তাঁর ক্যারিয়ারের ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জয়।
ইতিমধ্যেই পুরুষদের টেনিসে সর্বাধিক গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের রেকর্ড তাঁর দখলে। এবার সেই সংখ্যাকে আরও বাড়াতে মরিয়া তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ফিট থাকেন, তাহলে এখনও বিশ্বের যেকোনও খেলোয়াড়কে হারানোর ক্ষমতা রয়েছে তাঁর।
চোট ও ফিটনেস নিয়ে কী বললেন জকোভিচ?
গত কয়েক মাস ধরে ফিটনেস নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন উঠেছিল। ক্লে কোর্ট মৌসুমে খুব বেশি ম্যাচও খেলেননি তিনি।
তবে ম্যাচ শেষে জকোভিচ জানান, আপাতত শরীর ভালোই আছে। তিনি বলেন, “ধীরে ধীরে নিজের খেলাটা ফিরে পাচ্ছি। আশা করি টুর্নামেন্ট যত এগোবে, আমি আরও ভালো খেলতে পারব।”
এই মন্তব্যে স্বস্তি পেয়েছেন তাঁর ভক্তরা।
পরের রাউন্ডে নতুন চ্যালেঞ্জ
দ্বিতীয় রাউন্ডে জকোভিচের প্রতিপক্ষ হবেন আরেক ফরাসি খেলোয়াড় Valentin Royer।
দুজনের মধ্যে এটিই হবে প্রথম সাক্ষাৎ। ঘরের মাঠে ফরাসি খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে খেলতে সবসময়ই বাড়তি চাপ থাকে। তবুও অভিজ্ঞতার বিচারে এগিয়ে থাকবেন জকোভিচই।
রোলাঁ গারোঁতে জকোভিচের ইতিহাস
Roland Garros-এ এর আগেও বহু স্মরণীয় ম্যাচ খেলেছেন জকোভিচ। তিনি ইতিমধ্যেই তিনবার এই টুর্নামেন্ট জিতেছেন।
ক্লে কোর্টে Rafael Nadal-এর আধিপত্যের মাঝেও নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি। প্যারিসের কোর্টে তাঁর মানসিক দৃঢ়তা ও লড়াইয়ের ক্ষমতা বরাবরই প্রশংসিত।
টেনিসবিশ্বের নজর এখন জকোভিচের দিকে
২০২৬ সালের ফরাসি ওপেনে জকোভিচ কতদূর যেতে পারেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।
অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, যদি তিনি ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেন, তাহলে আবারও শিরোপার লড়াইয়ে অন্যতম দাবিদার হয়ে উঠবেন।
বিশ্ব টেনিসের নতুন প্রজন্ম উঠে এলেও এখনও বড় মঞ্চে জকোভিচের অভিজ্ঞতা এবং চাপ সামলানোর ক্ষমতা তাঁকে আলাদা করে দেয়।
প্রথম রাউন্ডের এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জয় নয়, বরং আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার বার্তাও দিল Novak Djokovic।
৩৯ বছর বয়সেও তাঁর লড়াইয়ের মানসিকতা এবং সাফল্যের ক্ষুধা একটুও কমেনি। ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যামের স্বপ্ন নিয়ে তিনি এগিয়ে চলেছেন নতুন ইতিহাস গড়ার পথে।
এখন দেখার, প্যারিসের লাল মাটিতে শেষ পর্যন্ত কতদূর যেতে পারেন এই কিংবদন্তি টেনিস তারকা।



Post Comment